Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশেষ প্রতিবেদন

‘যারাই ক্ষমতায় আহে তারাই গণ্ডগোল বাধায়’

আব্দুস সবুর

আব্দুস সবুর

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪৬
‘যারাই ক্ষমতায় আহে তারাই গণ্ডগোল বাধায়’

‘‘নির্বাচন কিরাম হবে সে বিষয়ে প্রশাসনই ভালো জানে। আমার মতে ভালাই হইবো। তারপর কী হইবো, সেটা বলা যাইতেছে না। যারাই ক্ষমতায় আহে, তারাই গণ্ডগোল বাধায়।” রিকশাচালক জামিল মোল্লার কণ্ঠে আশা, নাকি নিরাশা ঠিক বোঝা যায় না।

Advertisement

জামিল মোল্লার সঙ্গে দেখা হয় গত বৃহস্পতিবার কাঁটাবন মোড়ে। নির্বাচন নিয়ে কথা উঠতেই আলাপে আলাপে অনেক কথা উঠে এল। জামিল বললেন, “আমি ঢাকার ভোটার। তাই এলাকায় যাইতেছি না।”

ক্ষমতায় যারা যাবে, বা যারা যায় তাদের নিয়ে তার কণ্ঠে স্পষ্ট সংশয়। কিছুটা বিএনপির দিকে ঝুঁকে থাকা এই ভোটার বললেন, “বর্তমানে মানুষের ইমান-আমান ছোট হইয়া আইচে। এডাই দুনিয়ার হিসাব হইয়া গেছে। আমার ধারণা দেশটা ভালোভাবে চললে সবাই শান্তিমতো থাকতে পারি। যারাই ক্ষমতায় আহে তারাই গন্ডগোল বাধায়। সামনে ভালা হউক এডাই চাই।”

জামিল একা নন। এমন দোলাচলে আছেন রাজধানী ঢাকার পথে বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত শ্রমজীবীদের অনেকেই। তাদের নির্বাচন ভাবনা জানতে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ১০ জন শ্রমজীবীর সঙ্গে কথা বলেছে চরচা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শ্রমজীবী এসব মানুষ জানান, নির্বাচন নিয়ে এক ধরেনর দ্বিধায় রয়েছেন তারা। এদের অনেকে আর্থিক সংকটে গ্রামের বাড়ি যেতে পারছেন না। আর কয়েকজন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নির্বাচনের এক-দুদিন আগে রাজধানী ছেড়ে যাবেন।

১২ তারিখের নির্বাচন ‘পথ দেখাবে’ আরও ৩ নির্বাচনকেEC-Reuters

রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগ শ্রমজীবী মানুষ এসেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। জীবিকার প্রয়োজনে তারা ঢাকায় অবস্থান করলেও ভোটাধিকার প্রয়োগে অনেকে গ্রামের বাড়ি যাবেন বলে জানালেন।

রাজধানীতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে রিকশা চালান আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, “দেশের অবস্থা ভালোই তো। নির্বাচন নিয়ে এখনো সেভাবে গণ্ডগোলের কিছু দেখতেছি না। আমি আগামী সোমবার নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জে যাব। দেশ যে ভালা চালাইতে পারব, সেই ক্ষমতায় আসুক।”

people 2
people 2

আজিজুল হক নামের আরেক রিকশাচালক ভোট দেবেন বলে স্থির সিদ্ধান্তের কথা জানালেন। বললেন, “ভোটার যেহেতু, তাই ভোট দিতে যামু। এহন পর্যন্ত ভোট নিয়ে কোনো ঝামেল দেখতেছি না। কোনো দল চাইলে হইতেও পারে ঝামেলা। আমি নয় বা দশ তারিখে এলাকায় যামু। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আমল দেখছি। এবার জামায়াতের আমল দেখতে চাই।”

ভোলা জেলার বাসিন্দা আনিসুল হক। ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা আনিসুল জানান, ভোট দিতে গ্রামে যাবেন তিনি। তবে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। বললেন, “এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি নাই। আমি চাই দ্যাশ (দেশ) ভালা ও শান্ত থাহুক। কোনো খুন-খারবি ও গুম চাই না। দ্যাশের রাস্তা মুক্ত থাক।”

সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে টাকা ছড়িয়ে ভোটের আগে প্রভাবিত করার এক ধরনের সংস্কৃতি আছে। এ ক্ষেত্রে এমন কোনো বিষয় আছে কি না, জানতে চাইলে আনিসুল বলেন, “নিজের টাকা খরচ কাইরা ভোট দিতে যামু। কারো থেকে টাকা নিতে চাই না।”

রিকশাচালক আজম আলীর চাওয়া পরিষ্কার–দেশ যেন ভালো থাকে। ঢাকায় প্রায় ১৮ বছর ধরে রিকশা চালান তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন তিনি। সে সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, “আমি ১৯৯১ সাল থেকে ভোট দিয়ে আইচি। কিন্তু নির্বাচন ভালো হইচে না। দেশের পরিস্থিতি বহু ভয়াবহ। আগে দেশে যা কাজ হাইছে, তার চার ভাগের এক ভাগ কাজও হয় না। দেশে একটা ভালো সরকার আসুক এবং ভালো করে চলুক এডাই চাই।”

নিজের কোনো দাবি নেই তার। আজম আলীর কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা। তিনি বলেন, “আমাগো কেউ কিছু দিবে না। আমি নিজে সংসার চালাব। খেটেই খাব। দেশে চাঁদাবাজি, গন্ডগোল ও খুন বেশি হইয়া গেছে–এই হলো ঘটনা। এসব না হলেই সবার জন্য ভালা হয়।”

কিশোরগঞ্জ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও রাজধানীর রিকশাচালক সুমন মিয়া এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, “আগে আওয়ামী লীগ নিজেগো মতো নির্বাচন করত।: এখনো একই অবস্থা দাবি করে তিনি বলেন, “সব দল অংশ নিলে ভোট দিতাম। ২০০৮ সালের পর আর ভোট দেই না। আগে আওয়ামী লীগ যা করত, এখন ইউনুস বাহিনী তাই করতেছে। এ জন্য ভোট দিতে যামু না।”

সুমন মিয়া ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন। তারপর থেকে আর দেননি। এবারও দেবেন না বলে স্পষ্ট জানালেন। কারণ হিসেবে বললেন, “কিন্তু পরে এক দল আহে (নির্বাচনে অংশ নেয়), আরেক দল আহে না। তাই আর ভোট দেই না। কারণ, তাগো নিজেগে মধ্যে গণ্ডগোল থাহে। আমি চাই, নির্বাচনে সকল দল থাক, তাইলে ভোট দিমু।”

রিকশাচালকদের মধ্যে কেউ কেউ ভোটে আগ্রহ দেখালেও ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের মধ্যে এমন আগ্রহ কম দেখা গেছে। যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ভোট দিতে নিজ এলাকায় যাবেন না বলে জানালেন। মূল কারণ হিসেবে আর্থিক সংকটের কথা বললেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ভোটের মাঠে ‘লাঙ্গলের’ অবস্থা কী?jatiya party-6

মিরপুর, আজিমপুরসহ রাজধানীর একাধিক জায়গায় ঘুরে পাঁচজন ভ্রাম্যমাণ দোকানির সঙ্গে কথা বলে দেখা গেল, তাদের কেউই ভোট দিতে এলাকায় যেতে আগ্রহী নন।

মিরপুর-১২ এলাকার চা দোকানি আবুল হোসেনের বাড়ি বরিশাল। বললেন, “আমার দ্যাশের বাড়ি বরিশাল। এবার ভোট দিতে যামু না। কিছুদিন ধরে ব্যবসা ভালো চলতেছে না। যা বিক্রি হয়, তা দিয়ে সংসারই ঠিকমতো চলে না, বাড়ি যামু কী দিয়া।”

একই ধরনের অবস্থান জানালেন রফিকুল। আজিমপুর গোরস্তানের পাশে পান-সিগারেটের দোকান চালান তিনি। ভোটে আগ্রহ নেই তার। কেন জানতে চাইতেই বললেন, “দেশে ভোট হোক আর যা হউক, আমাগো কিছুই হয় না। যেডা করি, তাই করতে হয়। ব্যাচা-বিক্রির যা অবস্থা, তা দিয়া বাড়ি যাওয়া যাবে না। সামনে ঈদ আছে। তহন একবাড়ে বাড়ি যামু। বউ, বাচ্চা নিয়ে খাইতেই সব ট্যাকা শেষ হইয়া যায়।”

কথা হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সজীবের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। বললেন, “আওয়ামী লীগের আমলে আমার কোটি টাকার ব্যবসা ছিল। কিন্তু আগুন লাগিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে। পরে কুমিল্লা থেকে রংপুর গিয়ে নতুন করে আবার ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেছি।”

ভোট দেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছোট একটা ব্যবসা করি। ভোট দিতে এলাকায় যাব। নির্বাচন তো সঠিকভাবে হওয়া দরকার। ভালা লোকরে জনগণ ভোট দিয়ে পাস করাক, তাহলেই ভালো। দেশের টাকা চুরি না হলেই উন্নতি হবে। যদি দেশের টাকা কেউ এসে চুরি করে, তাহলে দেশ পিছিয়ে যাবে। অতীতে টাকা বিদেশে গেছে, তাই উন্নতি হয়নি। এখন যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাও টাকা পাচার করলে কোনো উন্নতি হবে না।”

মিরপুর-১২ এলাকায় কথা হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নূর ইসলামের সঙ্গে। স্থিতিশীল পরিস্থিতি চান কাঁচামালের এ ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, “এক বছর ধরেই ব্যবসা ওঠানামা করতেছে। বিভিন্ন সময় নানা সমস্যা হয়। নির্বাচনের পর এসব না হইলেই ভালো। আমরা চাই দেশের পরিবেশ স্বাভাবিক হোক।”

সব মিলিয়ে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের একটাই চাওয়া–ক্ষমতায় যেই আসুক, দেশটা যেন আর অস্থিতিশীল না হয়। একইসঙ্গে তারা নিজেদের সঙ্গে কাউকে পাবেন না বলে এক ধরনের স্থির ধারণা পোষণ করেন। তবুও তাদের আশা–দেশ স্থিতিশীল হলে নিজেদের কাজটা করেই হয়তো একটু ভালো থাকতে পারবেন।

বিষয়: বাংলাদেশনির্বাচনব্যবসায়ীত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোটরাজনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

    বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৮৫ বছরের পুরনো ও জীর্ণ এক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। টানা দুবার নির্বাচিত হয়েছিলেন উপজেলার সেরা প্রধান শিক্ষক। যে প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কোনোদিন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেখানে তিনি ৯৫ শতাংশ পাসের রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু ক্লাস ফাঁকি বন্ধ করা

  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলিয়নে আটকে বাংলাদেশ

    হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, কিংবা এই যে মহাকাশে রোবট পাঠাচ্ছে মানুষ, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ যুদ্ধের যে সরঞ্জাম–এই সবকিছুর মধ্যে একটি বিষয় কিন্তু এক। আর তা হলো সেমিকন্ডাক্টর, যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল জ্বালানি’। এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, জাপানের মতো

  • সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের ব্যান্ডরোল: রাজস্ব আদায়ে খাওয়াচ্ছে ঘোল

    সিগারেটের প্রতিটি প্যাকেটে থাকা ছোট্ট ব্যান্ডরোল শুধু একটি কাগজের ফিতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ের হিসাব। কোন দামের সিগারেট, কত শলাকা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেই উৎপাদনের বিপরীতে কত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আদায় হওয়ার কথা, তা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ব্যান্ডরোল ব্যবস্থা।

  • ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    ৭ ইসলামী দলের ঐক্য কি আদৌ হবে?

    কওমিপন্থী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে ৭ ইসলামী রাজনৈতিক দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এই জোটের বাইরে অন্য কোনো জোটে থাকা যাবে না–এই শর্তে ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা সব দল ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এর বাইরেও আরো কয়েকটি শর্ত নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনার পথ এখনও