বাবার স্বাধীনভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ছেলেরা। একই সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সরকারের কাছে প্রমাণ চেয়ে তারা অভিযোগ করেন, ইমরান খানকে আটক রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে কর্তৃপক্ষ। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন ছেলে সুলাইমান ইসা খান ও কাসিম খান।
সুলাইমান ইসা খান বলেন, সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডসের সদস্যদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
কাসিম খান বলেন, সরকার তার বাবাকে সুস্থ ঘোষণা করবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে সরকারি দাবির সত্যতা যাচাই এবং পরিবারের উদ্বেগ দূর করতে স্বাধীন চিকিৎসকদের দিয়ে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
গত ১৮ আগস্ট তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য দুই দিনের মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার রাতে ইমরান খানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়। এ সময় তাকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তার দল। দলটির দাবি, এটিও আদালতের নির্দেশের লঙ্ঘন।
পাকিস্তানে এখনো ব্যাপক জনপ্রিয় ইমরান খান। ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা বিভিন্ন মামলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। এসব বিক্ষোভে সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটে। ইমরান খানকে জোর করে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে এমন ধারণা জনগণের মধ্যে তৈরি হলে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।