চরচা প্রতিবেদক

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অস্থিরতা ও সহিংসতাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের কালচারাল কাউন্সিলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মাদি। তার দাবি, সাধারণ অর্থনৈতিক দাবির আড়ালে আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এই নাশকতা চালানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইরান কালচারাল সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সহিংসতার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
সহিংসতা ও হতাহতের পরিসংখ্যান
কাউন্সিলর মীর মোহাম্মাদি জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব ও উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় মোট তিন হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এই নিহতের সংখ্যার একটি বড় অংশই সরকারি বাহিনীর সদস্য ও সমর্থক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী: দুই হাজার ৪২৭ জন ‘শহীদ’-এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী এবং সাধারণ মানুষ যারা সরকারের পক্ষে ছিলেন। এছাড়া ব্যাংক, মসজিদ ও হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরীরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ৬৯০ জন সন্ত্রাসী ও বিক্ষোভকারী, যারা সরাসরি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
নাশকতার যে চিত্র দিল দূতাবাস
মীর মোহাম্মাদির দেওয়া তথ্যমতে ৩০৫টি অ্যাম্বুলেন্স ও বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে ৩৫০টি মসজিদে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করা হয়েছে। ৭০০টি মার্কেট বা দোকান এবং ৭৫টি ব্যাংক শাখায় হামলা করেছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া ৬০০টি এটিএম বুথ, ২৫০টি বাস স্টেশন এবং ৮০৯টি ধর্মীয় মাদ্রাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিদেশি ইন্ধন ও ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’
মীর মোহাম্মাদি এই আন্দোলনকে সাধারণ প্রতিবাদ হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, শুরুতে মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি নিয়ে তেহরানের বাজারে সাধারণ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুতই আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রশিক্ষিত গ্রুপগুলো এতে ঢুকে পড়ে। তার অভিযোগ, ইসরায়েল ও আমেরিকা সন্ত্রাসীদের অনেককে বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানে পাঠিয়েছে। তিনি বিষয়টিকে অর্থনৈতিক অবরোধ, মিডিয়া সাম্রাজ্যবাদ এবং সশন্ত্র নাশকতার সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
পশ্চিমা গণমাধ্যম এই আন্দোলনকে সরকার পতন হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি কাউন্সিলরের। তিনি জানান, ১২ জানুয়ারি ইরানজুড়ে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ (যার মধ্যে তেহরানেই ছিল ৩ মিলিয়ন) ইসলামি শাসন ব্যবস্থা ও রাহবারের (নেতা) সমর্থনে রাজপথে নেমে আসে। এই জনসমুদ্রের কারণেই নাশকতা দমন করা সম্ভব হয়েছে।
বাইরের নির্দেশদাতাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইরান সরকার সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ও স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল, যদিও অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক ইন্টারনেট সচল ছিল।
ব্রিফিংয়ের বাংলাদেশের সাথে ইরানের সুম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কাউন্সিলর মীর মোহাম্মাদি বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সাথে এই সুসম্পর্ক আরো এগিয়ে নেবে ইরান।

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অস্থিরতা ও সহিংসতাকে একটি সুপরিকল্পিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের কালচারাল কাউন্সিলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মাদি। তার দাবি, সাধারণ অর্থনৈতিক দাবির আড়ালে আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এই নাশকতা চালানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার ইরান কালচারাল সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সহিংসতার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
সহিংসতা ও হতাহতের পরিসংখ্যান
কাউন্সিলর মীর মোহাম্মাদি জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব ও উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় মোট তিন হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এই নিহতের সংখ্যার একটি বড় অংশই সরকারি বাহিনীর সদস্য ও সমর্থক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী: দুই হাজার ৪২৭ জন ‘শহীদ’-এর মধ্যে রয়েছেন পুলিশ, নিরাপত্তা কর্মী এবং সাধারণ মানুষ যারা সরকারের পক্ষে ছিলেন। এছাড়া ব্যাংক, মসজিদ ও হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রহরীরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। ৬৯০ জন সন্ত্রাসী ও বিক্ষোভকারী, যারা সরাসরি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
নাশকতার যে চিত্র দিল দূতাবাস
মীর মোহাম্মাদির দেওয়া তথ্যমতে ৩০৫টি অ্যাম্বুলেন্স ও বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে ৩৫০টি মসজিদে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করা হয়েছে। ৭০০টি মার্কেট বা দোকান এবং ৭৫টি ব্যাংক শাখায় হামলা করেছে বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া ৬০০টি এটিএম বুথ, ২৫০টি বাস স্টেশন এবং ৮০৯টি ধর্মীয় মাদ্রাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিদেশি ইন্ধন ও ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’
মীর মোহাম্মাদি এই আন্দোলনকে সাধারণ প্রতিবাদ হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেন, শুরুতে মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি নিয়ে তেহরানের বাজারে সাধারণ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুতই আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রশিক্ষিত গ্রুপগুলো এতে ঢুকে পড়ে। তার অভিযোগ, ইসরায়েল ও আমেরিকা সন্ত্রাসীদের অনেককে বিভিন্ন দেশ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানে পাঠিয়েছে। তিনি বিষয়টিকে অর্থনৈতিক অবরোধ, মিডিয়া সাম্রাজ্যবাদ এবং সশন্ত্র নাশকতার সমন্বয়ে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
পশ্চিমা গণমাধ্যম এই আন্দোলনকে সরকার পতন হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি কাউন্সিলরের। তিনি জানান, ১২ জানুয়ারি ইরানজুড়ে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মানুষ (যার মধ্যে তেহরানেই ছিল ৩ মিলিয়ন) ইসলামি শাসন ব্যবস্থা ও রাহবারের (নেতা) সমর্থনে রাজপথে নেমে আসে। এই জনসমুদ্রের কারণেই নাশকতা দমন করা সম্ভব হয়েছে।
বাইরের নির্দেশদাতাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ইরান সরকার সাময়িকভাবে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ও স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছিল, যদিও অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক ইন্টারনেট সচল ছিল।
ব্রিফিংয়ের বাংলাদেশের সাথে ইরানের সুম্পর্কের কথা উল্লেখ করে কাউন্সিলর মীর মোহাম্মাদি বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সাথে এই সুসম্পর্ক আরো এগিয়ে নেবে ইরান।