চরচা ডেস্ক

দীর্ঘকাল ধরে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি। ১৫ শতাব্দীতে জোহানেস গুটেনবার্গ প্রিন্টিং প্রেস উদ্ভাবনের পর তা কিছুদিনের মধ্যেই অশ্লীল প্যাম্পলেট ছাপানোর কাজে ব্যবহার করা শুরু হয়। ভিডিও ফরম্যাটেও এডাল্ট ফিল্ম আসে মূল হলিউড ফিল্মের আগে।
১৯৮০-এর দশকে ফ্রান্সে টেলিটেল (ইন্টারনেট সেবা) চালু হলে এর প্রাথমিক ট্রাফিকের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি এরোটিক সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই ঘটনা ঘটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্ষেত্রেও।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে বলা হয়, অতীতে প্রযুক্তি শুধু বিতরণের খরচ কমিয়েছে। এআই কিন্তু উৎপাদনকেই প্রায় বিনা মূল্যে বা বিনা আয়াসে করে দিচ্ছে। এখন একজন ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো উপাদান বাছাই করে সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিও বা ছবি পেতে পারেন। ফলে পর্ন স্টুডিওগুলোর ব্যবসার মডেল ভেঙে পড়ার মুখে। একটি পর্ন ফিল্ম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে যে, তাদের কপিরাইটকৃত ভিডিও দিয়ে এআই’কে শেখানো হচ্ছে। পর্ন তারকারাও এখন চুক্তিতে শর্ত যোগ করছেন যে, তাদের পুরোনো কাজ এআই ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করা যাবে না।
অনলাইন কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস অনলিফ্যানস আংশিক এআই কনটেন্ট চালালেও পুরোপুরি কৃত্রিম কনটেন্ট নিষিদ্ধ করেছে। তারা বলছে, আসল মানুষের কনটেন্টই শেষ পর্যন্ত টিকবে। অন্যদিকে কনটেন্ট শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যানভ্যু, ভাইলিটের নতুন প্ল্যাটফর্ম গর্বের সঙ্গে এআই কনটেন্ট হোস্ট করে। কে জিতবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু যারা ভুল বাজি ধরবে, তারা ডুবে যাবে।

ইকনোমিস্ট বলছে, বর্তমানে অনেক ব্যবসায় এআই ব্যবহার করতে দেরি হলেও, পর্ন সাইটগুলো ইতিমধ্যেই এআই-জেনারেটেড ভিডিও ও ইমেজে ছেয়ে গেছে। বড় এআই কোম্পানিগুলো এই শিল্পে প্রবেশ করছে। ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রোক “স্পাইসি” মোড অফার করছে। ওপেন এআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ডিসেম্বর থেকে যাচাই করা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এডাল্ট কনটেন্ট চালু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল কমার্স মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, এআই-চালিত এডাল্ট কনটেন্টের বাজার ২০২৫ সালে আড়াই বিলিয়ন ডলারের হবে। ২০২৮ পর্যন্ত প্রতি বছর ২৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে এই বাজার।
দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ পর্ন ইন্ডাস্ট্রির অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করছে। এই ইন্ডাস্ট্রির টিকে থাকা নিয়ে নানামাত্রিক শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি পর্ন ভিডিও তৈরি থেকে স্ট্রিমিংয়ের খরচ কমিয়েছে, কিন্তু এআইয়ের প্রসঙ্গ ভিন্ন। কারণ এটি ব্যবহারকারী পছন্দ অনুযায়ী পর্ন তৈরি করতে পারে। এটি টেক্সট ও অডিও কনটেন্টও হতে পারে।
এদিকে বড় পর্ন তারকারাও এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে। কারণ যে কেউ ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের মুখ ভিডিওতে বা তাদের কর্মকাণ্ড এআই ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করতে পারে। কিছু তারকা এটির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। এআই কোম্পানির সঙ্গে তারা চুক্তি করে অ্যাভাটার তৈরি করছে। এখান থেকেও ভালো আয় হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক্ষেত্রে এআই আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চ্যাটবট তাদের হাজার হাজার প্রাইভেট মেসেজের জবাব দিচ্ছে, ভিডিও এডিটিংয়ের সময় কমে গেছে। কিন্তু বড় তারকাদের জন্য এটি হুমকি হয়েই দেখা দিয়েছে।
আমেরিকার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কনটেন্ট বিষয়েক একটি অলাভজনক বাণিজ্য সমিতি ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালিসন বোডেন ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টকে বলেন, এআই তাদের ব্যবসা বাড়াতে দিচ্ছে পরিশ্রম ছাড়াই।
সব মিলিয়ে অন্যান্য খাতের মতো বৈশ্বিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতেও বদলের ঢেউ এনেছে এআই। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় যেমন হচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি করছে মারাত্মক ঝুঁকিও। সেই ঝুঁকির মুখে এই তথাকথিত ‘নিষিদ্ধ’ ইন্ডাস্ট্রি শেষে বিলুপ্তির পথে চলে যায় কিনা, সেটিই এখন দেখার।

দীর্ঘকাল ধরে নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে পর্ন ইন্ডাস্ট্রি। ১৫ শতাব্দীতে জোহানেস গুটেনবার্গ প্রিন্টিং প্রেস উদ্ভাবনের পর তা কিছুদিনের মধ্যেই অশ্লীল প্যাম্পলেট ছাপানোর কাজে ব্যবহার করা শুরু হয়। ভিডিও ফরম্যাটেও এডাল্ট ফিল্ম আসে মূল হলিউড ফিল্মের আগে।
১৯৮০-এর দশকে ফ্রান্সে টেলিটেল (ইন্টারনেট সেবা) চালু হলে এর প্রাথমিক ট্রাফিকের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি এরোটিক সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই ঘটনা ঘটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্ষেত্রেও।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে বলা হয়, অতীতে প্রযুক্তি শুধু বিতরণের খরচ কমিয়েছে। এআই কিন্তু উৎপাদনকেই প্রায় বিনা মূল্যে বা বিনা আয়াসে করে দিচ্ছে। এখন একজন ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো উপাদান বাছাই করে সেকেন্ডের মধ্যে ভিডিও বা ছবি পেতে পারেন। ফলে পর্ন স্টুডিওগুলোর ব্যবসার মডেল ভেঙে পড়ার মুখে। একটি পর্ন ফিল্ম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে যে, তাদের কপিরাইটকৃত ভিডিও দিয়ে এআই’কে শেখানো হচ্ছে। পর্ন তারকারাও এখন চুক্তিতে শর্ত যোগ করছেন যে, তাদের পুরোনো কাজ এআই ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করা যাবে না।
অনলাইন কনটেন্ট সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস অনলিফ্যানস আংশিক এআই কনটেন্ট চালালেও পুরোপুরি কৃত্রিম কনটেন্ট নিষিদ্ধ করেছে। তারা বলছে, আসল মানুষের কনটেন্টই শেষ পর্যন্ত টিকবে। অন্যদিকে কনটেন্ট শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যানভ্যু, ভাইলিটের নতুন প্ল্যাটফর্ম গর্বের সঙ্গে এআই কনটেন্ট হোস্ট করে। কে জিতবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু যারা ভুল বাজি ধরবে, তারা ডুবে যাবে।

ইকনোমিস্ট বলছে, বর্তমানে অনেক ব্যবসায় এআই ব্যবহার করতে দেরি হলেও, পর্ন সাইটগুলো ইতিমধ্যেই এআই-জেনারেটেড ভিডিও ও ইমেজে ছেয়ে গেছে। বড় এআই কোম্পানিগুলো এই শিল্পে প্রবেশ করছে। ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রোক “স্পাইসি” মোড অফার করছে। ওপেন এআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ডিসেম্বর থেকে যাচাই করা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এডাল্ট কনটেন্ট চালু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল কমার্স মিডিয়ার তথ্য অনুসারে, এআই-চালিত এডাল্ট কনটেন্টের বাজার ২০২৫ সালে আড়াই বিলিয়ন ডলারের হবে। ২০২৮ পর্যন্ত প্রতি বছর ২৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে এই বাজার।
দ্রুত এআই প্রযুক্তি গ্রহণ পর্ন ইন্ডাস্ট্রির অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করছে। এই ইন্ডাস্ট্রির টিকে থাকা নিয়ে নানামাত্রিক শঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এরই মধ্যে প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি পর্ন ভিডিও তৈরি থেকে স্ট্রিমিংয়ের খরচ কমিয়েছে, কিন্তু এআইয়ের প্রসঙ্গ ভিন্ন। কারণ এটি ব্যবহারকারী পছন্দ অনুযায়ী পর্ন তৈরি করতে পারে। এটি টেক্সট ও অডিও কনটেন্টও হতে পারে।
এদিকে বড় পর্ন তারকারাও এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে। কারণ যে কেউ ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের মুখ ভিডিওতে বা তাদের কর্মকাণ্ড এআই ট্রেনিংয়ে ব্যবহার করতে পারে। কিছু তারকা এটির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। এআই কোম্পানির সঙ্গে তারা চুক্তি করে অ্যাভাটার তৈরি করছে। এখান থেকেও ভালো আয় হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক্ষেত্রে এআই আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চ্যাটবট তাদের হাজার হাজার প্রাইভেট মেসেজের জবাব দিচ্ছে, ভিডিও এডিটিংয়ের সময় কমে গেছে। কিন্তু বড় তারকাদের জন্য এটি হুমকি হয়েই দেখা দিয়েছে।
আমেরিকার প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কনটেন্ট বিষয়েক একটি অলাভজনক বাণিজ্য সমিতি ফ্রি স্পিচ কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালিসন বোডেন ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টকে বলেন, এআই তাদের ব্যবসা বাড়াতে দিচ্ছে পরিশ্রম ছাড়াই।
সব মিলিয়ে অন্যান্য খাতের মতো বৈশ্বিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতেও বদলের ঢেউ এনেছে এআই। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় যেমন হচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি করছে মারাত্মক ঝুঁকিও। সেই ঝুঁকির মুখে এই তথাকথিত ‘নিষিদ্ধ’ ইন্ডাস্ট্রি শেষে বিলুপ্তির পথে চলে যায় কিনা, সেটিই এখন দেখার।