Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

দুর্গার কাছে প্রার্থনা

নিমাই সরকার

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮: ৪৪
দুর্গার কাছে প্রার্থনা

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা আজ রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) শুরু হলো। এটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

Advertisement

আজ দুর্গাষষ্ঠীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সূচনা। আগামীকাল সোমবার মহাসপ্তমী, মঙ্গলবার মহাষ্টমী, বুধবার মহানবমী এবং বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমী।

দেবী দুর্গার কাছে ভক্তদের চাওয়া আছে অনেক। তাঁরা কল্যাণ কামনা করেন। প্রার্থনা করেন, সব বাধা পেরোনের।

পুরাণমতে রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। তিনি বসন্তে এই পূজার আয়োজন করায় একে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাবনের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কা যাত্রার আগে রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেন। শরৎকালে এই পূজা হয়। তাই এর নাম শারদীয় উৎসব। শরৎকালে উদ্বোধন হয় বলে এই পূজাকে অকাল বোধনও বলা হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শ্বশুরবাড়ি কৈলাস (স্বর্গলোক) থেকে কন্যারূপে দেবী দুর্গা বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আসছেন। এবার দেবী দুর্গা আসছেন গজে (হাতি) করে। বিদায় নেবেন দোলায় (পালকি)।

শাস্ত্র মতে, দেবীর আগমন হাতিতে হলে মর্ত্যলোক সুখ শান্তি আর সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। মানুষের ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই এ বছর দেবীর আগমন অত্যন্ত শুভ। তবে দেবীর গমন দোলায় বলে এর ফল অশুভ। ভয়টা এখানেই। এতে বাড়বে দুর্ভোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভক্তের চাওয়া বেড়ে যায়।

মাতৃরূপে আজ মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাঁই নিচ্ছেন দেবী।

শঙ্খধ্বনি, ধূপের সুঘ্রাণ ঢাক ঢোলের সঙ্গে ভক্তিমন্ত্রে মেতে উঠবে পূজা মণ্ডপগুলো।

প্রতিমা দেখেই একজন সনাতনধর্মীর মনের ভাব প্রকাশিত হয়। তাই মনে এবং প্রতিমায় ভক্ত দেবী দুর্গার পূজা করে থাকেন।

আসুরিক শক্তির বিনাশ আর মানুষের কল্যাণ এবং সমৃদ্ধি লাভের বাসনা ভক্তের। তারা যুগ যুগ ধরে দেবী দুর্গার আরাধনা করে আসছেন। সূত্র হিসেবে কৃত্তিবাস ওঝা নামটি আনা যায়।

কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত থেকে বাংলায় রামায়ণ অনুবাদ করেন। প্রথম সেখানে দুর্গাপূজার উল্লেখ ছিল না। পরবর্তীতে যুক্ত হয় রামের দুর্গাপূজা বিষয়টি। সেই থেকে অব্যাহত এই শারদীয় পূজা।

বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা করা হয়ে থাকে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িষ্যা, আসাম, ঝাড়খণ্ড উদ্‌যাপন করে এই উৎসব। এ ছাড়াও, ৯০টি দেশে প্রবাসীরাও দুর্গাপূজা করে থাকেন।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা শুরুর বিষয়টি চমকপ্রদ। ১১০০ থেকে ১২০০ সাল। সেকালে গভীর জঙ্গল ছিল পুরানো ঢাকায়। সেন বংশের কোনো এক রাজা এরই এক স্থান থেকে দুর্গা সদৃশ একটি মূর্তি পান। সেটা তিনি প্রতিস্থাপন করেন মন্দিরে। ওটাই ঢাকেশ্বরী মন্দির। আর চারপাশে যে জনপদ বা শহর এরই নাম ঢাকা। ঢাকা শব্দের সাথে ঈশ্বরী যুক্ত হয়ে ঢাকেশ্বরী। পূজা শুরুর ইতিহাসটা এই অর্থে এই গল্পের সমান।

তবে এর চেয়েও জাকজমক খবর উত্তরবঙ্গের। ১৬০০ সালের দিকে রাজশাহী জেলার তাহেরপুর থানায় পূজা করেন রাজা কংস নারায়ণ। উৎসবের শেষ নেই।

সেকালে সাধারণত পূজা হতো একক উদ্যোগে। কিন্তু এখন এর বাইরে সম্মিলিতভাবেও অনেক অনেক পূজা হয়ে থাকে। বারো ইয়ার মিলে কোনো পূজার আয়োজন করলে তাকে বারোয়ারি বলা যায়। ইয়ার একটি সংস্কৃত শব্দ। বারো বন্ধুতে নয়, এখন শতজন এক হয়ে করেন বড় পূজার মতো বিশাল যজ্ঞ।

দুর্গা একটি মহাশক্তির পূজা। এই কাঠামোয় উপস্থিত সব দেবতাই মহাঋষিদের প্রতিনিধি। তা ছাড়া, এই সম্মিলনের আছে আলাদা তাৎপর্য।

শিব হচ্ছেন মহেশ্বর। তাঁরই প্রতিনিধি দুর্গা। একইভাবে ব্রহ্মার সরস্বতী এবং বিষ্ণুর লক্ষ্মী। এখানে গণেশ সব কাজের সিদ্ধিদাতা, কার্তিক যোদ্ধার প্রতীক। আছে প্রকৃতির গাছপালার সমন্বয়ে নবপত্রিকা বা কলাবউ। যুক্ত আছে প্রাণিকুল। ওরা পৃথিবীর সন্তান।

এ ছাড়া সংগৃহীত আছে যৌনকর্মীর ঘরের মাটি পর্যন্ত।

অর্থ হচ্ছে, কাউকে বাদ রেখে এই পূজা নয়। উচ্চ থেকে নিচ—সবাইকে নিয়ে। কোনো ঘৃণা নয়, নয় অবহেলা।

দেবলোক এবং প্রাণী প্রকৃতি জগতের সবকিছু নিয়ে মহাশক্তি। তারই অভিষেক, তারই পূজা। সে কারণেই বড় পূজা।

মহিষাসুর বধও এ ক্ষেত্রে প্রতিমার কাঠামোতে স্থান পায়। পুরাণেরই কথা। অসুর শক্তির কাছে পরাভূত দেবতারা স্বর্গলোক ছেড়েছিলেন। এই অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করতে একত্রিত হন তাঁরা। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুর বিনাশী মহাশক্তি। এই-ই দুর্গা। তাঁর রোষে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় আসুরিক দেয়াল।

সনাতনধর্মীরা এমন একটা বিশ্বাস থেকে দেবীর স্মরণাপন্ন হন। তারা অশুভ শক্তির বিনাশ চান। ভক্তরা দেবীর উদ্দেশ্যে প্রণাম করেন। মনে মনে প্রার্থনা করেন, বাঁধ ভেঙে দাও; বাঁধ ভেঙে দাও মা... আ... গো।

*লেখক: প্রকৌশলী , কথাসাহিত্যিক

বিষয়: দুর্গাপূজামুক্ত মতহিন্দু ধর্মাবলম্বীসনাতনধর্মীমুক্ত আলোচনা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    মহাকাশে অস্ত্রের বিস্তার, জিপিএস থেকে ব্যাংকিং—ঝুঁকিতে যে সেবাগুলো

  • ২

    ‘৫ আগস্টের পর মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা পাহারা দিয়েছে দাড়ি-টুপিঅলা লোকগুলো’

  • ৩

    ‘অনুঘটক না থাকলে আমি অভিনয় করতে চাই না’

  • ৪

    ‘আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে বলা হয়- আরে ওরা তো দাওয়াত খাইয়া বেড়াবে’

  • ৫

    ব্রাজিলেও সরকার বদলাতে চায় আমেরিকা?

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।