Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
২৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> মতামত

নূর হোসেন থেকে জুলাই–আগস্টের বিদ্রোহে গণতন্ত্রের নতুন পাঠ

সহিদুল আলম স্বপন

সহিদুল আলম স্বপন

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ১৮: ৫২
নূর হোসেন থেকে জুলাই–আগস্টের বিদ্রোহে গণতন্ত্রের নতুন পাঠ

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর। ঢাকার জিরো পয়েন্টে এক তরুণ নিজের বুক ও পিঠে লিখেছিলেন দুটি বাক্য—‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ এবং ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। পুলিশের গুলিতে মুহূর্তেই তার জীবন নিভে যায়, কিন্তু সেই মৃত্যুই যেন ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলে।

Advertisement

সেই তরুণ নূর হোসেন—যিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক, এক প্রজন্মের চেতনার নাম।

তখন দেশ সামরিক শাসনের ছায়ায় আচ্ছন্ন। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কথার আড়ালে চলছিল মতপ্রকাশের দমন, সংবাদপত্রে সেন্সর, রাজনীতিতে ভয়। এমন এক সময় নূর হোসেন নিজের শরীরকে বানিয়েছিলেন প্রতিবাদের ক্যানভাস। তার আত্মত্যাগ প্রশ্ন তুলেছিল—আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?

নূর হোসেনের মৃত্যু শুধু এক রাজনৈতিক ঘটনার সমাপ্তি নয়; বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তার রক্তে লেখা সেই আহ্বানই পরিণতি পায় ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে। তিন দশক পর ইতিহাস যেন আবার ফিরে এসেছে নতুন প্রজন্মের মুখে, নতুন পরিপ্রেক্ষিতে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে তরুণেরা আবার নেমে আসে রাজপথে। প্রথমে কোটা সংস্কারের দাবি, পরে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে। আন্দোলন রূপ নেয় সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে। পুলিশের গুলি, গ্রেপ্তার, সহিংসতা—কিছুই তাদের থামাতে পারেনি। এবার লড়াইয়ের মঞ্চ ছিল শুধু রাজপথ নয়, সামাজিক মাধ্যমও। ডিজিটাল প্রজন্ম তাদের ভাষায়, প্রযুক্তির সহায়তায় পুনরায় উচ্চারণ করেছে নূর হোসেনের সেই মূল বাণী—স্বৈরাচার যেভাবেই আসুক, তাকে প্রতিরোধ করতে হবে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্বাসনে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক বাঁক। একসময় যিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন, তিনিই গণআন্দোলনের চাপে ক্ষমতা ছাড়লেন—এ এক ইতিহাসের ব্যঙ্গাত্মক পুনরাবৃত্তি। প্রশ্ন জাগে, গণতন্ত্র কি আমরা কেবল ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতিতে সীমিত করে ফেলেছি?

আজ উন্নয়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি সত্ত্বেও গণতন্ত্রের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নির্বাচন কতটা মুক্ত, বিচারব্যবস্থা কতটা নিরপেক্ষ, সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যদি হয় নাগরিকের অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন, তবে আমরা এখনো সেই আদর্শ থেকে অনেক দূরে।

তবু আশার আলো নিভে যায়নি। ২০২৪ সালের আন্দোলন দেখিয়েছে, নতুন প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে সচেতন, তারা প্রশ্ন করতে জানে, অন্ধ আনুগত্যে বিশ্বাসী নয়। তারা বোঝে—গণতন্ত্র কেবল এক দিনের ভোট নয়, এটি প্রতিদিনের অনুশীলন ও দায়বদ্ধতা।

রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকাও এখন পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। ১৯৮৭ সালের মতো ২০২৪ সালেও পুলিশের গুলিতে তরুণেরা প্রাণ হারিয়েছে। রাষ্ট্র যখন নাগরিকের দিকে অস্ত্র তোলে, তখন গণতন্ত্রের ভিত্তিই কেঁপে ওঠে। রাষ্ট্রের শক্তি ভয় নয়, আস্থা সৃষ্টিতে—আর সেই আস্থা ফিরিয়ে আনার দায় রাষ্ট্রেরই।

নূর হোসেনের আত্মত্যাগ আজও শেখায়—গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম একদিনের নয়। প্রতিটি প্রজন্মকে তার জন্য নতুন করে লড়তে হয়—কখনো রাজপথে, কখনো কলমে, কখনো নীরব প্রতিবাদে।

১৯৮৭ সালের সেই স্লোগান আজও প্রাসঙ্গিক—
“স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক”

আজ, শহীদ নূর হোসেন দিবসে, আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখা দরকার—আমরা কি সত্যিই সেই গণতন্ত্রের যোগ্য হয়ে উঠেছি, যার জন্য এক তরুণ বুক পেতে দিয়েছিলেন?

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

*লেখক সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং কলামিস্ট ও কবি

বিষয়: গণতন্ত্রগণতান্ত্রিক চর্চাবাংলাদেশ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সরকারি সিকিউরিটিজে ঝুঁকছে ব্যাংকগুলো, শঙ্কা কোথায়?

  • ২

    রবি মৌসুমের শুরুতে সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে সংসদীয় কমিটি

  • ৩

    ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

  • ৪

    আইজিপির বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেবে, আশা জামায়াতের

  • ৫

    আইজিপির বক্তব্যে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত: আসক

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।