চরচা ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক বা প্রাথমিক চুক্তিটিকে আমেরিকান জনগণের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, আমেরিকার সব শর্ত না মানলে ইরান কোনো সুবিধাই পাবে না।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটির সপক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে জেডি ভ্যান্সের বেশ কিছু দাবি স্পষ্টতই অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভ্যান্সের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও ইরান তেল বিক্রি থেকে ‘নতুন কোনো আর্থিক সুবিধা’ পাচ্ছে না। রপ্তানি কেবল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে। এই দাবিটি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।
যুদ্ধের আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ইরানকে বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে এবং লুকিয়ে-চুরিয়ে চীনের কাছে তেল বিক্রি করতে হতো। এখন চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন অবরোধ উঠে যাওয়ায় ইরান বিশ্ববাজারে চড়া দামে এবং আন্তর্জাতিক কারেন্সিতে তেল বিক্রি করতে পারবে। ফলে ইরান এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ দশমিক ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন রাজস্ব আয় করবে, যা তাদের জন্য বিরাট অর্থনৈতিক সুবিধা।
ভ্যান্সের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং তাদের মজুত ধ্বংস করতে সম্মত হয়েছে। এটি ওবামা আমলের চেয়েও শক্তিশালী চুক্তি।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ইরান কেবল তার পরমাণু বোমার কাছাকাছি মানের (৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ) ইউরেনিয়াম পাতলা করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু ওবামা আমলের চুক্তির মতো এই ইউরেনিয়াম দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কোনো শর্ত এবার রাখা হয়নি। তাছাড়া ইরান প্রকাশ্যে দাবি করছে যে, নিজেদের বেসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে, যা ভ্যান্সের দাবির বিপরীত।
ভ্যান্সের দাবি, ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হলেও সেখানে মার্কিন জনগণের এক সেন্টও দেওয়া হবে না। ইরান ভালো আচরণ করলেই কেবল এই সুবিধা পাবে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এতে ইরান অনেক বড় আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পাবে তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান তখনই এসব সুবিধা পাবে, যখন তারা চূড়ান্ত চুক্তির সব শর্ত পুরোপুরি মেনে চলবে এবং তাদের আচরণে পরিবর্তন আনবে।
কিন্তু সমঝোতা স্মারকের ভাষা অনুযায়ী, এটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ও আটকে থাকা অর্থ ছাড় করে দেবে। এ কারণেই সমালোচকেরা বলছেন, ইরান হয়তো আগেভাগেই বড় সুবিধা পেয়ে যাবে।
ভ্যান্সের দাবি, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস হয়েছে, তাই মিসাইল নিয়ে আপাতত চিন্তার কারণ নেই।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ ক্লাসিফাইড রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের পরও ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অক্ষত রয়েছে। এই চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বন্ধের কোনো উল্লেখই নেই, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
মিসাইল ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করেই এই চুক্তি করায় আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি ক্যাবিনেটের এই সমালোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে জেডি ভ্যান্স সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েলের পাশে আছেন। ইসরায়েলি সরকারের উচিত হবে না তাদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে এভাবে আক্রমণ করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেডি ভ্যান্স ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেকে যুদ্ধের বিরোধী এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে জাহির করতে চাইছেন। তবে চুক্তির ফাঁকফোকর ও অস্পষ্টতা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ থামানোর তাগিদে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অনেক বড় বড় ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে, যা ভ্যান্স তার বক্তব্যে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক বা প্রাথমিক চুক্তিটিকে আমেরিকান জনগণের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, আমেরিকার সব শর্ত না মানলে ইরান কোনো সুবিধাই পাবে না।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিটির সপক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে জেডি ভ্যান্সের বেশ কিছু দাবি স্পষ্টতই অস্পষ্ট, বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভ্যান্সের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও ইরান তেল বিক্রি থেকে ‘নতুন কোনো আর্থিক সুবিধা’ পাচ্ছে না। রপ্তানি কেবল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে। এই দাবিটি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।
যুদ্ধের আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে ইরানকে বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে এবং লুকিয়ে-চুরিয়ে চীনের কাছে তেল বিক্রি করতে হতো। এখন চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন অবরোধ উঠে যাওয়ায় ইরান বিশ্ববাজারে চড়া দামে এবং আন্তর্জাতিক কারেন্সিতে তেল বিক্রি করতে পারবে। ফলে ইরান এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ দশমিক ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন রাজস্ব আয় করবে, যা তাদের জন্য বিরাট অর্থনৈতিক সুবিধা।
ভ্যান্সের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং তাদের মজুত ধ্বংস করতে সম্মত হয়েছে। এটি ওবামা আমলের চেয়েও শক্তিশালী চুক্তি।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ইরান কেবল তার পরমাণু বোমার কাছাকাছি মানের (৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ) ইউরেনিয়াম পাতলা করতে রাজি হয়েছে। কিন্তু ওবামা আমলের চুক্তির মতো এই ইউরেনিয়াম দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কোনো শর্ত এবার রাখা হয়নি। তাছাড়া ইরান প্রকাশ্যে দাবি করছে যে, নিজেদের বেসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের রয়েছে, যা ভ্যান্সের দাবির বিপরীত।
ভ্যান্সের দাবি, ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হলেও সেখানে মার্কিন জনগণের এক সেন্টও দেওয়া হবে না। ইরান ভালো আচরণ করলেই কেবল এই সুবিধা পাবে।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এতে ইরান অনেক বড় আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পাবে তা স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান তখনই এসব সুবিধা পাবে, যখন তারা চূড়ান্ত চুক্তির সব শর্ত পুরোপুরি মেনে চলবে এবং তাদের আচরণে পরিবর্তন আনবে।
কিন্তু সমঝোতা স্মারকের ভাষা অনুযায়ী, এটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ও আটকে থাকা অর্থ ছাড় করে দেবে। এ কারণেই সমালোচকেরা বলছেন, ইরান হয়তো আগেভাগেই বড় সুবিধা পেয়ে যাবে।
ভ্যান্সের দাবি, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস হয়েছে, তাই মিসাইল নিয়ে আপাতত চিন্তার কারণ নেই।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ ক্লাসিফাইড রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের পরও ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অক্ষত রয়েছে। এই চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি বন্ধের কোনো উল্লেখই নেই, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।
মিসাইল ও পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করেই এই চুক্তি করায় আমেরিকার দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি ক্যাবিনেটের এই সমালোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে জেডি ভ্যান্স সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েলের পাশে আছেন। ইসরায়েলি সরকারের উচিত হবে না তাদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে এভাবে আক্রমণ করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেডি ভ্যান্স ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেকে যুদ্ধের বিরোধী এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে জাহির করতে চাইছেন। তবে চুক্তির ফাঁকফোকর ও অস্পষ্টতা প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ থামানোর তাগিদে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অনেক বড় বড় ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে, যা ভ্যান্স তার বক্তব্যে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, “সংসদ সদস্য (মিজানুর রহমান) বাজেট সেশনের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেও হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেন নাই।”