ইয়াসিন আরাফাত

সৌদি আরবের বহুল প্রত্যাশিত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ কেনার প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোড়ন তুলেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সৌদি আরবের প্রস্তাবে প্রাথমিক ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চূড়ান্ত চুক্তি হলে, এটি শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয় বরং আঞ্চলিক কৌশল, অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও এক বড় পরিবর্তন আনবে।
এফ-৩৫ হলো লকহিড মার্টিন নির্মিত পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এর বিশেষত্ব হলো রাডার এড়ানো, দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব যদি এই যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে দেশটির বিমানবাহিনী আঞ্চলিকভাবে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
সৌদি আরব এখন প্রায় ৪৮টি এফ-৩৫ কেনার প্রক্রিয়ায় আছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হবে সৌদি বিমান বাহিনীর আধুনিক যুগে প্রবেশের টার্নিং পয়েন্ট।
গত ১৫ মে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়, যেকোনো এফ-৩৫ অধিগ্রহণ সৌদি আরবকে ইরানের গভীরে আঘাত হানার ক্ষমতা দেবে, যা বর্তমানে সম্ভবের চেয়ে অনেক বেশি।

এর অর্থ ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনা বা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের ওপর হুমকি বাড়বে। এতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিক্রিয়া, কিংবা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ইতিমধ্যেই এফ-৩৫ ব্যবহার করছে। এই সম্ভাব্য বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়তে পারে ইসরায়েলের। মার্কিন আইনে বলা আছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সবসময় প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিক্রয় একটি উল্লেখযোগ্য নীতি পরিবর্তন আনবে, যা ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার সংজ্ঞাকেই পরীক্ষা করবে।

অর্থাৎ, ওয়াশিংটনকে হয় ইসরায়েলকে আরও উন্নত অস্ত্র দিতে হবে, নয়ত অঞ্চলে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।
নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি সৌদি আরব ৪৮টি এফ-৩৫ পায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সৌদি এই স্টেলথ প্রযুক্তি পায়, তাহলে ইরান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বাড়াতে পারে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য নতুন করে আঁকা হবে।
এফ-৩৫ কেনা শুধু প্রতিরক্ষা নয় একটি অর্থনৈতিক কৌশলও। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য ক্রয়টি সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এজেন্ডার অধীনে অর্থনৈতিক ও সামরিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত।
গত মে মাস সৌদি আরবকে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রি করতে সম্মত হয় আমেরিকা। এটিকে হোয়াইট হাউস ওয়াশিংটনের করা বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বলে অভিহিত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে চীন বা রাশিয়ার ওপর সৌদির নির্ভরতা কমবে, কিন্তু একইসঙ্গে তেলের দামের ওঠানামার মধ্যে এমন ব্যয়বহুল প্রকল্প বাজেটে চাপ ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন পথ খুলে দিতে পারে। আমেরিকা ৪৮টি এফ-৩৫ বিবেচনা করছে, যা ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত করতে পারে।
এটি ‘অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যেখানে ইরানবিরোধী দেশগুলো একজোট হচ্ছে। তবে এই যুদ্ধবিমান কেনার প্রসঙ্গে মানবাধিকার ইস্যু ও ইয়েমেনে সৌদি অভিযান নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
পেন্টাগনের প্রাথমিক অনুমোদন মানেই চূড়ান্ত বিক্রি নয়। বিষয়টি এখনো মার্কিন কংগ্রেস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
লকহিড মার্টিন স্পষ্ট করেছে, এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক চুক্তি। এর বাস্তবায়নের সময় নির্ভর করবে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
অর্থাৎ, সৌদির এফ-৩৫ এখনো কাগজে রয়েছে, বাস্তবে নয়।
যদি সব অনুমোদন পেরিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে ইসরায়েলের পর সৌদি আরব হবে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ, যার হাতে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকবে। এতে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিজনেস ইনসাইডার, নিউজউইক, দ্য সাইফার ব্রিফ

সৌদি আরবের বহুল প্রত্যাশিত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ কেনার প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোড়ন তুলেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সৌদি আরবের প্রস্তাবে প্রাথমিক ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
চূড়ান্ত চুক্তি হলে, এটি শুধু সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয় বরং আঞ্চলিক কৌশল, অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও এক বড় পরিবর্তন আনবে।
এফ-৩৫ হলো লকহিড মার্টিন নির্মিত পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এর বিশেষত্ব হলো রাডার এড়ানো, দীর্ঘপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব যদি এই যুদ্ধবিমান পায়, তাহলে দেশটির বিমানবাহিনী আঞ্চলিকভাবে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
সৌদি আরব এখন প্রায় ৪৮টি এফ-৩৫ কেনার প্রক্রিয়ায় আছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হবে সৌদি বিমান বাহিনীর আধুনিক যুগে প্রবেশের টার্নিং পয়েন্ট।
গত ১৫ মে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়, যেকোনো এফ-৩৫ অধিগ্রহণ সৌদি আরবকে ইরানের গভীরে আঘাত হানার ক্ষমতা দেবে, যা বর্তমানে সম্ভবের চেয়ে অনেক বেশি।

এর অর্থ ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল স্থাপনা বা পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রের ওপর হুমকি বাড়বে। এতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিক্রিয়া, কিংবা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ইতিমধ্যেই এফ-৩৫ ব্যবহার করছে। এই সম্ভাব্য বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বাড়তে পারে ইসরায়েলের। মার্কিন আইনে বলা আছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সবসময় প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিক্রয় একটি উল্লেখযোগ্য নীতি পরিবর্তন আনবে, যা ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার সংজ্ঞাকেই পরীক্ষা করবে।

অর্থাৎ, ওয়াশিংটনকে হয় ইসরায়েলকে আরও উন্নত অস্ত্র দিতে হবে, নয়ত অঞ্চলে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।
নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি সৌদি আরব ৪৮টি এফ-৩৫ পায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সৌদি এই স্টেলথ প্রযুক্তি পায়, তাহলে ইরান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট আরও বাড়াতে পারে। ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য নতুন করে আঁকা হবে।
এফ-৩৫ কেনা শুধু প্রতিরক্ষা নয় একটি অর্থনৈতিক কৌশলও। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য ক্রয়টি সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এজেন্ডার অধীনে অর্থনৈতিক ও সামরিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত।
গত মে মাস সৌদি আরবকে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রি করতে সম্মত হয় আমেরিকা। এটিকে হোয়াইট হাউস ওয়াশিংটনের করা বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বলে অভিহিত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে চীন বা রাশিয়ার ওপর সৌদির নির্ভরতা কমবে, কিন্তু একইসঙ্গে তেলের দামের ওঠানামার মধ্যে এমন ব্যয়বহুল প্রকল্প বাজেটে চাপ ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন পথ খুলে দিতে পারে। আমেরিকা ৪৮টি এফ-৩৫ বিবেচনা করছে, যা ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও তরান্বিত করতে পারে।
এটি ‘অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যেখানে ইরানবিরোধী দেশগুলো একজোট হচ্ছে। তবে এই যুদ্ধবিমান কেনার প্রসঙ্গে মানবাধিকার ইস্যু ও ইয়েমেনে সৌদি অভিযান নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক উঠতে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
পেন্টাগনের প্রাথমিক অনুমোদন মানেই চূড়ান্ত বিক্রি নয়। বিষয়টি এখনো মার্কিন কংগ্রেস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
লকহিড মার্টিন স্পষ্ট করেছে, এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক চুক্তি। এর বাস্তবায়নের সময় নির্ভর করবে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।
অর্থাৎ, সৌদির এফ-৩৫ এখনো কাগজে রয়েছে, বাস্তবে নয়।
যদি সব অনুমোদন পেরিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে ইসরায়েলের পর সৌদি আরব হবে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ, যার হাতে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকবে। এতে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নাটকীয়ভাবে বাড়বে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিজনেস ইনসাইডার, নিউজউইক, দ্য সাইফার ব্রিফ