Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

অনেক প্রতিবন্ধকতা, ভোট নিয়ে আগ্রহ নেই হিজড়াদের

আব্দুস সবুর

আব্দুস সবুর

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫: ২২
অনেক প্রতিবন্ধকতা, ভোট নিয়ে আগ্রহ নেই হিজড়াদের

এবার ভোট দিতে বাড়িতে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু এখন আর যাওয়ার পরিস্থিতি নাই। কারণ বাড়িতে চাচা, চাচী, ফুপুরাসহ অনেক আত্মীয় স্বজন আসবে। বেশি মানুষ আসলে আমাদের অনেক টিটকারি মারা কথা শুনতে হয়। এসব ভালো লাগে না। ভোট দিতেও যাব না।” বলছিলেন বৃষ্টি হিজড়া (৩৫)।

Advertisement

শুধু তিনি একা নন, সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিবন্ধকতার ফলে অনেক হিজড়া জনগোষ্ঠী নিজেদের এলাকায় ভোট দিতে যাচ্ছে না।

বিজয় সরণি ও গুলিস্তান এলাকায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে। ভোট উৎসবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতা তাদের সেই উৎসবের অংশ হতে দিচ্ছে না।

তারা জানান, নিজেদের এলাকায় ভোট দিতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মানুষের বাজে ব্যবহার ও কথাবার্তা। অনেকে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে খারাপ আচরণের শিকার হয়েছেন। সে কারণেই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহই পাচ্ছেন না তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তাদের দাবি, সমাজে স্বাভাবিকভাবে মূলধারার মানুষদের সঙ্গে বাঁচতে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা চান তারা। এ ছাড়া হিজড়া হিসেবে সব নাগরিক অধিকারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন নীতিমালা চূড়ান্ত করে। সেই অনুসারে, ক্রোমোজোমের ত্রুটি বা জেনেটিক কারণে যে ব্যক্তিদের নারী বা পুরুষ কোনো শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না, তারা হিজড়া। এই নীতিমালার আওতায় সমাজে যারা হিজড়া বলে পরিচিত এবং নিজেকে হিজড়া হিসেবে পরিচয় দিতে যিনি অস্বস্তি বোধ করেন না, তিনিই হিজড়া। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে হিজড়ার সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজার। তবে বেসরকারি সংস্থাদের মতে এই সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি। তবে ২০২৬ সালে নির্বাচন কমিশনের মতে, দেশে হিজড়া ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২২০ জন।

সংখ্যালঘুদের অনিরাপদ রেখে সুষ্ঠু ভোট কীভাবে হবে13th-election-com

নিজের জীবন নিয়ে বৃষ্টি হিজড়া বলেন, “আমার জন্ম বরিশালে। পড়াশোনা ইন্টার পর্যন্ত করেছি। জন্মের পর মাত্র ১২ বছর বয়সে দাদি আমাকে ঢাকায় রেখে যান। তারপর থেকেই গুরুমায়ের কাছে মানুষ হয়েছি। শুরুতে ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় তাদের সঙ্গে ঘুরেছি। এখন বিজয় সরণিতে নিয়মিত টাকা তুলি। এভাবেই চলছে জীবন।”

নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি কিছু ভাবছেন না বৃষ্টি হিজড়া, “আমাদের খুব বেশি কিছু চাওয়ার নাই। তবে আমারা যারা হিজড়া, তারা ভোটার আইডি কার্ডের পরিচয়ে সব নাগরিক সেবা পেতে চাই। আমাদের বিভিন্ন চাকরিতে আগে ৩ শতাংশ কোটা ছিল, সেটা এখন ১ শতাংশ। আগেই চাকরি পাইনি। বর্তমানে সেটা আরো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা যেন সব ধরনের কাজ করতে পারি, কেউ যেন হিজড়া বলে তাড়িয়ে না দেয়, সেটিই চাই।”

হিজড়া জনগোষ্ঠীর কষ্টের কথাও জানালেন বৃষ্টি, “আমাদের সবচেয়ে বড় কষ্ট ঢাকায় থাকার। কারণ আমাদের পরিচয় শুনলে বাড়িওয়ালা ভাড়া দিতে চায় না। আর ভাড়া দিতে চাইলেও অনেক বেশি টাকা চায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য গেলেও লিঙ্গ পরিচয় জানার পর আর সেটি করতে দেয় না।”

ক্রোমোজোমের ত্রুটি বা জেনেটিক কারণে যে ব্যক্তিদের নারী বা পুরুষ কোনো শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না, তারা হিজড়া। ছবি: চরচা
ক্রোমোজোমের ত্রুটি বা জেনেটিক কারণে যে ব্যক্তিদের নারী বা পুরুষ কোনো শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না, তারা হিজড়া। ছবি: চরচা

পরিবারের সঙ্গে থাকাটা খুব মিস করেন। তবে পরিবার ছেড়েছেন পরিবারের খারাপ ব্যবহার সহ্য করতে না পেরেই, “আমরা তো পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চাই। কিন্তু সেটার সুযোগ নেই। পরিবারের লোকজনের ব্যবহারেই বাধ্য হয়ে চলে এসেছি। এখন হিজড়ারাই আমাদের পরিবার-সমাজ, সবকিছুই।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় জন্ম হলেও কয়েক বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন রিনা খান। তার কথা, ‘‘আমরা কি শখে বাড়ি থেকে চলে এসেছি? আর কেউ শখ করে শাড়ি-চুড়ি পরে টাকা চেয়ে বেড়ায় না। বাধ্য হয়ে আমরা এই পথে। অনেক জায়গায় কাজের চেষ্টা করেও হয়নি।’’

নিজের জীবনের গল্পটা রিনা খানের এমনই, ‘‘আমি আরও ৫ বছর আগে মিরপুরের একটা গার্মেন্টেস ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেছিলাম পুরুষ পরিচয়ে। পরে এক সপ্তাহ কাজ না করতেই তারা বুঝতে পারে আমি পুরুষ নই। সেখানে ম্যানেজার কুপ্রস্তাব দেয়। পরে বাধ্য হয়ে কাজ ছেড়ে আসতে হয়েছে। আমি চাই নতুন যে সরকার আসবে, নির্বাচনের পর তারা আমাদের নিয়ে দেশের মানুষের ধারণা বদলানোর কাজ করবে।”

ভোট দিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এবার ভোট দিতে যাব না। কারণ ভোট দিয়ে আর কী হবে? আমাদের নিয়ে কেউ ভাবে না। তবে নতুন সরকার যাতে অন্য মানুষদের মতো হিজড়াদেরও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, চাই সেটাই।’’

মিরপুরের ৬০ ফিটে প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে বাস করছেন বর্ষা। তিনি হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনধারণের বড় একটা সমস্যার কথাই তুলে ধরেছেন, ‘‘ঢাকা আসার পর বাড্ডা এলাকায় উঠেছিলাম। আগের জায়গায় তাদের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সেই জায়গা ছেড়ে এসেছি। তবে ঢাকায় আমাদের প্রধান সংকট হলো বাসা ভাড়া নেওয়া। কেউ থাকতে দিতে চায় না।’’

তিনি নির্বাচিত সরকারের কাছে কর্মসংস্থান চান, ‘‘আমরা চাই হিজড়াদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে সরকার কাজ করবে। আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে চাইলেও সেটা অনেকে গ্রহণ করে না। তাই হিজড়াদের জন্য একটি বড় গার্মেন্টস করে দিলে সেখানে সবাই কাজ করতে পারবে। আবার একসঙ্গে থাকতেও পারবে।”

বিষয়: নির্বাচনজাতীয় নির্বাচনত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোটহিজড়া
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

    আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জুনের মধ্যে পাঁচ ধাপে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রমজানের আগে অন্তত তিন ধাপে

  • তিস্তার রূপ পরিবর্তনে আতঙ্কে চরাঞ্চলের কৃষকরা

    তিস্তার রূপ পরিবর্তনে আতঙ্কে চরাঞ্চলের কৃষকরা

    তিস্তার পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা পাকা ধান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে পানি বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। কৃষি বিভাগ থেকে অবশ্য আগাম জ

  • দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

    চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের এই অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে বাড়বে দক্ষতা, কমবে জাহাজের অবস্থানকাল এবং আয় বাড়বে বন্দরের।

  • বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    রাজধানীর দোকানে দোকানে ঘুরে এলপি গ্যাস পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কোনো দোকানে পাওয়া গেলে তার জন্য গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা। অভিযোগ ছিল, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হয় এলপি গ্যাস। যদিও তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স