যা হচ্ছে সবই আফটার শক, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: আবহাওয়া অধিদপ্তর

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
যা হচ্ছে সবই আফটার শক, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: আবহাওয়া অধিদপ্তর
প্রতীকী ছবি

ভূমিকম্প। ২১ নভেম্বর শুক্রবার সকালের পর থেকে দেশের মানুষের মনে আতঙ্ক হয়ে জুড়ে বসেছে শব্দটি। হবে নাই বা কেন? শুক্রবার সকালে নরসিংদী এলাকায় সৃষ্ট ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি দেশের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝাঁকুনি সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহতের খবর মেলে।

ঘটনার ১ দিন পরই আবার শনিবার সকালে নরসিংদীতে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এরপর সন্ধ্যায় ১ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি কম্পন হয়। একটি সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়, রিখটার স্কেলে যার কম্পন মাত্রা ধারন করা হয় ৩ দশমিক ৭। আবার ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ৪ দশমিক ৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়, যার উৎপত্তি সেই নরসিংদীতেই।

এমন ধারাবাহিক কম্পনের ফলে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। ছোট ছোট এমন কম্পন হলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, তাই কয়েকদিনের মাঝেই বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ৮ থেকে ৯ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে এমন তথ্য। এর বাইরেও বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন, এই ছোট ছোট ভূমিকম্প হলো ফোরশক, যা বড় ভূমিকম্পের নির্দেশক।

যদিও এগুলো শুধুমাত্র ধারণা। এই মতের স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই, ভূমিকম্প হলো সবচেয়ে অনঅনুমেয়যোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

তবুও কম্পনগুলোকে ফোরশক ধরে নিয়ে দেশের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বেশ। এমন অবস্থায় এতটা আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা বলছে, শুক্রবার সকালে নরসিংদীর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার কম্পনের পর এখন পর্যন্ত যে তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, তার সবই আফটার শক। তাই এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মনগড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। ইতিহাসের বিভিন্ন ভূমিকম্পের গতিপ্রকৃতি থেকে আমরা যা জানি, তা হলো ফোরশক হলে ধারাবাহিকভাবে কম্পনের মাত্রা বাড়বে। এই প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে অপেক্ষাকৃত কম থেকে শুরু করে বেশি শক্তি রিলিজ হয়। আবার বিপরীতভাবেও এটি হতে পারে, অর্থাৎ প্রথম বেশি শক্তি রিলিজ করে ফেলা। আপনারা যদি খেয়াল করেন, আমরা কিন্তু প্রথম ভূমিকম্পেই অনেক বেশি শক্তি রিলিজ হতে দেখেছি।’’

মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘ফলে ভূমিকম্প মাঝারি মানের হলেও ভূমিতে বড় ফাটল ধরেছে। এতে কিন্তু পরিষ্কার যে, সে ফাটল দিয়ে অনেক শক্তি বেরিয়েছে। আবার খেয়াল করে দেখুন, শকের নিয়ম হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে প্রথম শকের তুলনায় পরে সবগুলোতে কম্পন কম থাকবে, এখানে আমরা তাই দেখতে পাচ্ছি। তাই আমি নিশ্চিত এটি আফটার শক। ফোরশক হলে ধারাবাহিকভাবে কোম্পানির মাত্রা বাড়তেই থাকতো। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা কেউ আতঙ্কিত হবেন না, বরং ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হয়, তাতে মনোযোগ দিন, সকলে সচেতন থাকুন।’’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, ‘‘সামনের কোনো কম্পন ৫ দশমিক ৭ মাত্রা ছাড়িয়ে না গেলে সবই আফটার শক হিসেবেই কাউন্ট হবে। তাই এখন পর্যন্ত যে তিনটি কম্পন রেকর্ড হয়েছে, সেগুলো আফটার শক।’’

তবে নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে ভূমিতে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ভূগর্ভে জমা থাকা পুরো শক্তি বেরিয়ে এসেছে–তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন রুবাইয়াত কবির। তার মতে, কত মাত্রার ভূমিকম্প কেমন আচরণ করবে তা ধারণা করা কঠিন। তবে কম্পন মাত্রার ধরণ অনুযায়ী আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে যাচ্ছে, তেমনটা মনে করছেন না এই কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত