Advertisement Banner

করপোরেট কর কমানো সম্ভব না: এনবিআর চেয়ারম্যান

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
করপোরেট কর কমানো সম্ভব না: এনবিআর চেয়ারম্যান
আজ বুধবার রাজধানীর এনবিআর সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করে। ছবি: চরচা

আগামী অর্থ বছরের বাজেটে করপোরেট করের হার কমানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তবে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে শুল্ক হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসন এবং রাজস্ব কাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিতে সরকার গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার রাজধানীর এনবিআর সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান।

বৈঠকে ঢাকা চেম্বার আগামী বাজেটের জন্য আয়কর, ভ্যাট এবং শুল্ক সংক্রান্ত মোট ৫৪টি প্রস্তাবনা পেশ করে। সংগঠনটি অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার জোরাল দাবি জানায়।

ডিসিসিআই-এর প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, করপোরেট কর ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, তাই এটি আর কমানোর তেমন কোনো সুযোগ নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, করদাতার ওপর যেন ‘ইফেকটিভ ট্যাক্স রেট’ বা প্রকৃত করের বোঝা না বাড়ে, সেদিকে এনবিআর সতর্ক থাকবে।

যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন তাদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ওপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বছর থেকে করপোরেট করের রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা যাবে এবং কর ফেরত বা রিফান্ড প্রদানের ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ অনলাইন করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন)-এর মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রিফান্ড করার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও সভায় আলোচিত হয়।

ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী রাজস্ব জালের আধুনিকায়নে ‘সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন’ ব্যবস্থার প্রস্তাব করেন, যা এনআইডি, ব্যাংক এবং ইউটিলিটি সার্ভিসের ডেটার সাথে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতা শনাক্ত করবে। এছাড়া ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে ইএফডি মেশিনের পরিবর্তে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তনের প্রস্তাব দেয় ডিসিসিআই।

বাজেট প্রস্তাবনায় ঢাকা চেম্বার বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা এবং চার কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপ করার ওপর জোর দেয়।

সম্পর্কিত