কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার অটোচালকের নাম সুমন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. লুৎফর রহমান জানান, নিহত স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটির চালক ছিলেন এই সুমন।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামের ওই স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে জগৎপুর উত্তরপাড়া মনুমুড়া জঙ্গলের পাশের একটি ধানখেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর পাশেই একটি সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়রা গাড়িটি দেখতে পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ক্ষেতের আইলে গামছা পেঁচানো অবস্থায় মেয়েটির লাশ দেখতে পায়।
নিহতের বাবা আবদুল আলিম জানান, গত ৪ অক্টোবর কুমিল্লার ভাড়া বাসা থেকে এক বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হয় তাজমিন। পরবর্তীতে সেই বন্ধুর সাথে কক্সবাজার ভ্রমণে যায় সে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে কুমিল্লায় ফেরার পর মেয়ের সাথে তার শেষ কথা হয়।
এরপর মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তিনি লোকেশন ট্রেস করে জানতে পারেন মেয়ে লালমাই এলাকায় অবস্থান করছে। পরবর্তীতে জগৎপুর এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধারের সংবাদ পান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।