প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬- এ ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন করা’, ‘বুলিং’, ‘গুজব’ ও ‘অপতথ্য’ সংক্রান্ত অপরাধসমূহ এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত অপসারণ ও ব্লক করার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্লাস্ট।
আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রস্তাবিত এই আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানাচ্ছে ব্লাস্ট।
বিজ্ঞপ্তিতে ব্লাস্ট জানায়, গুরুতর অনলাইন সহিংসতার ভুক্তভোগী নারী, শিশুসহ অন্যদের অধিকতর সুরক্ষাকে ব্লাস্ট সমর্থন করে। তবে অনলাইন সহিংসতা থেকে জনসাধারণকে রক্ষার বিষয়টি কখনো বৈধ সমালোচনা, সাংবাদিকতা, ব্যঙ্গ, রাজনৈতিক বক্তব্য বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিতর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কারণ হতে পারে না।
ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে নিরাপদে প্রয়োগের জন্য এসব বিধান অত্যন্ত বিস্তৃত ও অনির্দিষ্ট। ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (আইসিটিএ), ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ (ডিএসএ) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (সিএসএ)-এর অধীনে যে গুরুতর সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি রয়েছে।
সিএসএ বাতিল করে ২০২৫ সালে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে সংসদে আইন হিসেবে পাস হয়ে সিপিএতে পরিণত হয়। গৃহীত সিপিএ প্রণয়নের পূর্বে আইসিটিএ, ডিএসএ এবং সিএসএ বহু সময় ধরে সমালোচিত হয়েছিল। এসব আইনের ব্যাপক পরিধি ও দমনমূলক বিধান এবং রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ ও ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরের বিরুদ্ধে মামলা ও নিপীড়নে এই আইনগুলোর ব্যবহার নিয়ে নাগরিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীকালে আনা পরিবর্তনগুলোর লক্ষ্য ছিল এসব উদ্বেগের সমাধান করা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা জোরদার করা। এমনকি আইনের প্রস্তাবনায়ও ঘোষিত উদ্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার খর্ব করার কারণে পূর্ববর্তী আইনটি রহিত করা হয়েছিল। সেই সাথে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদন, প্রাক্তন জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের বার্তা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রাসঙ্গিক সুপারিশেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছে।