চরচা প্রতিবেদক

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। পরিবারের আশা ছিল, কয়েক মাস পর দেশে ফিরবেন ‘ডক্টর’ পরিচয়ে। কিন্তু সেই স্বপ্ন নির্মম বাস্তবতায় ভেঙে যায়। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে পিএইচডির গাউন নয়, কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে দেশে ফিরলেন বৃষ্টি।
আজ শনিবার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস এলাকার সামনে বৃষ্টির বাবা-মা, ভাই ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে-০২২০ ফ্লাইটে মরদেহটি ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। মরদেহ পাঠানোর সময় মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, তারা দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ মে নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে আনা হয়।
শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃষ্টির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, কনস্যুলার বিভাগের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৃষ্টির নানা আব্দুল আলিম ও মামা আলমগীর হোসেন মোল্লা জানান, মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
স্বজনদের ভাষ্য, বৃষ্টি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবাজ। মাত্র ৯ মাস আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। পিএইচডি সম্পন্ন করতে আর মাত্র এক মাস বাকি ছিল তার। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে কিছু দিতে চেয়েছিলেন বৃষ্টি। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
বৃষ্টির মামা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘মরদেহটি এতটাই বিকৃত ও খণ্ডিত ছিল যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৃষ্টির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহটি পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে গেছে। শরীরের সব অংশও পাওয়া যায়নি। যেটুকু পাওয়া গেছে, সেটুকুই দেশে আনা হয়েছে।”
বৃষ্টির মামা আলমগীর হোসেন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা তো ডক্টর বৃষ্টিকে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ তার মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে এসেছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বিলাপ করতে করতে বলেন, “গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির ডিজাইন করা একটি বাড়ি করেছি। ও দেশে ফিরে সেই বাড়ির উদ্বোধন করবে। এটাই ছিল আমাদের আশা। বাড়ির সামনে একটি নেমপ্লেট থাকবে, সেখানে লেখা থাকবে ‘ডক্টর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি’। সে ডিগ্রি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা মরণোত্তর। মানুষটাই তো আর বেঁচে নেই। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আর যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেই ঘাতকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়। বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও আমরা সেই বিচার প্রত্যাশা করছি।”
জহির উদ্দিন আকন বলেন, “আগামী ১৭ জুলাই বৃষ্টি দেশে ফিরবে। এমন প্রস্তুতি নিয়েই আমরা দিন গুনছিলাম। পরিকল্পনা ছিল, রাত আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে বরণ করে আনবো। কিন্তু সেই মেয়েকেই আজ নিতে আসতে হলো কফিনবন্দি অবস্থায়। জীবিত নয়, মৃত। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারে না।”
বর্তমানে বৃষ্টির পরিবার রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করছে। বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত, মা মোছা. আইভি আক্তারসহ পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। সহপাঠী ও বন্ধুদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত করুণ ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পরিবারের জন্য এটি কতটা মর্মান্তিক, তা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। আজ বৃষ্টির বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
আসাদ আলম সিয়াম আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ওয়াশিংটন দূতাবাস এবং ফ্লোরিডার কনস্যুলেট জেনারেল এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। আমরা আশা করি, বৃষ্টির পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। পরিবারের আশা ছিল, কয়েক মাস পর দেশে ফিরবেন ‘ডক্টর’ পরিচয়ে। কিন্তু সেই স্বপ্ন নির্মম বাস্তবতায় ভেঙে যায়। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে পিএইচডির গাউন নয়, কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে দেশে ফিরলেন বৃষ্টি।
আজ শনিবার সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস এলাকার সামনে বৃষ্টির বাবা-মা, ভাই ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে-০২২০ ফ্লাইটে মরদেহটি ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। মরদেহ পাঠানোর সময় মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, তারা দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত ৪ মে নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে আনা হয়।
শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃষ্টির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, কনস্যুলার বিভাগের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৃষ্টির নানা আব্দুল আলিম ও মামা আলমগীর হোসেন মোল্লা জানান, মাদারীপুরের চরগোবিন্দপুর গ্রামে দাদা-দাদীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
স্বজনদের ভাষ্য, বৃষ্টি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবাজ। মাত্র ৯ মাস আগে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। পিএইচডি সম্পন্ন করতে আর মাত্র এক মাস বাকি ছিল তার। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে শিক্ষকতা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে কিছু দিতে চেয়েছিলেন বৃষ্টি। তবে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
বৃষ্টির মামা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘মরদেহটি এতটাই বিকৃত ও খণ্ডিত ছিল যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৃষ্টির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মরদেহটি পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে গেছে। শরীরের সব অংশও পাওয়া যায়নি। যেটুকু পাওয়া গেছে, সেটুকুই দেশে আনা হয়েছে।”
বৃষ্টির মামা আলমগীর হোসেন মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা তো ডক্টর বৃষ্টিকে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ তার মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে এসেছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই, আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বিলাপ করতে করতে বলেন, “গ্রামের বাড়িতে বৃষ্টির ডিজাইন করা একটি বাড়ি করেছি। ও দেশে ফিরে সেই বাড়ির উদ্বোধন করবে। এটাই ছিল আমাদের আশা। বাড়ির সামনে একটি নেমপ্লেট থাকবে, সেখানে লেখা থাকবে ‘ডক্টর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি’। সে ডিগ্রি পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা মরণোত্তর। মানুষটাই তো আর বেঁচে নেই। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আর যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেই ঘাতকের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়। বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও আমরা সেই বিচার প্রত্যাশা করছি।”
জহির উদ্দিন আকন বলেন, “আগামী ১৭ জুলাই বৃষ্টি দেশে ফিরবে। এমন প্রস্তুতি নিয়েই আমরা দিন গুনছিলাম। পরিকল্পনা ছিল, রাত আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে বরণ করে আনবো। কিন্তু সেই মেয়েকেই আজ নিতে আসতে হলো কফিনবন্দি অবস্থায়। জীবিত নয়, মৃত। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারে না।”
বর্তমানে বৃষ্টির পরিবার রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করছে। বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত, মা মোছা. আইভি আক্তারসহ পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। সহপাঠী ও বন্ধুদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত করুণ ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। পরিবারের জন্য এটি কতটা মর্মান্তিক, তা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। আজ বৃষ্টির বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”
আসাদ আলম সিয়াম আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ওয়াশিংটন দূতাবাস এবং ফ্লোরিডার কনস্যুলেট জেনারেল এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। আমরা আশা করি, বৃষ্টির পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”