বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়টির সর্বশেষ অবস্থান, গতিবেগ ও সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে এসব তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৩টায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থান করলেও এর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। একই সময়ে এটি কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল। ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ও গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সম্ভাব্য গতিপথ অনুসারে, ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতা আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শক্তিশালী বাতাসের কারণে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের আশপাশের সমুদ্র অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সমুদ্রের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।