এআইকে এম ড্যাশের সর্বনাশ করতে দেবেন না

জোয়েল স্টেইন
জোয়েল স্টেইন
এআইকে এম ড্যাশের সর্বনাশ করতে দেবেন না
ছবি: পেক্সেলস

আধুনিক বিশ্বে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে এআই। তবে যতি চিহ্ন ব্যবহারের পর থেকেই এই এআই নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে এসব যতি চিহ্নকে এআই দ্বারা লেখা বলে বিবেচিত করা হয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেখককে বিব্রত করে।

কয়েক সপ্তাহ আগে আমার ১৬ বছর বয়সী ছেলে লাজলোকে একজন জানিয়েছে, স্থানীয় এক স্কুল প্রশাসন অভিভাবকদের কাছে পাঠানো ইমেইলে এআই ব্যবহার করেছে। তবে এআইয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল সেই স্কুল।

ইমেইলটিতে চ্যাটজিপিটি দিয়ে লেখার মিল পাওয়া যায়। পাশাপাশি লেখাটি বিরক্তিকর। একজন স্কুল প্রশাসকের লেখা এর চেয়ে আরও ভালো হয়।

আমরা লেখাটি দুটি এআই শনাক্তকরণ টুলের মধ্যে দিলাম। উভয় টুল জানায়, এটি কম্পিউটারে লেখা হওয়ার সম্ভাবনা ০ শতাংশ। আমি জানি না একটি কম্পিউটার কীভাবে বুঝতে পারে? সম্ভবত, এটি অন্য একটি কম্পিউটারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

কেন তাদের সূত্রটি ভেবেছিল যে, এটি এআই দ্বারা লেখা?

চ্যাটজিপিটি
চ্যাটজিপিটি

কারণ ইমেইলটিতে এম ড্যাশ ব্যবহার করা হয়েছিল। এম ড্যাশ হলো হাইফেনের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ একটি যতিচিহ্ন। দীর্ঘ বিরতি বোঝানোর জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।

এআই নিয়ে যারা উপহাস করে, তাদের কাছে বিষয়টি হোটেলের সাদা চাদরের ওপর কালো আলোর মতো হয়ে উঠেছে।

এটি এমন একটি চিহ্ন, যাতে মনে হয় কোনো প্রবন্ধ, চিঠি বা অন্য কোনো লিখিত কাজে এআই দ্বারা লেখা হয়েছে, মানুষের দ্বারা নয়।

হ্যাকার নিউজের এনার্জি১২৩ নামের একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এখন এম ড্যাশ দেখলেই এখন মনে হয়, এটা তো এআই। যদি আপনি চান যে, লোকে ভাবুক আপনার লেখা একটি এআই আউটপুট নয়–তাহলে এই এম ড্যাশ ব্যবহার করবেন না।”

সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার লুক্সজেন সতর্ক করে বলেন, “যদি সবাই এআই ব্যবহার করার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে না চায়, তবে তাদের চ্যাটজিপিটি হাইফেনটি সরিয়ে দেওয়া উচিত।”

গত সপ্তাহে, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে বলেন, “আপনি যখন চ্যাটজিপিটিকে আগেই নির্দেশনা দেন, যাতে লেখায় কোনো এম ড্যাশ না রাখে এবং সে অনুযায়ী লেখাটা পান; তাহলে বেশ লাভবান হয়েছেন বলা যেতে পারে।’’

এম ড্যাশ নিয়ে এই সব উপহাস আমাকে হতাশ করেছে। কারণ আমি একজন পেশাদার লেখক। এম ড্যাশকে আমি ভালোবাসি। চ্যাটজিপিটি আমাকে বলে, আমার লেখায় আমি প্রতি এক হাজার শব্দে ১১ বার এম ড্যাশ ব্যবহার করি।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

অন্যান্য পেশাদার লেখকরাও এটি অনেক বেশি ব্যবহার করেন। সাধারণ মানুষের চেয়ে ৪.৪ গুণ বেশি। এই সংখ্যাগুলো তদন্ত সাপেক্ষ, ভুল হতে পারে। কারণ আমি সেগুলো চ্যাটজিপিটি থেকে পেয়েছি।

তবে আসল কথা হলো, পেশাদারদের কাছে এম ড্যাশ অত্যন্ত প্রিয়।

কেন?

কারণ অন্য যেকোনো যতিচিহ্নের চেয়ে এম ড্যাশ অনেক বেশি মানবিক। এটি এমিলি ডিকিনসনের নিঃশ্বাসের দাগ, ভার্জিনিয়া উলফের চেতনা প্রবাহ, জোয়েল স্টেইনের আত্ম-অহংকারী প্রাসঙ্গিক মন্তব্য সহজেই প্রকাশ করে।

এম ড্যাশ দিক পরিবর্তনের চিহ্ন। যখন হোল্ডেন কলফিল্ড বক্তৃতার সময় তার সহপাঠীরা প্রসঙ্গ থেকে সরে যান, তখন তিনি এম ড্যাশ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি সব সময় মূল বিষয়ে লেগে থাকে তবে আমার ভালো লাগে না। যারা মুখের অভিব্যক্তিতে সেরা নম্বর পেত, তারা সব সময় মূল বিষয়ে লেগে থাকত না।’’

এআই বানানোর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো আপনার লেখার একটি বিশাল অংশ নিজেরা নিয়ে নেয়। এই কারণেই তারা এম ড্যাশ ব্যবহার করে।

এম ড্যাশ নিয়ে ভীতি থাকলেও আমাদের আরও বেশি করে এটি ব্যবহার করা উচিত। কারণ বেশিরভাগ মানুষ তাদের কী–বোর্ডে এটি খুঁজে পায় না এবং এম ড্যাশ কখন ব্যবহার করতে হবে তাও জানে না।

এআইয়ের সামনে এক বালক
এআইয়ের সামনে এক বালক

এটি বন্ধনীর চেয়ে কম কাজে লাগে, কিন্তু কমার চেয়ে বেশি। এর দৈর্ঘ্য একটি ‘এম’-এর সমান, যা এটিকে বিরক্তিকর ও ছোট এন ড্যাশ থেকে আলাদা করে। লেখকদের জন্য এটি পুরুষের চেঞ্জিং রুমের মতো।

আমরা এম ড্যাশ নিয়ে হাসিঠাট্টা করি। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের এম ড্যাশ ব্যবহার করা উচিত। কারণ এআইয়ের আক্রমণের মুখে এটি হলো মানবতার প্রতীক। আমরা চাই এটা সাধারণ মানুষ শিখুক।

(লেখাটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল থেকে নেওয়া)

সম্পর্কিত