Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

নদী ভাঙনে কতটা বিপদে উত্তরবঙ্গের মানুষ

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ৫২
নদী ভাঙনে কতটা বিপদে উত্তরবঙ্গের মানুষ

নদী ভাঙন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম দুর্যোগ। এই দুর্যোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে উত্তরবঙ্গ। নদীভাঙনে এ অঞ্চলের মানুষ হারাচ্ছে ঘরবাড়ি, জমি, ফসল এমনকি গবাদিপশুও। একসময় লাখো মানুষের জীবনের অবলম্বন ছিল ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা। আর এ নদীগুলোই হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার প্রতীক।

Advertisement

কুড়িগ্রামের কৃষক নুরুন নবীর ঘরটি এক বছরের মধ্যে আবার ভাঙা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনের ভয়ে টিকতে না পেরে তাকে সরতে হচ্ছে নতুন ঠিকানায়। এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয়বারের মতো বসত সরাচ্ছেন চার সন্তানের পিতা নুরুন নবী।

৫০ বছর বয়সী নবীকে যেতে হচ্ছে আরেক চরে। সেই চরও আবার নদীর পলিতে তৈরি অস্থায়ী ভূমি। এরইমধ্যে তলিয়ে গেছে ধান ও মসুর ডালের ক্ষেত। নবী জানান, নদী ভাঙনে ঘর সরানো এক প্রকার তাদের পেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার এক জীবনে এই নিয়ে ৩১ বার ঘর টানলাম।”

প্রতিবছর কুড়িগ্রাম জেলার শত শত পরিবার নবীর মতো একই পরিস্থিতিতে পড়ে। উত্তরাঞ্চলের এসব বালুময় ও ভঙ্গুর চরগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। পরিবারগুলো একের পর এক ঘর তোলে, আর নদী কেড়ে নেয় তাদের সবকিছু।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

উজানে বসরবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী জহুরুল আলী অবশ্য কিছুটা ভাগ্যবান। মূল ভূখণ্ডে কিছুদিন পড়াশোনা করার সুযোগ হয়েছিল তার। পরে জলবায়ু কর্মী ও কয়েকটি দাতব্য সংস্থার সহায়তায় তিনি জিওব্যাগ ব্যবহার করে ভাঙনের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন।

পরিবারগুলো একের পর এক ঘর তোলে, আর নদী কেড়ে নেয় তাদের সবকিছু। ছবি: রয়টার্স
পরিবারগুলো একের পর এক ঘর তোলে, আর নদী কেড়ে নেয় তাদের সবকিছু। ছবি: রয়টার্স

গত তিন বছর ধরে তার চর টিকে আছে সেই প্রচেষ্টায়। নদী ভাঙনের দুরাবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “নদী ভাঙ্গা মানুষের যে কষ্ট, আসলে আমরা আমাদের বাপ-দাদার যে কবরটা দিয়েছি, সে জায়গাটাও কিন্তু আমাদের নেই এখন।”

জহুরুল ও তার প্রতিবেশীরা মিলে চরের শিশুদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও গড়ে তুলেছেন, যেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা পড়ান।

নদী ভাঙন নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে চরের অবস্থান ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল। এখন অনিয়মিত বৃষ্টি ও নদীর গভীরতার পরিবর্তনে সমস্যা বেড়েছে বহুগুণ।

পরিবেশ বিশ্লেষক ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “পুরো নদীজুড়ে চর গঠন ও ভাঙন কমছে না মূলত দুটি প্রধান কারণে।

প্রথমত, বিপুল পরিমাণ পলি জমা হচ্ছে নদীতে; দ্বিতীয়ত, নদীর তলদেশের ঢাল উজানের তুলনায় অত্যন্ত সমতল। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের নদীতীর ও নদীভাঙন প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলছে। কারণ নদী তীর ক্ষয় ও পলি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া মূলত পানির প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বা প্রবাহের ধরনে কোনো পরিবর্তন ঘটলে, সেটি সরাসরি নদী তীর ভাঙন ও পলি জমার গতিকে প্রভাবিত করে।”

তিনি আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ নগরায়ণ। যদি যমুনা নদীর উজান অংশে নগরায়ণ বৃদ্ধি পায়, তাহলে তার ফলে পলির পরিমাণ এবং পানির প্রবাহ উভয়ই বেড়ে যায়। এর ফলেই নদীর গতি ও চরভূমির ভাঙন-গঠনের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়।

আগে চরের অবস্থান ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল। এখন অনিয়মিত বৃষ্টি ও নদীর গভীরতার পরিবর্তনে সমস্যা বেড়েছে বহুগুণ। ছবি: রয়টার্স
আগে চরের অবস্থান ছিল তুলনামূলক স্থিতিশীল। এখন অনিয়মিত বৃষ্টি ও নদীর গভীরতার পরিবর্তনে সমস্যা বেড়েছে বহুগুণ। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় বাসিন্দারা এসব চরাঞ্চলের উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্বের দৃষ্টি যখন আজ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ ৩০ জলবায়ু সম্মেলনের দিকে, তখন বাংলাদেশের এই সংগ্রাম বিশ্বনেতাদের জন্য এক সতর্ক বার্তা।

বাঁধ নির্মাণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের উন্নতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজনমূলক উদ্যোগ নিয়ে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেজন্য বাংলাদেশকে টিকে থাকার থাকার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রায়ই তুলে ধরা হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার না হলে যে সেই সাফল্য স্থায়ী হবে না, সেই বাস্তবতাই যেন তুলে ধরছে উত্তরবঙ্গের চরবাসীর প্রতিদিনের জীবন।

বিষয়: নদীভাঙনজলবায়ু পরিবর্তননদীজলবায়ুকপ ৩০
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    নামে হিটলার-মুসোলিনি, আদর্শে বামপন্থী, জিতে গেছেন নির্বাচনে

  • ২

    জনশক্তি রপ্তানির গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢাকা-রিয়াদকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে হবে

  • ৩

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

  • ৪

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর ইন্টেনশন ঠিক নাই’

  • ৫

    ‘এনজিও সরকার ২ বছরের শাসনে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেল’

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি