Advertisement Banner

দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের এখতিয়ার আদালতের: তথ্য উপদেষ্টা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের এখতিয়ার আদালতের: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলমান থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

আজ মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না তা সম্পূর্ণ আদালত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ার।

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নিজের অভিমত জানান উপদেষ্টা। খবর বাসসের।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের একান্ত অভিমত উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, তা ক্লিয়ার করে রাখা দরকার। সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে। আইসিটিতে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেই বিচারের ফলে তা নির্ধারিত হবে। তবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।”

দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তবে তারা একটি আইনভঙ্গকারী কাজ করছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বড় কিছু করার সক্ষমতা না থাকলেও, তাদের কাছে প্রচুর অবৈধ টাকা রয়েছে। সেই টাকা খরচ করে তারা যাতে হঠাৎ কোনো নাশকতা বা সহিংসতা ছড়াতে না পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়া জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। তার মানে এই নয় যে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে, সরকার এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে করেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “যেহেতু আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া হবে, তাই সেখানে আইনি কোনো বাধা নেই। অতীতে কেউ আওয়ামী লীগ করলেও, তিনি যদি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত না থাকেন বা তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকে, তবে তিনি ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু কোনো দলীয় ব্যানার, স্লোগান বা দলীয় কর্মসূচি সামনে আনা যাবে না। অপরাধী হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।”

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত