কাজী সাজিদুল হক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার জন্য নিজের দল ছেড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। রাশেদ খান নিজের দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যাওয়ার সময় তার সভাপতি নুরুল হক নুর ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি ভোট করবেন দলীয় প্রতীকে। আর রাশেদ বিএনপির প্রতীকে।
বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে লক্ষ্মীপুর–১ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তার আগের দল গিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের একটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ ছাড়া নিজের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। ফরহাদ নড়াইল-২ ও ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নিজ দল ছেড়ে বা দল বিলুপ্ত করে যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের প্রায় সবারই বক্তব্য একই। বলছেন, ‘কৌশল’ হিসেবে তারা বিএনপির ছায়ায় গেছেন। আর সেই কৌশল হলো, বড় দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া। কারণ, ছোট দলগুলোর জনভিত্তি বিএনপির মতো নয়। আর সংসদ নির্বাচনের পর উচ্চকক্ষ গঠনের সময় বিএনপির অনুপাতও বেশি হবে।
গত অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী আনে। নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে-এমন ধারা যুক্ত করা হয় ওই সংশোধনীতে।
এই সংশোধনী নিয়ে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই সংশোধনীর পক্ষেই কথা বলেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৬ সাল থেকে দলগুলো জোট করে ভোট করছে। কোনো ক্ষেত্রে জোটে থেকে নিজ প্রতীকে নির্বাচন করেছে ছোট দলগুলো। কখনো বড় দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে। তবে আগের সব হিসাব ভেঙে গেছে আরপিও সংশোধনীর পর। এরপরই বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পথ চলা কিছু ছোট দলের নেতাদের মধ্যে বিএনপিতে বিলীন হওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যায়।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অনেকেই ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে। একই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়েও ভোট করেছে জোটভুক্ত অনেকে। বড় দলের প্রতীকে ভোট করলেও সংসদে গিয়ে তারা পরিচিত ছিল নিজ নিজ দলের সংসদ সদস্য হয়ে। যেমন রাশেদ খান মেনন। ওয়ার্কার্স পার্টির এই সভাপতি ভোট করেছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। কিন্তু সংসদে তার পরিচয় ছিল ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য হিসেবে। একইভাবে হাসানুল হক ইনুও নৌকা নিয়ে ভোট করে জাসদের সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে ছিলেন।
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আইনসভায় বসবেন, তাদের দলীয় পরিচয় হবে বিএনপির এমপি। সংসদের পুরো মেয়াদে বিএনপিরই প্রতিনিধিত্ব করতে হবে তাদের।
ভোটে জিতে কেউ যদি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তিনি হয়তো দলে ফিরতে পারবেন; কিন্তু হারাতে হবে সংসদ সদস্য পদ। কারণ সংবিধানে বলা আছে, দল থেকে পদত্যাগ করলে তার এমপি পদ থাকবে না।
একমাত্র উপায় হলো, বিএনপি যদি তাদের বহিষ্কার করে। তবে সেক্ষেত্রেও তারা ছেড়ে আসা দলের পরিচয় ফিরে পাবেন না। তখন তারা পরিচিত হবেন ‘নির্দলীয়’ সংসদ সদস্য হিসেবে। সংসদে এমন নজির রয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু হেনাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, বিষয়টি নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আবু হেনার সদস্য পদ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার। দল থেকে বহিষ্কার হলেও তার সদস্যপদ বাতিল হয়নি।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে নবম জাতীয় সংসদেও একই ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এইচ এম গোলাম রেজাকে তার দল জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল। দশম সংসদে আওয়ামী লীগের লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তবে তার সংসদ সদস্য পদ যায়নি। পরে তিনি পদত্যাগ করেন।
সংবিধানে বলা আছে, দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। দল কাউকে বহিষ্কার করলে কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা নেই।
নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে কিংবা দল বিলুপ্ত করে যারা বিএনপিতে বিলীন হয়েছেন, তারা আদর্শিক কারণে যে যাননি, সেটা সহজেই বোঝা যায়। না হলে অনেক আগেই তারা বিএনপিতে যোগ দিতেন। ভোটের মাঠে নিজের ‘দাম’ ধরে রাখতেই তারা সেটা করেননি। সেই ‘অবদানের’ মূল্য তারা পেয়েছেন ধানের শীষ পেয়ে।
সুতরাং ত্রয়োদশ সংসদ গঠিত হলে অন্য দলের যারা ধানের শীষ বা বড় অন্য কোনো দলের প্রতীক নিয়ে সংসদে বসবেন, তারা সংসদের মেয়াদে নিজ দলের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। যত ছোট দলই হোক তাদের অবশ্যই একটা সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। এই দল বিলীন কিংবা দল ছাড়ার বিষয়টি নিজ নিজ দলের সমর্থকদের কাছে কীভাবে তারা উপস্থাপন করবেন এবং সমর্থকরা কীভাবে নেবে সেটা একান্ত তাদের ব্যাপার।
শুধুমাত্র ভোটে জিততে কিংবা প্রতীকের জন্য দল বদল কতটুকু নৈতিক সে বিষয়েও যেসব প্রশ্ন উঠছে, সেগুলোরও উত্তর দল বা ব্যক্তিকেই দিতে হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার জন্য নিজের দল ছেড়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। রাশেদ খান নিজের দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যাওয়ার সময় তার সভাপতি নুরুল হক নুর ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি ভোট করবেন দলীয় প্রতীকে। আর রাশেদ বিএনপির প্রতীকে।
বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে লক্ষ্মীপুর–১ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তার আগের দল গিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদাও তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের একটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন।
এ ছাড়া নিজের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। ফরহাদ নড়াইল-২ ও ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নিজ দল ছেড়ে বা দল বিলুপ্ত করে যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তাদের প্রায় সবারই বক্তব্য একই। বলছেন, ‘কৌশল’ হিসেবে তারা বিএনপির ছায়ায় গেছেন। আর সেই কৌশল হলো, বড় দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া। কারণ, ছোট দলগুলোর জনভিত্তি বিএনপির মতো নয়। আর সংসদ নির্বাচনের পর উচ্চকক্ষ গঠনের সময় বিএনপির অনুপাতও বেশি হবে।
গত অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী আনে। নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে-এমন ধারা যুক্ত করা হয় ওই সংশোধনীতে।
এই সংশোধনী নিয়ে বিএনপি শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই সংশোধনীর পক্ষেই কথা বলেছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৬ সাল থেকে দলগুলো জোট করে ভোট করছে। কোনো ক্ষেত্রে জোটে থেকে নিজ প্রতীকে নির্বাচন করেছে ছোট দলগুলো। কখনো বড় দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে। তবে আগের সব হিসাব ভেঙে গেছে আরপিও সংশোধনীর পর। এরপরই বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পথ চলা কিছু ছোট দলের নেতাদের মধ্যে বিএনপিতে বিলীন হওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যায়।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অনেকেই ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে। একই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়েও ভোট করেছে জোটভুক্ত অনেকে। বড় দলের প্রতীকে ভোট করলেও সংসদে গিয়ে তারা পরিচিত ছিল নিজ নিজ দলের সংসদ সদস্য হয়ে। যেমন রাশেদ খান মেনন। ওয়ার্কার্স পার্টির এই সভাপতি ভোট করেছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। কিন্তু সংসদে তার পরিচয় ছিল ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য হিসেবে। একইভাবে হাসানুল হক ইনুও নৌকা নিয়ে ভোট করে জাসদের সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে ছিলেন।
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আইনসভায় বসবেন, তাদের দলীয় পরিচয় হবে বিএনপির এমপি। সংসদের পুরো মেয়াদে বিএনপিরই প্রতিনিধিত্ব করতে হবে তাদের।
ভোটে জিতে কেউ যদি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তিনি হয়তো দলে ফিরতে পারবেন; কিন্তু হারাতে হবে সংসদ সদস্য পদ। কারণ সংবিধানে বলা আছে, দল থেকে পদত্যাগ করলে তার এমপি পদ থাকবে না।
একমাত্র উপায় হলো, বিএনপি যদি তাদের বহিষ্কার করে। তবে সেক্ষেত্রেও তারা ছেড়ে আসা দলের পরিচয় ফিরে পাবেন না। তখন তারা পরিচিত হবেন ‘নির্দলীয়’ সংসদ সদস্য হিসেবে। সংসদে এমন নজির রয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু হেনাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, বিষয়টি নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠলে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী আবু হেনার সদস্য পদ রাখার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার। দল থেকে বহিষ্কার হলেও তার সদস্যপদ বাতিল হয়নি।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে নবম জাতীয় সংসদেও একই ঘটনা ঘটে। সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এইচ এম গোলাম রেজাকে তার দল জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল। দশম সংসদে আওয়ামী লীগের লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তবে তার সংসদ সদস্য পদ যায়নি। পরে তিনি পদত্যাগ করেন।
সংবিধানে বলা আছে, দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। দল কাউকে বহিষ্কার করলে কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা নেই।
নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে কিংবা দল বিলুপ্ত করে যারা বিএনপিতে বিলীন হয়েছেন, তারা আদর্শিক কারণে যে যাননি, সেটা সহজেই বোঝা যায়। না হলে অনেক আগেই তারা বিএনপিতে যোগ দিতেন। ভোটের মাঠে নিজের ‘দাম’ ধরে রাখতেই তারা সেটা করেননি। সেই ‘অবদানের’ মূল্য তারা পেয়েছেন ধানের শীষ পেয়ে।
সুতরাং ত্রয়োদশ সংসদ গঠিত হলে অন্য দলের যারা ধানের শীষ বা বড় অন্য কোনো দলের প্রতীক নিয়ে সংসদে বসবেন, তারা সংসদের মেয়াদে নিজ দলের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। যত ছোট দলই হোক তাদের অবশ্যই একটা সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। এই দল বিলীন কিংবা দল ছাড়ার বিষয়টি নিজ নিজ দলের সমর্থকদের কাছে কীভাবে তারা উপস্থাপন করবেন এবং সমর্থকরা কীভাবে নেবে সেটা একান্ত তাদের ব্যাপার।
শুধুমাত্র ভোটে জিততে কিংবা প্রতীকের জন্য দল বদল কতটুকু নৈতিক সে বিষয়েও যেসব প্রশ্ন উঠছে, সেগুলোরও উত্তর দল বা ব্যক্তিকেই দিতে হবে।