চরচা ডেস্ক

ভারতকে প্রতিবেশিদের সঙ্গে সীমান্তে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসছে। মাইকেল কুগেলম্যান ফরেন পলিসির অনলাইনে গত ১ অক্টোবর এক লেখায় এ কথা বলেছেন।
লাদাখের অস্থিরতা নয়াদিল্লির জন্য কী বার্তা বহন করছে–শিরোনামে ওই লেখায় মাইকেল কুগেলম্যান লিখেছেন, ‘ভারতকে হয়তো শিগগিরই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার আরও বড় একটি সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। যদিও একই সময়ে তাদের সীমান্তের বাইরেও অর্থাৎ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের কাছ থেকে আসা–চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’
ভারতের সাম্প্রতিক লাদাখ সংকট ঘিরে মাইকেল কুগেলম্যান লিখেছেন, ‘গত সপ্তাহে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা লাদাখে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাসদস্যসহ কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়। প্রশাসনকে সেখানে কারফিউ জারি করতে হয়। বিক্ষোভকারীরা লাদাখের জন্য পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছিল, যা তাদের আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেবে।’
‘২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন করে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে পুনর্গঠিত করা হয়। এর ফলে এটি সরাসরি নয়াদিল্লির শাসনের অধীনে আসে। শুরুতে এই অঞ্চলের মানুষজন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে, যা শেষ পর্যন্ত সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়।’
মাইকেল কুগেলম্যান প্রায় দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ফরেন পলিসি-তে দক্ষিণ এশিয়ার ঘটনাবলী সম্পর্কে নিজের বিশ্লেষণ লিখছেন। পাশাপাশি আরও অনেক পত্রপত্রিকায় তার কলাম নিয়মিত ছাপা হয়।
লাদাখের বিক্ষোভ শান্ত হলেও গত ২৬ সেপ্টেম্বর এই আন্দোলনের নেতা, কর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করে সোজা তাকে রাজস্থানের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি এবং বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে প্রতিবেশি পাকিস্তানের নামও রয়েছে।
মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, নয়াদিল্লির মোদি সরকার প্রায়ই সমালোচকদের ‘বিদেশি চর’ তকমা দিয়ে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। তবে সোনম ওয়াংচুক ও তার সমর্থকেরা বিদেশি যোগসূত্রের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আসলে ওয়াংচুক এর আগে ভারত সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। যার মধ্যে ২০১৯ সালে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্তটিও প্রাথমিকভাবে ছিল। তিনি এই অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি স্কুল তৈরি করেছেন, যা পুরস্কারও পেয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের পথিকৃৎ তিনি। তাকে নিয়ে ‘থ্রি ইডিয়েটস’ নামে বলিউডে একটি সিনেমাও হয়েছে। ওয়াংচুকের এই গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে বিশেষ করে যদি এর মেয়াদ বাড়ানো হয়, তবে স্থানীয়ভাবে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে।
লাদাখের এই বিক্ষোভকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক সরকার-বিরোধী আন্দোলনগুলোর সঙ্গে তুলনা করার একটা প্রবণতা থাকতে পারে। যেমন গত মাসে নেপালের সফল অভ্যুত্থান। গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদচ্যুত করার জনআন্দোলন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ক্ষমতাচ্যুত করা গণবিক্ষোভ (লাদাখ কর্তৃপক্ষের মতে, ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের অনুপ্রাণিত করতে নেপালের ঘটনাটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।)।

তবে গত সপ্তাহের এসব বিক্ষোভ কেবল লাদাখেই সীমাবদ্ধ ছিল। নয়াদিল্লি বা ভারতের অন্য কোথাও এর পাশাপাশি কোনো আন্দোলন দেখা যায়নি। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজ পদে বহাল আছেন। এই অর্থে, লাদাখে যদি বিক্ষোভ আবার মাথাচাড়া দিয়েও ওঠে, তবুও নয়াদিল্লির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
তা সত্ত্বেও, আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের পরেও মণিপুর এবং বর্তমানে লাদাখের মতো অশান্ত এলাকাগুলিতে অস্থিরতা থামাতে না পারার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। লাদাখে আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে এই অঞ্চলে পর্যটন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে বড় উদ্যোগ রয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এসব বিক্ষোভের ব্যাপারে নয়াদিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো নিরাপত্তা সংক্রান্ত। লাদাখের তিন দিক ঘিরে আছে চীন ও পাকিস্তান। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চীনের মধ্যে এক মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক বছর আগে ভারত ও চীন চুক্তি করে টহলদারি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে। এতে ওই অঞ্চলে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল। আর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন কমানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু চীনা প্ররোচনা একটি হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। তাই অভ্যন্তরীণ এই চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের পক্ষে বহন করা খুবই কঠিন।
তবে নয়াদিল্লি তার সীমান্তের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য যে পদক্ষেপগুলি নিচ্ছে, তাতে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চীনা পদক্ষেপের মোকাবিলা করতে ভারত সীমান্ত বরাবর অবকাঠামো উন্নত করছে। ওয়াংচুক ও অন্যান্য সমালোচকরা এই পদক্ষেপগুলোর পরিবেশগত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেছেন। যদি লাদাখে রাজ্যের মর্যাদার দাবি জোরালো হয়। তবে স্থানীয় মানুষজনও বড়, নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এগুলোর মাধ্যমে নয়াদিল্লির হাতে আসা ক্ষমতা নিয়ে আরও বেশি অস্বস্তি বোধ করতে পারে।
যদি লাদাখে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা স্বীকার করার মধ্যে একটি সাবধানী ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর ও আসাম পর্যন্ত অন্যান্য সীমান্ত এলাকাতেও ভারত এই একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে লাদাখকে যেটি এতদিন আলাদা করেছিল, তা হলো এর তুলনামূলক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু সেই লাদাখ এখন অনেক বেশি অস্থিতিশীল।

ভারতকে প্রতিবেশিদের সঙ্গে সীমান্তে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আসছে। মাইকেল কুগেলম্যান ফরেন পলিসির অনলাইনে গত ১ অক্টোবর এক লেখায় এ কথা বলেছেন।
লাদাখের অস্থিরতা নয়াদিল্লির জন্য কী বার্তা বহন করছে–শিরোনামে ওই লেখায় মাইকেল কুগেলম্যান লিখেছেন, ‘ভারতকে হয়তো শিগগিরই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার আরও বড় একটি সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। যদিও একই সময়ে তাদের সীমান্তের বাইরেও অর্থাৎ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের কাছ থেকে আসা–চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’
ভারতের সাম্প্রতিক লাদাখ সংকট ঘিরে মাইকেল কুগেলম্যান লিখেছেন, ‘গত সপ্তাহে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা লাদাখে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাসদস্যসহ কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়। প্রশাসনকে সেখানে কারফিউ জারি করতে হয়। বিক্ষোভকারীরা লাদাখের জন্য পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছিল, যা তাদের আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেবে।’
‘২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন করে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে পুনর্গঠিত করা হয়। এর ফলে এটি সরাসরি নয়াদিল্লির শাসনের অধীনে আসে। শুরুতে এই অঞ্চলের মানুষজন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছু বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে, যা শেষ পর্যন্ত সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়।’
মাইকেল কুগেলম্যান প্রায় দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ফরেন পলিসি-তে দক্ষিণ এশিয়ার ঘটনাবলী সম্পর্কে নিজের বিশ্লেষণ লিখছেন। পাশাপাশি আরও অনেক পত্রপত্রিকায় তার কলাম নিয়মিত ছাপা হয়।
লাদাখের বিক্ষোভ শান্ত হলেও গত ২৬ সেপ্টেম্বর এই আন্দোলনের নেতা, কর্মী ও পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার করে সোজা তাকে রাজস্থানের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি এবং বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে প্রতিবেশি পাকিস্তানের নামও রয়েছে।
মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, নয়াদিল্লির মোদি সরকার প্রায়ই সমালোচকদের ‘বিদেশি চর’ তকমা দিয়ে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। তবে সোনম ওয়াংচুক ও তার সমর্থকেরা বিদেশি যোগসূত্রের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আসলে ওয়াংচুক এর আগে ভারত সরকারের অনেক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। যার মধ্যে ২০১৯ সালে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্তটিও প্রাথমিকভাবে ছিল। তিনি এই অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি স্কুল তৈরি করেছেন, যা পুরস্কারও পেয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনের পথিকৃৎ তিনি। তাকে নিয়ে ‘থ্রি ইডিয়েটস’ নামে বলিউডে একটি সিনেমাও হয়েছে। ওয়াংচুকের এই গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে বিশেষ করে যদি এর মেয়াদ বাড়ানো হয়, তবে স্থানীয়ভাবে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে।
লাদাখের এই বিক্ষোভকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক সরকার-বিরোধী আন্দোলনগুলোর সঙ্গে তুলনা করার একটা প্রবণতা থাকতে পারে। যেমন গত মাসে নেপালের সফল অভ্যুত্থান। গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদচ্যুত করার জনআন্দোলন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ক্ষমতাচ্যুত করা গণবিক্ষোভ (লাদাখ কর্তৃপক্ষের মতে, ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের অনুপ্রাণিত করতে নেপালের ঘটনাটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।)।

তবে গত সপ্তাহের এসব বিক্ষোভ কেবল লাদাখেই সীমাবদ্ধ ছিল। নয়াদিল্লি বা ভারতের অন্য কোথাও এর পাশাপাশি কোনো আন্দোলন দেখা যায়নি। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজ পদে বহাল আছেন। এই অর্থে, লাদাখে যদি বিক্ষোভ আবার মাথাচাড়া দিয়েও ওঠে, তবুও নয়াদিল্লির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
তা সত্ত্বেও, আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের পরেও মণিপুর এবং বর্তমানে লাদাখের মতো অশান্ত এলাকাগুলিতে অস্থিরতা থামাতে না পারার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। লাদাখে আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে এই অঞ্চলে পর্যটন বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে বড় উদ্যোগ রয়েছে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এসব বিক্ষোভের ব্যাপারে নয়াদিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো নিরাপত্তা সংক্রান্ত। লাদাখের তিন দিক ঘিরে আছে চীন ও পাকিস্তান। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চীনের মধ্যে এক মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক বছর আগে ভারত ও চীন চুক্তি করে টহলদারি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করে। এতে ওই অঞ্চলে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল। আর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েন কমানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু চীনা প্ররোচনা একটি হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। তাই অভ্যন্তরীণ এই চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের পক্ষে বহন করা খুবই কঠিন।
তবে নয়াদিল্লি তার সীমান্তের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য যে পদক্ষেপগুলি নিচ্ছে, তাতে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চীনা পদক্ষেপের মোকাবিলা করতে ভারত সীমান্ত বরাবর অবকাঠামো উন্নত করছে। ওয়াংচুক ও অন্যান্য সমালোচকরা এই পদক্ষেপগুলোর পরিবেশগত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেছেন। যদি লাদাখে রাজ্যের মর্যাদার দাবি জোরালো হয়। তবে স্থানীয় মানুষজনও বড়, নিরাপত্তা প্রকল্প এবং এগুলোর মাধ্যমে নয়াদিল্লির হাতে আসা ক্ষমতা নিয়ে আরও বেশি অস্বস্তি বোধ করতে পারে।
যদি লাদাখে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা স্বীকার করার মধ্যে একটি সাবধানী ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে শুরু করে উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর ও আসাম পর্যন্ত অন্যান্য সীমান্ত এলাকাতেও ভারত এই একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে লাদাখকে যেটি এতদিন আলাদা করেছিল, তা হলো এর তুলনামূলক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। কিন্তু সেই লাদাখ এখন অনেক বেশি অস্থিতিশীল।