
ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার গোল্ডেন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনে কানাডা বিরোধীতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এ বন্ধুত্বের আড়ালে চীন তাদের গিলে খাবে চীন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে রাশিয়ার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমেরিকা ও ডেনমার্কের মধ্যে বিদ্যমান এই বিষয়টি তাদের নিজেদেরই সমাধান করা উচিত। তবে এ সময় দ্বীপটিকে নিয়ে দেশ দুটির ঐতিহাসিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই প্রতিবাদে ট্রাম্পের লাল ম্যাগা ক্যাপ নতুন অর্থ পেয়ে হয়ে উঠেছে ব্যঙ্গ ও প্রতিরোধের প্রতীক। একটি টুপি এখন হয়ে উঠেছে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও জাতিগত গর্ব রক্ষার বার্তা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টায় এবার নতুন কৌশল নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমার অবাধ্য হবে, তাদের ওপর কঠোর বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের পর থেকে। ডেনমার্ক এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেও ওয়াশিংটনের চাপ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিসে জরুরি প্রতিরক্ষা বৈঠক ডাকেন মাঁখো।

অন্যদিকে, ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাতে শুরু করেছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। গত বৃহস্পতিবার থেকে জার্মানি ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সৈন্যরা সেখানে পৌঁছাতে শুরু করে।

দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল ন্যাটো জোটের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করবে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। এমনকি ফ্রেডেরিকসেন এই মর্মে সতর্কবাণীও দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড দখল ন্যাটো বিলুপ্তির কারণ হতে পারে।

হোয়াইট হাউসে গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এসব আলোচনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করে, তবে ডেনিশ সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগে গুলি চালাতে এবং পরে প্রশ্ন করতে। এটি ১৯৫২ সালের সেনাবাহিনীর একটি ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ বা যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে, যেখানে বলা আছে যে কোনো আক্রমণকারীকে মোকাবিলা

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান কেবল ডেনমার্কের সঙ্গে নয় পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।

ডেনমার্কের অধীনে থাকা আধা-স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক শক্তির ব্যবহারসহ ‘বিভিন্ন বিকল্প’ নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর এবার নতুন করে গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ডেনমার্কের অধীনে থাকা এই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটি দখলের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একে ‘উদ্ভট কল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প জানান যে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির শাসনব্যবস্থা তদারকি করার ইচ্ছা ওয়াশিংটনের রয়েছে। মার্কিন এই সামরিক অভিযান ডেনমার্কের মনে নতুন করে শঙ্কা জাগিয়েছে যে, ডেনিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকেও হয়তো একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।

ট্রাম্প জানান যে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির শাসনব্যবস্থা তদারকি করার ইচ্ছা ওয়াশিংটনের রয়েছে। মার্কিন এই সামরিক অভিযান ডেনমার্কের মনে নতুন করে শঙ্কা জাগিয়েছে যে, ডেনিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকেও হয়তো একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।