ইয়াসিন আরাফাত

উগান্ডার বুদোন্ডো গ্রামে রসায়নের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ১৮ বছর বয়সী এলি এনটন্ডে। গ্রামের রাস্তা কাঁচা, পানির সরবরাহ নেই, বিদ্যুৎ আসে-যায়। তবু ধাতু কীভাবে অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তা বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এসময় বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ শিক্ষকের ব্যাখ্যা নিলেন তিনি। দোকানে গিয়ে ১০০ এমবি ডেটা কিনে ফোনে লোড করলেন। কয়েক সেকেন্ডে চ্যাটজিপিটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিল।
চ্যাটজিপিটি চালুর তিন বছরেরও কম সময়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। এই সংখ্যা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-সপ্তমাংশ। অনেকেই উন্নয়নশীল দেশের তরুণ ও প্রযুক্তি-সচেতন জনগোষ্ঠী। আমেরিকার পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী ভারত ও ব্রাজিলে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মানব উন্নয়ন সূচক কম দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আত্মবিশ্বাস তুলনামূলক বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিডব্লিউআই-এর তথ্যানুসারে, ঘানা ও নাইজেরিয়ার মানুষ এআই ব্যবহারে সবচেয়ে আগ্রহী।
ওপেনএআই এবং পেন্ডা হেলথ যৌথভাবে কেনিয়ায় একটি টুল পরীক্ষা করেছে। ১৫টি ক্লিনিকে প্রায় ৪০ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এআই সহায়তা পাওয়া চিকিৎসকেরা নির্ণয়জনিত ভুল ১৬ শতাংশ এবং চিকিৎসাগত ভুল ১৩ শতাংশ কমিয়েছেন। আফ্রিকায় এআই রোগ নির্ণয় ও সেবা বিতরণে সাহায্য করে, যা দরিদ্রদের চিকিৎসা খরচ কমায় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। টোগোর উদাহরণেই দেওয়া যাক, এআই মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে গরীব পরিবারকে প্রতি দু'সপ্তাহে ১০ ডলার সাহায্য পাঠানো হয়েছে। যা করোনাভাইরাস মহামারিতে লাখ লাখ মানুষকে সাহায্য করেছে। ঘানায় ওয়াটারএইড এআই ব্যবহার করে দরিদ্রদের পানি ও স্যানিটেশন সেবা উন্নত করছে, যা দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে সাহায্য করে স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে।

নাইজেরিয়ায় মাইক্রোসফট কোপাইলট ব্যবহার করে ছয় সপ্তাহের প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে দুবার চ্যাটবটের সঙ্গে জ্ঞান আদান-প্রদান করেছে। ফলাফলে তাদের ইংরেজির নম্বর দুই বছরের অতিরিক্ত শিক্ষার সমপরিমাণ উন্নত হয়েছে।
একসময় মোবাইল ফোন দ্রুত ছড়িয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে অধিকাংশ আফ্রিকান দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে একটিরও কম ল্যান্ড টেলিফোন লাইন ছিল। তারবিহীন মোবাইল প্রযুক্তিতে সরাসরি যাওয়ায় দুই দশকে এটি আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে সস্তা স্মার্টফোন ও স্থানীয় ভাষাভিত্তিক মডেলের মাধ্যমে এআই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ জন্য তিনটি বড় বাধা দূর করতে হবে: সংযোগ, ব্যবহারকারীর সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
এআই-এর জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য। ২০২৪ সালে ধনী দেশে প্রতি দশ জনের ৯ জন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, দরিদ্র দেশে প্রতি চার জনে একজন। আফ্রিকার ৮৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্রডব্যান্ডের আওতায় থাকলেও ডেটার দাম নাগালের বাইরে।

তবে এআই ব্যবহার তুলনামূলক সস্তা। সাধারণ সার্চ পেজ এআইয়ের চেয়ে তিন হাজার গুণ বেশি ডেটা ব্যবহার করে। ২০২৪ সালে চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্ন করার খরচ সাধারণ সার্চের চেয়ে ৯০ শতাংশ কমে এসেছে।
কিন্তু এর জন্য ইন্টারনেট থাকা আবশ্যক। এসএমএসের মাধ্যমে এআই সেবা ব্যয়বহুল, কারণ মোবাইল অপারেটররা বাড়তি দাম নেয়। ডেটা সস্তা না হলে এবং সংযোগ না বাড়লে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এআই বিপ্লবের বাইরে থেকে যাবে।
আবার ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও অনেকে এআই কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে জানেন না। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ১০ বছর বয়সী ৭০ শতাংশ শিশু সহজ লেখা পড়তে পারে না। চ্যাটবট খোলা, প্রম্পট লেখা, উত্তর বোঝা তাদের জন্য কঠিন। সঠিক প্রশ্ন করাও এআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির নিকোলাস ওটিস ও তার সহকর্মীরা একটি গবেষণায় দেখেছেন, সফল কেনিয়ান উদ্যোক্তারা এআই ব্যবহার করে ১৫ শতাংশ বেশি লাভ করেছেন, কিন্তু দুর্বল উদ্যোক্তারা সাধারণ পরামর্শ মেনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বুদোন্ডোতে এনটন্ডে দেখেন, অর্ধেক তরুণের স্মার্টফোন আছে এবং তারা এআই নিয়ে পরীক্ষা করে, কিন্তু বেশিরভাগ পড়াশোনা বা কাজের চেয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে।
এছাড়া অধিকাংশ এআই মডেল ইংরেজি ও ধনী দেশের ভাষায় প্রশিক্ষিত। এতে অনেকে আফ্রিকান ভাষাই নেই। ফলে এআই-এর কথা ও ব্যবহারকারীর বোঝার মধ্যে বিশাল ফারাক।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এআই চালানোর ক্ষেত্রে আসল বাধা প্রযুক্তি নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। গবেষণা সংস্থা আবদুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের ইকবাল ধালিওয়াল বলেন, অতীতে অনেক ‘রূপকথার প্রযুক্তি’ ব্যর্থ হয়েছে কারণ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ছিল না।
অনলাইন কোর্সগুলো শিক্ষা বিপ্লব আনবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু দরিদ্র দেশে শিক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি। কারণ এটির সঙ্গে স্কুলব্যবস্থার মিল ছিল না। শিক্ষক বা পরীক্ষার কাঠামো ছাড়া কেবল কনটেন্ট দিত। এআইয়ের ক্ষেত্রেও এই অবস্থা হতে পারে
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির তাহা বারওয়াহওয়ালা ও সহকর্মীরা ভারতের এক রাজ্যে ভুয়া কোম্পানি শনাক্তকারী এআই মডেল নিয়ে গবেষণা করেন। অ্যালগরিদম হাজার হাজার ভুয়া প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করলেও, কর্মকর্তাদের অনীহায় প্রয়োগ ব্যর্থ হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-এর সাফল্য নির্ভর করবে ব্যক্তিগত সেবা নয়, সমগ্র অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে কি না তার ওপর।
লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকসের ল্যান্ট প্রিচেট বলেন, কোনো দেশ আগে ধনী না হয়ে ব্যাপক শিক্ষা বা স্বাস্থ্য উন্নয়ন অর্জন করেনি। দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নতির জন্য বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দরকার।
প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা তখনই বাড়ে যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামো ও কর্মপ্রণালী নতুনভাবে সাজায়। কারখানায় গ্যাসল্যাম্পের বদলে বৈদ্যুতিক বাতি বসানোর পর পরিবর্তন আসেনি। পুরো উৎপাদনপ্রণালী বিদ্যুৎকেন্দ্রিক পুনর্গঠিত হওয়ার পরই উৎপাদন বেড়েছে।
আমেরিকার ডার্টমাউথ কলেজের দিয়েগো কোমিন ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্টি মেস্টিয়েরি ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় দেখেছেন, পিসি ও ইন্টারনেট দরিদ্র দেশে দ্রুত পৌঁছেছে, কিন্তু ব্যবহার গভীরভাবে হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই এ ক্ষেত্রে আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। ধনী দেশেও চ্যালেঞ্জ এটি। আমেরিকায় প্রতি দশটি প্রতিষ্ঠানের একটিতে এআই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পথ আরও কঠিন।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিস্ট, ন্যাচার, ফোর্বস

উগান্ডার বুদোন্ডো গ্রামে রসায়নের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ১৮ বছর বয়সী এলি এনটন্ডে। গ্রামের রাস্তা কাঁচা, পানির সরবরাহ নেই, বিদ্যুৎ আসে-যায়। তবু ধাতু কীভাবে অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তা বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। এসময় বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ শিক্ষকের ব্যাখ্যা নিলেন তিনি। দোকানে গিয়ে ১০০ এমবি ডেটা কিনে ফোনে লোড করলেন। কয়েক সেকেন্ডে চ্যাটজিপিটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিল।
চ্যাটজিপিটি চালুর তিন বছরেরও কম সময়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮০ কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। এই সংখ্যা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-সপ্তমাংশ। অনেকেই উন্নয়নশীল দেশের তরুণ ও প্রযুক্তি-সচেতন জনগোষ্ঠী। আমেরিকার পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী ভারত ও ব্রাজিলে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মানব উন্নয়ন সূচক কম দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আত্মবিশ্বাস তুলনামূলক বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিডব্লিউআই-এর তথ্যানুসারে, ঘানা ও নাইজেরিয়ার মানুষ এআই ব্যবহারে সবচেয়ে আগ্রহী।
ওপেনএআই এবং পেন্ডা হেলথ যৌথভাবে কেনিয়ায় একটি টুল পরীক্ষা করেছে। ১৫টি ক্লিনিকে প্রায় ৪০ হাজার রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, এআই সহায়তা পাওয়া চিকিৎসকেরা নির্ণয়জনিত ভুল ১৬ শতাংশ এবং চিকিৎসাগত ভুল ১৩ শতাংশ কমিয়েছেন। আফ্রিকায় এআই রোগ নির্ণয় ও সেবা বিতরণে সাহায্য করে, যা দরিদ্রদের চিকিৎসা খরচ কমায় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। টোগোর উদাহরণেই দেওয়া যাক, এআই মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে গরীব পরিবারকে প্রতি দু'সপ্তাহে ১০ ডলার সাহায্য পাঠানো হয়েছে। যা করোনাভাইরাস মহামারিতে লাখ লাখ মানুষকে সাহায্য করেছে। ঘানায় ওয়াটারএইড এআই ব্যবহার করে দরিদ্রদের পানি ও স্যানিটেশন সেবা উন্নত করছে, যা দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে সাহায্য করে স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে।

নাইজেরিয়ায় মাইক্রোসফট কোপাইলট ব্যবহার করে ছয় সপ্তাহের প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে দুবার চ্যাটবটের সঙ্গে জ্ঞান আদান-প্রদান করেছে। ফলাফলে তাদের ইংরেজির নম্বর দুই বছরের অতিরিক্ত শিক্ষার সমপরিমাণ উন্নত হয়েছে।
একসময় মোবাইল ফোন দ্রুত ছড়িয়েছিল। নব্বইয়ের দশকে অধিকাংশ আফ্রিকান দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে একটিরও কম ল্যান্ড টেলিফোন লাইন ছিল। তারবিহীন মোবাইল প্রযুক্তিতে সরাসরি যাওয়ায় দুই দশকে এটি আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে সস্তা স্মার্টফোন ও স্থানীয় ভাষাভিত্তিক মডেলের মাধ্যমে এআই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ জন্য তিনটি বড় বাধা দূর করতে হবে: সংযোগ, ব্যবহারকারীর সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
এআই-এর জন্য ইন্টারনেট অপরিহার্য। ২০২৪ সালে ধনী দেশে প্রতি দশ জনের ৯ জন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, দরিদ্র দেশে প্রতি চার জনে একজন। আফ্রিকার ৮৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ব্রডব্যান্ডের আওতায় থাকলেও ডেটার দাম নাগালের বাইরে।

তবে এআই ব্যবহার তুলনামূলক সস্তা। সাধারণ সার্চ পেজ এআইয়ের চেয়ে তিন হাজার গুণ বেশি ডেটা ব্যবহার করে। ২০২৪ সালে চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্ন করার খরচ সাধারণ সার্চের চেয়ে ৯০ শতাংশ কমে এসেছে।
কিন্তু এর জন্য ইন্টারনেট থাকা আবশ্যক। এসএমএসের মাধ্যমে এআই সেবা ব্যয়বহুল, কারণ মোবাইল অপারেটররা বাড়তি দাম নেয়। ডেটা সস্তা না হলে এবং সংযোগ না বাড়লে দরিদ্র জনগোষ্ঠী এআই বিপ্লবের বাইরে থেকে যাবে।
আবার ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও অনেকে এআই কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে জানেন না। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ১০ বছর বয়সী ৭০ শতাংশ শিশু সহজ লেখা পড়তে পারে না। চ্যাটবট খোলা, প্রম্পট লেখা, উত্তর বোঝা তাদের জন্য কঠিন। সঠিক প্রশ্ন করাও এআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির নিকোলাস ওটিস ও তার সহকর্মীরা একটি গবেষণায় দেখেছেন, সফল কেনিয়ান উদ্যোক্তারা এআই ব্যবহার করে ১৫ শতাংশ বেশি লাভ করেছেন, কিন্তু দুর্বল উদ্যোক্তারা সাধারণ পরামর্শ মেনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বুদোন্ডোতে এনটন্ডে দেখেন, অর্ধেক তরুণের স্মার্টফোন আছে এবং তারা এআই নিয়ে পরীক্ষা করে, কিন্তু বেশিরভাগ পড়াশোনা বা কাজের চেয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহার করে।
এছাড়া অধিকাংশ এআই মডেল ইংরেজি ও ধনী দেশের ভাষায় প্রশিক্ষিত। এতে অনেকে আফ্রিকান ভাষাই নেই। ফলে এআই-এর কথা ও ব্যবহারকারীর বোঝার মধ্যে বিশাল ফারাক।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এআই চালানোর ক্ষেত্রে আসল বাধা প্রযুক্তি নয় বরং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। গবেষণা সংস্থা আবদুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশন ল্যাবের ইকবাল ধালিওয়াল বলেন, অতীতে অনেক ‘রূপকথার প্রযুক্তি’ ব্যর্থ হয়েছে কারণ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় ছিল না।
অনলাইন কোর্সগুলো শিক্ষা বিপ্লব আনবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু দরিদ্র দেশে শিক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি। কারণ এটির সঙ্গে স্কুলব্যবস্থার মিল ছিল না। শিক্ষক বা পরীক্ষার কাঠামো ছাড়া কেবল কনটেন্ট দিত। এআইয়ের ক্ষেত্রেও এই অবস্থা হতে পারে
কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির তাহা বারওয়াহওয়ালা ও সহকর্মীরা ভারতের এক রাজ্যে ভুয়া কোম্পানি শনাক্তকারী এআই মডেল নিয়ে গবেষণা করেন। অ্যালগরিদম হাজার হাজার ভুয়া প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করলেও, কর্মকর্তাদের অনীহায় প্রয়োগ ব্যর্থ হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই-এর সাফল্য নির্ভর করবে ব্যক্তিগত সেবা নয়, সমগ্র অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে কি না তার ওপর।
লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকসের ল্যান্ট প্রিচেট বলেন, কোনো দেশ আগে ধনী না হয়ে ব্যাপক শিক্ষা বা স্বাস্থ্য উন্নয়ন অর্জন করেনি। দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নতির জন্য বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি দরকার।
প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা তখনই বাড়ে যখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কাঠামো ও কর্মপ্রণালী নতুনভাবে সাজায়। কারখানায় গ্যাসল্যাম্পের বদলে বৈদ্যুতিক বাতি বসানোর পর পরিবর্তন আসেনি। পুরো উৎপাদনপ্রণালী বিদ্যুৎকেন্দ্রিক পুনর্গঠিত হওয়ার পরই উৎপাদন বেড়েছে।
আমেরিকার ডার্টমাউথ কলেজের দিয়েগো কোমিন ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্টি মেস্টিয়েরি ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় দেখেছেন, পিসি ও ইন্টারনেট দরিদ্র দেশে দ্রুত পৌঁছেছে, কিন্তু ব্যবহার গভীরভাবে হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই এ ক্ষেত্রে আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে। ধনী দেশেও চ্যালেঞ্জ এটি। আমেরিকায় প্রতি দশটি প্রতিষ্ঠানের একটিতে এআই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পথ আরও কঠিন।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিস্ট, ন্যাচার, ফোর্বস