
ইংল্যান্ডের হাত থেকে যেভাবে ম্যাচ ছিনিয়ে নিল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা তো মেসিকে ঘিরেই খেলে, কিন্তু ইংল্যান্ড কীভাবে খেলে? হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহ্যামের সেরাটা বের করে আনার জন্য কীভাবে কৌশল সাজান ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল? কেইন আর বেলিংহ্যামও কীভাবে মিলেঝুলে খেলেন? বেলিংহ্যামকে কেন বেশি ভয় পাবে আর্জেন্টিনা? বিশ্লেষণ দেখুন চরচায়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফর্মেশনই বদলানোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। লিওনেল স্কালোনি কী করতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে অনেক কথাই আসছে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কি ফর্মেশন বদলাবে? ৩-৫-২ ছকে গেলে একাদশে কারা থাকতে পারেন, ৪-৪-২-তে খেললে একাদশে কোন কোন পরিবর্তন আসছে? ইংল্যান্ডের একাদশ কেমন হতে পারে?

আর্জেন্টিনা ম্যাচটা হেরে যাওয়ার মিনিট পাঁচেকের দূরত্বে ছিল। সেখান থেকেই এনসো ফের্নান্দেস আর লওতারো মার্তিনেসের দুই গোলে আবারও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে মেসিরা উঠে গেলেন ফাইনালে।

আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ডের ম্যাচ মানে সেখানে বাড়তি মসলা থাকবে, এতটুকু অনুমিতই ছিল। তাই বলে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দল মিলিয়ে গোলপোস্টের দিকে একটা মাত্র শটের বিপরীতে ১৯টা ফাউল হবে, এতটা বোধ হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনারও অনুমানে আসত না!

ছিয়াশির কোয়ার্টার ফাইনালের কথা বারবার এসেছে। আসারই কথা। আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে, সেটাও আবার নকআউট পর্বে, আর সেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনার নন্দিত-নিন্দিত দুই কাণ্ডের স্মৃতিমাখা ম্যাচের কথা আসবে না!

ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা ম্যাচে ছায়া হয়ে থাকে ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’। ১৯৮২ সালের সেই যুদ্ধ আর্জেন্টিনার জন্য অপমান। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ মানেই তাদের কাছে সেই অপমানের প্রতিশোধ। আটলান্টার সেমিতেও ছায়া হয়ে থাকবে সেই ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল–পর্ব শুরু হচ্ছে। এই প্রথম ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল নিয়ে হচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ চার। ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা—সেমির চার দলের মধ্যে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে…

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে ইয়ামালের স্পেন। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে জয়ী দল।

আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে উঠে গেছে, তবে তাদের খেলা মুগ্ধতা ছড়ায়নি। স্কালোনির কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে অনেক। মেসির ওপর আর্জেন্টিনার নির্ভরশীল হওয়া নিয়েও সমালোচনা আছে। এমন অবস্থায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে কি আর্জেন্টিনার ফর্মেশন বদলাতে যাচ্ছেন কোচ স্কালোনি?

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা ম্যাচেই শুরু হয়েছিল দুই দেশের ফুটবল মহারণ। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড কোচ আলফ রামসে তার খেলোয়াড়দের নির্দেশ দেন, আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে কেউ যেন জার্সি বদল না করে! তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে আর্জেন্টাইনদের ‘জানোয়ার’ বলেছিলেন!

আজকের দিনে ফর্মেশন ও ট্যাকটিস ছাড়া ফুটবল খেলা চিন্তাই করা যায় না। আবার কোচরা প্রায়ই বলে থাকেন, আমার একজন ‘নাম্বার এইট’ দরকার কিংবা দরকার ‘নাম্বার নাইন’। আমরা বুঝে ফেলি কোন পজিশনের খেলোয়াড় তার দরকার। কিন্তু কীভাবে? বুঝতে হলে আপনাকে জানতে হবে ফুটবলের আদি ফর্মেশন এবং তখনকার জার্সি নম্বর সম্পর্কে।

মেসি ছাড়া গোল তাদের হয় না, আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে উঠলেও ভালো খেলছে না। কিন্তু এই আর্জেন্টিনাই হেডে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল যে করে ফেলেছে, তা কি জানতেন? উচ্চতায় টুর্নামেন্টের সবচেয়ে খাটো দলগুলোর একটি আর্জেন্টিনা কীভাবে হেডে এই কীর্তি গড়ে ফেলল? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তা কাজে আসবে?

ইংল্যান্ড আর আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়া নিশ্চিত হতেই বারবার ফিরে ফিরে আসছে ছিয়াশি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে ম্যারডোনার হ্যান্ড অব গড আর গোল অব দ্য সেঞ্চুরির স্মৃতিধন্য সেই ম্যাচেরও ২০ বছর আগ থেকেই শুরু হয়েছে ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক লড়াই।

গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তেড়েফুড়ে ফেরাটা যেন এই ইংল্যান্ডের অভ্যেসই। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের অনেকটা সময় ১–০ গোলে পিছিয়ে থাকা ইংলিশরা ম্যাচ জিতেছিল হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে। মায়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও পিছিয়ে পড়ে ২–১ গোলে জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে কেইন–টুখেলের দল।

ফ্রান্স আর স্পেন আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে। আজ রাতে নরওয়েকে হারিয়ে ইংল্যান্ডও সেমিফাইনালে উঠে যেতেই অদ্ভুত এক রেকর্ডের হাতছানি ছিল বিশ্বকাপের সামনে। অবশ্য রেকর্ডটাকে অদ্ভুত না বলে বলা যায়, রেকর্ডটা যে এতদিন হয়নি, এটাই অদ্ভুত।

ফ্রান্স তো রীতিমতো অজেয়! এবারের বিশ্বকাপে আসলে ফ্রান্সকে হারাবে কে? যদিও ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নদের মূল পরীক্ষা এখনো বাকি, এমবাপ্পে, দেম্বেলেদের ফ্রান্সের ব্যাপারে ‘অজেয়’ শব্দটা ব্যবহার করা কিছুটা আগ বাড়িয়ে বলার মতোই, তবুও এখনো পর্যন্ত যে ফ্রান্সকে আমরা দেখছি, সেই ফ্রান্স প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েই এ পর্

মেসির আর্জেন্টিনা নাকি এমবাপ্পের ফ্রান্স? ইয়ামালের স্পেন নাকি কেইনের ইংল্যান্ড? নাকি চমক দেখাবে হালান্ডের নরওয়ে কিংবা মরক্কো, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ডের কেউ? বিশ্বকাপে আর দল বাকি ৮টি, শিরোপার হিসাবের পথে ম্যাচ বাকি ৭টি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতবে কে?

জার্মানি আর নেদারল্যান্ডস বাদ পড়েছে। মেসির আর্জেন্টিনা, নেইমার আর ভিনিসিয়ুসের ব্রাজিল, এমবাপ্পের ফ্রান্স, রোনালদোর পর্তুগাল, ইয়ামালের স্পেন, কেইনের ইংল্যান্ড টিকে আছে। কেউ দাপট দেখিয়ে, কেউ কোনোরকমে শেষ ষোলোতে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত এই দলগুলোর কেউই জিতবে বিশ্বকাপ?

এবারের বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডের ‘সেকেন্ড গেম সিনড্রোম’ থেকেই গেল। ঘানার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দাপুটে জয়ের উচ্ছ্বাস অনেকটাই স্তিমিত।