Advertisement Banner

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল মালয়েশিয়া

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল মালয়েশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তিকে বাতিল করেছে মালয়েশিয়া। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তিকে বাতিল করেছে মালয়েশিয়া। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম স্ট্রেটনিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আমেরিকার সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়াতে প্রথম মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহারি আবদুল গনি গত রোববার সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর এ চুক্তি আর কার্যকর নেই। ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ)-এর অধীনে আরোপিত ট্যারিফগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে চুক্তির মূল ভিত্তি ভেঙে পড়ে।

চুক্তিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার অধীনে মালয়েশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে বাজার সুবিধা পেয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার রপ্তানির ওপর প্রাথমিক ৪৭ শতাংশ ট্যারিফ কমিয়ে পরে প্রায় ১৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্র সব আমদানির ওপর একক ১০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের দিকে যাওয়ায় চুক্তির বিশেষ সুবিধা আর অর্থবহ থাকেনি।

এ ঘোষণার পর অন্যান্য দেশগুলোও (যেমন ভারত, চীনসহ) অনুরূপ চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে কিছু সূত্রে বলা হয়েছে যে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা সংশোধনী এসেছে এবং ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে। এর আওতায় বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, গুয়াতেমালাসহ প্রায় ১৫টি দেশের সাথে বিশেষ এই বাণিজ্যিক চুক্তি বা সমঝোতা সম্পন্ন করেছে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশও। এতে দেশিয় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাহী আদেশ নম্বর ১৪২৫৭ বলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর বিভিন্ন হারে যুক্তরাষ্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (আরটি) আরোপ করে। এরপরই বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা মার্কিন কর্তৃপক্ষকে পত্র পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও আলাপ আলোচনার মধ্যমে উক্ত শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর অনুরোধ করে।

সম্পর্কিত