
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতে আইনজীবী জানান, নিজেকে শারমিন আক্তার পরিচয় দেওয়া ওই নারী আসলে আসামির বোন।

ঘটনার আগের রাতে দুজনের মধ্যে ভিডিও কলে কথোপকথন হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই কথোপকথনের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেন মিমো।

গত ৩০ মার্চ রাতে মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আজ রোববার তদন্ত কর্মকর্তার পৃথক আবেদনের পর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। আদালত মামুনের এক দিনের এবং আফজালের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদেশ ঘোষণার পরপরই আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী এজলাসের ভেতরে হট্টগোল শুরু করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় র্যাব কোয়ার্টারের সামনে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মাসুদ হোসাইন আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বুকে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়।

অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আসামিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে প্রবেশ, ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, বাসায় হামলা, ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট এবং গ্যারেজে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি করেন।

গত ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ মার্চ আদালত প্রথম দফায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার নির্দেশ দেন মামুন খালেদ।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে–খুলনার সন্ত্রাসী সালাউদ্দিনের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার কমপ্লেক্সটির ইলেকট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার কমপ্লেক্সটির ইলেকট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।