Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

‘অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া’ এনসিপি নির্বাচনে ব্যর্থ কেন

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩১
‘অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া’ এনসিপি নির্বাচনে ব্যর্থ কেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। এই জোটে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যেটি অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী কিছু শিক্ষার্থী দ্বারা গঠিত দল। তাদের রাজনৈতিক বয়ান সমর্থকদের মধ্যে শক্ত প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। অনেকে মনে করেছিলেন, তারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হলো বলা যায়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের একটি বিশ্লেষণমূলক ভিডিওতে এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আদর্শিক অবস্থান, ইতিহাসের বয়ান এবং বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট—এসব কারণই এনসিপির ব্যর্থতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আদর্শ: জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রভাব

এনসিপি শুরুতে নিজেদের একটি সংস্কারবাদী, তারুণ্যনির্ভর ও নাগরিকমুখী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে তাদের সক্রিয় ভূমিকা অনেক তরুণ ভোটারের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেয়। কিন্তু নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে দ্বিধা তৈরি করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডানপন্থী দল জামায়াতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা, পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান এবং আদর্শিক অবস্থান—সব মিলিয়ে দলটি একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এনসিপির মতো একটি নতুন, বহুমাত্রিক ও তরুণপ্রধান শক্তির সঙ্গে জামায়াতের জোট অনেক সম্ভাব্য মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী ভোটারকে দূরে সরিয়ে দেয়।

ভোটের আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করে এনসিপি। ফাইল ছবি
ভোটের আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করে এনসিপি। ফাইল ছবি

ডয়েচে ভেলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জোটের এই আদর্শিক সমীকরণ এনসিপির ‘বিকল্প’ পরিচয়কে দুর্বল করে। যারা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে একটি নতুন ধারা চেয়েছিলেন, তাদের কাছে জামায়াতের সঙ্গে জোট মানে পুরনো রাজনৈতিক মেরুকরণের ভেতরে ফিরে যাওয়া। এতে নতুন রাজনীতির যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আংশিকভাবে ভেঙে পড়ে।

এ কারণে ভোটের আগে দলটির অনেক নেতাও সরে যান। এদের একটি অংশ নারী। তারা দল থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট হওয়াকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চট্টগ্রামে যে কারণে বিএনপির জয়জয়কারballot box

ইতিহাসের বয়ান: মুক্তিযুদ্ধ বনাম জুলাই অভ্যুত্থান

এনসিপি ও তাদের মিত্ররা রাজনৈতিক বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানকে একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে তুলে ধরছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, তারা এই অভ্যুত্থানকে কখনও কখনও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনীয় ‘এক গণআন্দোলন’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু এই তুলনা সমাজের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় আদর্শের ভিত্তি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনের তুলনা করা সংবেদনশীল বিষয়। ডয়েলে ভেলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক ভোটার এই তুলনাকে অতিরঞ্জিত বা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেছেন।

এ ছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং ইতিহাস নিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণ দীর্ঘদিনের। এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ একটি শক্তি যখন জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সমতুল্য হিসেবে তুলে ধরে, তখন তা বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি করে। সমালোচকদের মতে, এতে ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা উপেক্ষিত হয়েছে এবং একটি অংশের ভোটার মানসিকভাবে দূরে সরে গেছে।

বিশ্বাসযোগ্যতা: দুর্নীতির অভিযোগ ও নৈতিক অবস্থান

এনসিপির অন্যতম শক্তি ছিল তাদের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান। তারা নিজেদেরকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নৈতিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে দলটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, যা তাদের ভাবমূর্তিতে আঘাত হানে।

ডয়চে ভেলের বিশ্লেষণ বলছে, নতুন রাজনৈতিক শক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে বড় সম্পদ। যখন কোনো দল পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন তাদের কাছ থেকে উচ্চতর নৈতিক মানদণ্ড প্রত্যাশা করা হয়। সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা দ্রুত আস্থাহীনতা তৈরি করে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

যদিও অভিযোগগুলোর সবগুলো প্রমাণিত হয়নি, তবু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এনসিপির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভোটারদের একাংশ মনে করেছেন, যারা পরিবর্তনের কথা বলে, তাদের নিজেদের ভেতরেই যদি স্বচ্ছতা না থাকে, তবে তারা কতটা ভিন্ন—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনটি কারণের পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা ছিল নির্বাচনী সংগঠন। বিএনপি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত সংগঠন, প্রার্থী নির্বাচন ও ভোট ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ। বিপরীতে, জামায়াত–নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে আদর্শিক ঐক্য ও সাংগঠনিক সমন্বয় পুরোপুরি সুসংহত ছিল না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নিজেদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলেছে এনসিপি। এ ছাড়া তরুণদের দল এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও শক্তিশালী করে। অথচ তারা বিকল্প ধারার রাজনীতির কথা বলে আসছে।

টাকা দিয়ে ভোট কেনা, রাতের ভোট–একই বৃত্তে বাংলাদেশ?vote 1

শিক্ষাবিদ এইচ এম নাজমুল আলম রয়টার্সকে বলছেন, ‘‘এনসিপি নিজেদের প্রথাগত রাজনৈতিক কাঠামোর বিপরীতে একটি তরুণ-নির্ভর বিকল্প রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। সেই পরিচয়টি এখন চরম সংকটের মুখে। তারুণ্য-নির্ভর আন্দোলনগুলো কেবল নির্বাচনে হারলেই ভেঙে পড়ে না। এগুলো তখনই ভেঙে পড়ে, যখন তারা স্বচ্ছতা এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্য হারিয়ে ফেলে।”

এনসিপি জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেও সেই আবেগকে সংগঠিত ভোটে রূপান্তর করা কঠিন ছিল। রাজনৈতিক আন্দোলন ও নির্বাচনী রাজনীতি এক জিনিস নয়—এমন বাস্তবতাও এই নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত–নেতৃত্বাধীন জোটের পরাজয় শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এটি রাজনৈতিক প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানের প্রতিফলন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হলে শুধু আন্দোলনের সাফল্য নয়, আদর্শিক স্পষ্টতা, ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতা এবং অটুট বিশ্বাসযোগ্যতাই হবে ভবিষ্যৎ পথচলার প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ নির্বাচনের ফল সেই বার্তাই দিয়েছে।

বিষয়: রাজনীতিবিদনির্বাচনএনসিপিভোটরাজনীতি
সর্বশেষ
  • ১

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

  • ২

    খুলনা বিভাগে হাম-ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু

  • ৩

    নির্বাচনের আগে যুদ্ধ থামবে না, তেলের দামও কমবে না: ট্রাম্প

  • ৪

    মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ

  • ৫

    সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশ্যে কোনো আইন করা হচ্ছে না: তথ্যমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।