বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল: নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল: নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গত বছরে নেপালে ‘জেন জি’ দের বিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি বলেছেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ ছিল অস্বাভাবিক ও পরিকল্পিত। নেপালে এমন কিছু হতে পারে বলে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নেতারা নেপালকে সতর্ক করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এই মন্তব্য করেন নেপালের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত বছর নেপালের সহিংস আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত এবং দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। এই সহিংসতার পরই ওলি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এই বিক্ষোভ ‘জেন জি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ওলি বলেন, “এটা কোনো সাধারণ বা স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল অস্বাভাবিক, আর হঠাৎ করে এমনটা ঘটাও সম্ভব ছিল না। আন্দোলনের সময় এবং পরবর্তীতেও মনে হয়েছে, এটি পরিকল্পিতভাবেই সংগঠিত হয়েছিল।”

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ আগেই নেপালকে সতর্ক করেছিল যে, ওই দুই দেশে যেমন বিক্ষোভ হয়েছিল, তেমন কিছু নেপালেও ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার নেতারা আলোচনা করছিলেন যে এমন কিছু ঘটতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটেছে। এটা ছিল আমাদের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত, মানুষকে আবার দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।”

নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল নয় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী মার্চে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে আমেরিকান অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গ্রেজোন’ ফাঁস হওয়া কিছু নথির বরাতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থা ন্যাশনাল এনডাওমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) নেপালের তরুণদের বিক্ষোভ সংগঠনে প্রশিক্ষণ দিতে কয়েক লাখ ডলার ব্যয় করেছে।

এনইডি আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর-সমর্থিত একটি অলাভজনক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে ‘গণতান্ত্রিক উদ্যোগ’ সমর্থনে অনুদান দেয়।

এনইডির আরেকটি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) বিরুদ্ধেও বাংলাদেশে গোপন কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া এনইডির বিরুদ্ধে ইউক্রেনের রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং রাশিয়াবিরোধী শক্তিগুলোর কাছে কোটি কোটি ডলার পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।

সম্পর্কিত