নিউইয়র্ক সিটিতে তীব্র দাবদাহে তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পর্যটকরা শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখছেন। তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা ফোয়ারা, ছায়া এবং কুলিং স্টেশনের সাহায্য নিচ্ছেন।

পশ্চিম ইউরোপের ওপর গঠিত একটি ‘হিট ডোম’-এর কারণে এই চরম আবহাওয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা ইউরোপজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

সাহারা মরুভূমি থেকে আসা তীব্র গরম বাতাস ও আফ্রিকান অ্যান্টিসাইক্লোনের প্রভাবে ইউরোপ জুড়ে তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় মিলান, ফ্লোরেন্স ও রোমসহ ইতালির আটটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের শেষার্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া আবহাওয়ার বিশেষ রূপ ‘এল নিনো’ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এটি বিগত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো (বিওএম)।

দেশের সকল বিভাগে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে আসতে পারে চরম বিপর্যয়।

এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে।

গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাড়িতেই এয়ার কন্ডিশনার (এসি) এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তবে এসি ব্যবহার নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে এসি রুমে ঘুমালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ কমে যায়।

শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি হিট এক্সহসশন বা পানিশূন্যতার মতো অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেইসঙ্গে চার বিভাগে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এমন বৃষ্টি আগামী ১৭ মে (রোববার) পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর থেকে তাপমাত্রা বাড়বে এবং ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

প্রতিটি এল নিনো পরিস্থিতিই অনন্য এবং অঞ্চল ও ঋতুভেদে এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন ও পরিবর্তনশীল হতে পারে। তবে এই চক্রটি সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ ও মধ্য আফ্রিকা, ভারত এবং আমাজন রেইনফরেস্টসহ দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে খরা ও প্রচণ্ড তাপ সৃষ্টি করে।

আবারও ফিরছে এল নিনো! ২০২৬-২৭ সালে কতটা উত্তপ্ত হবে পৃথিবী? বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, এ বছরের মে মাস থেকেই ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্য ওলটপালট করে দিতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা একটি সতর্কতাবার্তাও দিয়েছে। তারা বলছে, এই পূর্বাভাস সবসময় সঠিক হয় না। এপ্রিলের পর যখন আরও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাবে, তখন পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।

শহরের সাহেববাজার এলাকায় প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, “ঘরের ভেতরে বা বাইরে কোথাও এখন শান্তি নেই। ফ্যান চালালেও যেন আগুনের বাতাস বের হচ্ছে। গরমে পরিবারের ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সবাই এখন একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছি।”

শহরের সাহেববাজার এলাকায় প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, “ঘরের ভেতরে বা বাইরে কোথাও এখন শান্তি নেই। ফ্যান চালালেও যেন আগুনের বাতাস বের হচ্ছে। গরমে পরিবারের ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সবাই এখন একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছি।”