চরচা প্রতিবেদক

সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা নিছক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দায়িত্বে থাকা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রেস রিলিজে নিজের নম্বর দেওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার চরচাকে এসব কথা জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, যখন বোঝা গেছে, ভুল হয়েছে, তখন সাংবাদিক সোহেলকে বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) নামক একটি সংগঠনের সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে গিয়ে সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে তার বাসা থেকে তুলে আনা হয়। পরে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে, সাংবাদিককে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।”
ডিবি প্রধান বলেন, “এমবিসিবি নামের একটি সংগঠন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। সংগঠনটির উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের কাছে নেতিবাচক রিপোর্ট আছে, তা তদন্ত করতে এটির সঙ্গে জড়িতদের আমরা খুঁজছিলাম। এই সাংবাদিক সাহেব তার পেশাগত কাজের পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজও করেন এবং এই সংগঠনটির একটি প্রেস কনফারেন্সের আয়োজনও তিনিই করছিলেন। তার অংশ হিসেবে মিডিয়াকে দাওয়াত দিতে প্রেস রিলিজ তিনি নিজেই লেখেন এবং সভাপতির নামের পর নিজের নম্বর দিয়ে দেন। গোয়েন্দা টিম ওই নম্বরের সূত্র ধরে সংগঠনের সভাপতি মনে করে সাংবাদিক সাহেবকে নিয়ে আসে। আমরা যখন বুঝলাম ভুল ব্যক্তিকে আনা হয়েছে তখনই তাকে তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসা হয়েছে।”
এদিকে, আজ বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন হেড এবং অনলাইন এডিটর অ্যালায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক সোহেল দাবি করেন, “গত রাত ১২টার দিকে ডিবি প্রধান আমার সঙ্গে কথা বলবেন, এই অজুহাতে ৫/৬ জন ডিবি সদস্য জোর করে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ডিবিতে নিয়ে আসামীর খাতায় আমার নাম লেখা হয়। জুতা-বেল্ট খুলে রেখে গারদে আসামীদের সাথে আমাকে রাখা হয়। কিন্তু কেন আমাকে আটক করা হলো? তা আমি যেমন জানতাম না, তেমনি যারা আমাকে তুলে এনেছিলেন বা ডিবির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও কিছু বলতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পর বুঝতে পারলাম, সরকারের একজন উপদেষ্টার ইশারায় মাত্র ৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে মনোপলি ব্যবসা করার সুযোগ দেয়ার জন্যই আমাকে আটক করা হয়েছিল। আমার সাথে সংগঠনের সেক্রেটারি আবু সাঈদ পিয়াসকেও আটক করা হয়। তিনি এখনও ডিবি কার্যালয়ে আছেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা শফিকুল চরচাকে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে সাংবাদিককে তুলে আনার কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা যদি তার এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেতাম তাহলে তাকে অবশ্যই তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাবাদ করা হত। আর তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন প্রেস রিলিজে সভাপতির নামের পর তার নিজের নম্বর দেওয়া উচিত হয়নি। তিনি নাকি এআই দিয়ে প্রেস রিলিজটি লিখেছেন তাই এমন ভুল হয়েছে।”
শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বলতে চাই, আমাদের কাজ হল বেআইনি বা দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া। এই কাজের জন্য কারোর ইনফ্লুয়েন্স দরকার পড়ে না। আপনারা জানেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ মোবাইল বন্ধ করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নামের একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এটা হলে মোবাইল চুরি অনেক কমে যাবে, একজনের পরিচয় ব্যবহার করে আরেকজনের অপরাধ করার সুযোগ বন্ধ হবে এছাড়াও আরও অনেক সুবিধা আছে। এই সংগঠনটি সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আপনারাই বিবেচনা করুন তাদের উদ্দেশ্য কী? অবৈধ ফোন, চোরাই ফোনের বাজার উন্মুক্ত থাকলে কাদের লাভ হবে? দেশের স্বার্থ রক্ষায় আইন তার নিজের মত চলবে এটিকে বাধাগ্রস্থ করা সমীচিন নয়।”

সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা নিছক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দায়িত্বে থাকা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রেস রিলিজে নিজের নম্বর দেওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার চরচাকে এসব কথা জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, যখন বোঝা গেছে, ভুল হয়েছে, তখন সাংবাদিক সোহেলকে বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) নামক একটি সংগঠনের সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে গিয়ে সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে তার বাসা থেকে তুলে আনা হয়। পরে সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে, সাংবাদিককে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।”
ডিবি প্রধান বলেন, “এমবিসিবি নামের একটি সংগঠন সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। সংগঠনটির উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের কাছে নেতিবাচক রিপোর্ট আছে, তা তদন্ত করতে এটির সঙ্গে জড়িতদের আমরা খুঁজছিলাম। এই সাংবাদিক সাহেব তার পেশাগত কাজের পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজও করেন এবং এই সংগঠনটির একটি প্রেস কনফারেন্সের আয়োজনও তিনিই করছিলেন। তার অংশ হিসেবে মিডিয়াকে দাওয়াত দিতে প্রেস রিলিজ তিনি নিজেই লেখেন এবং সভাপতির নামের পর নিজের নম্বর দিয়ে দেন। গোয়েন্দা টিম ওই নম্বরের সূত্র ধরে সংগঠনের সভাপতি মনে করে সাংবাদিক সাহেবকে নিয়ে আসে। আমরা যখন বুঝলাম ভুল ব্যক্তিকে আনা হয়েছে তখনই তাকে তার বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসা হয়েছে।”
এদিকে, আজ বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন হেড এবং অনলাইন এডিটর অ্যালায়েন্সের সাধারণ সম্পাদক সোহেল দাবি করেন, “গত রাত ১২টার দিকে ডিবি প্রধান আমার সঙ্গে কথা বলবেন, এই অজুহাতে ৫/৬ জন ডিবি সদস্য জোর করে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। ডিবিতে নিয়ে আসামীর খাতায় আমার নাম লেখা হয়। জুতা-বেল্ট খুলে রেখে গারদে আসামীদের সাথে আমাকে রাখা হয়। কিন্তু কেন আমাকে আটক করা হলো? তা আমি যেমন জানতাম না, তেমনি যারা আমাকে তুলে এনেছিলেন বা ডিবির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও কিছু বলতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পর বুঝতে পারলাম, সরকারের একজন উপদেষ্টার ইশারায় মাত্র ৯ জন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে মনোপলি ব্যবসা করার সুযোগ দেয়ার জন্যই আমাকে আটক করা হয়েছিল। আমার সাথে সংগঠনের সেক্রেটারি আবু সাঈদ পিয়াসকেও আটক করা হয়। তিনি এখনও ডিবি কার্যালয়ে আছেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা শফিকুল চরচাকে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে সাংবাদিককে তুলে আনার কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা যদি তার এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেতাম তাহলে তাকে অবশ্যই তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাবাদ করা হত। আর তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন প্রেস রিলিজে সভাপতির নামের পর তার নিজের নম্বর দেওয়া উচিত হয়নি। তিনি নাকি এআই দিয়ে প্রেস রিলিজটি লিখেছেন তাই এমন ভুল হয়েছে।”
শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি বলতে চাই, আমাদের কাজ হল বেআইনি বা দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া। এই কাজের জন্য কারোর ইনফ্লুয়েন্স দরকার পড়ে না। আপনারা জানেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ মোবাইল বন্ধ করার লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নামের একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এটা হলে মোবাইল চুরি অনেক কমে যাবে, একজনের পরিচয় ব্যবহার করে আরেকজনের অপরাধ করার সুযোগ বন্ধ হবে এছাড়াও আরও অনেক সুবিধা আছে। এই সংগঠনটি সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আপনারাই বিবেচনা করুন তাদের উদ্দেশ্য কী? অবৈধ ফোন, চোরাই ফোনের বাজার উন্মুক্ত থাকলে কাদের লাভ হবে? দেশের স্বার্থ রক্ষায় আইন তার নিজের মত চলবে এটিকে বাধাগ্রস্থ করা সমীচিন নয়।”

প্রতারণার শিকার হয়ে একজন শাহজাহানপুর থানায় মামলা করলে সাইবার পুলিশ সেন্টারের ‘সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম’ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির সদস্য লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন কে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।