Advertisement Banner

আজ পয়লা বৈশাখ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
আজ পয়লা বৈশাখ
পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রা। ছবি: বাসস

পুরনো অশুভকে বিদায় দিয়ে নতুন শুভ’র প্রত্যাশায় এল পয়লা বৈশাখ। বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির উদযাপনের ভেতর দিয়ে এল নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩।

দুঃখ-বেদনা, গ্লানি, অসুন্দরকে ভুলে বাজবে বর্ষবরণের সুর। রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হবে, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো...।’

রাজধানী ঢাকায় নববর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ শোভাযাত্রার এবারের প্রতিপাদ্য—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। প্রতিবারই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরে আয়োজন করে শোভাযাত্রা।

আশির দশকে সামরিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বানে পয়লা বৈশাখে বের হওয়া শোভাযাত্রা পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য় রূপ নেয়; যা ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা বেশ কিছু বছর ধরে হচ্ছিল। গত বছর শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। এ নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যেই আবারও শোভাযাত্রার নাম বদলে এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করেছে সরকার।

এদিকে নতুন বঙ্গাব্দ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা-সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।”

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।”

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।”

ষাটের দশকে পাকিস্তানির শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ রমনা বটমূলে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দিয়ে ছায়ানট বরাবরের মতো এবারও নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে সুর আর কথায়। ছায়ানটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির, সেখানেই বাঙালির জয়। বিগত বছরের সব প্রতিকূল আবর্জনা দূর করে আমরা হতে চাই আরও মানবমুখী। নতুন বছর বাঙালিকে সে শক্তি জোগাক।” 

পয়লা বৈশাখে ভোর সোয়া ৬টায় ছায়ানটের আয়োজনের সূচনা হবে। এবারের অনুষ্ঠান গাঁথা হয়েছে আটটি সম্মেলক, ১৪টি একক গান ও দুটি পাঠ দিয়ে। এতে অংশ নেবেন প্রায় ২০০ শিল্পী।

সম্পর্কিত