চরচা ডেস্ক

গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সংবাদপত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোর দর্শক-শ্রোতার সংখ্যায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়। এ সংক্রান্ত গবেষণাটি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার একটি অধ্যায় ছিল ‘টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং রেডিও যেসব কারণে তাদের সংবাদ পাঠক হারাচ্ছে’ । এই অংশটি লিখেছেন প্রখ্যাত সংবাদ গবেষক ড. রিচার্ড ফ্লেচার।
এতে ৪৫টি দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষের ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো—ডিজিটাল যুগে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের যে রূপান্তর ঘটছে, তার চিত্র তুলে ধরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে অফলাইন মাধ্যমগুলো থেকে সংবাদ গ্রহণের হার ডাবল-ডিজিট কমেছে। এমনকি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা অ্যাপগুলোও এখন ব্যবহারকারী ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে সংবাদ বা তথ্যের জন্য মানুষ এখন ব্যাপকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
গবেষণায় সংবাদমাধ্যমের এই পতনকে বুঝতে গবেষকরা দুটি পরিমাপ ব্যবহার করেছেন:
অ্যাডপশন রেট (গ্রহণের হার)
রিটেনশন রেট (ধরে রাখার হার)
এই দুই সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্ধারিত হচ্ছে কোন মাধ্যম কেন দর্শক হারাচ্ছে।
সংবাদপত্র এবং রেডিওর পতনকে বলা হচ্ছে একটি কাঠামোগত পতন। সংবাদপত্রে মূল সমস্যা হলো দুর্বল ‘অ্যাডপশন’ ও দুর্বল ‘রিটেনশন’ উভয়েরই মিশ্রণ। জরিপভুক্ত দেশগুলোতে মাত্র ৪৯ শতাংশ মানুষ একসময় নিয়মিত পত্রিকা পড়েছেন। আর যারা পড়েছেন, তাদের মাত্র ২৭ শতাংশ বর্তমানে এই অভ্যাস ধরে রেখেছেন। তরুণদের (১৮-৩৪ বছর) মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ পত্রিকা থেকে সংবাদ গ্রহণ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন প্রজন্ম রেডিওতে খবর শোনার অভ্যাসটাই তৈরি করছে না। তবে এর ব্যবহারকারী ধরে রাখার ক্ষমতা সংবাদপত্রের চেয়ে সামান্য ভালো (৩৯ শতাংশ)। এই মাধ্যমটি থেকে সংবাদ গ্রহণের হার ৫৩ শতাংশ।
সহজ কথায় সংবাদপত্র ও রেডিওর পাঠক-শ্রোতা কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো, নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ মানুষ তাদের জীবনে কখনোই এই দুটি মাধ্যম নিয়মিত ব্যবহার করেনি। তাদের দর্শক তৈরির সামাজিক চেইনটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
টেলিভিশন এবং অনলাইন সংবাদ ওয়েবসাইট বা অ্যাপের সংকটটি সংবাদপত্র বা রেডিওর চেয়ে একদম আলাদা।
বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন থেকে সংবাদ গ্রহণের হার অত্যন্ত শক্তিশালী—প্রায় ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষই জীবনে কোনো না কোনো সময় নিয়মিত টিভি নিউজ দেখেছেন। এর দর্শক ধরে রাখার হারও ৬৬ শতাংশ, যেটি তুলনামূলক ভালো।
অনলাইন নিউজ সাইট ও অ্যাপের চিত্রটাও টিভির মতোই। এই মাধ্যমগুলো থেকে সংবাদ গ্রহণের হার ৭১ শতাংশ। কিন্তু রিটেনশন দিন দিন কমছে।
সহজ কথায় মানুষ টিভি দেখছে না বা নিউজ অ্যাপ ব্যবহার করছে না। এমন নয় যে তারা এগুলো কখনোই ব্যবহার করেনি। বরং তারা এগুলো ব্যবহার করা শুরু করার পর একপর্যায়ে ছেড়ে দিচ্ছে । বিশেষ করে ১৮-৩৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে টিভি নিউজ ধরে রাখার হার মাত্র ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ, তরুণরা দ্রুত টিভি সংবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
এই ডেটা বিশ্বজুড়ে সংবাদ প্রকাশকদের একটি বড় দোলাচলের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যেহেতু এখনো সংবাদমাধ্যমগুলোর আয়ের সিংহভাগ অফলাইন উৎস থেকে আসে।
তরুণদের আকৃষ্ট করার পেছনে বিপুল শক্তি ও অর্থ খরচ করা, নাকি যারা এখনো সংবাদ পড়ছেন বা দেখছেন তাদের ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া? কারণ ডেটা বলছে, তরুণ প্রজন্মকে জোর করে প্রথাগত সংবাদ পাঠের অভ্যাসে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। বয়স্করা কেবল বয়সের কারণে পত্রিকা পড়েন বা টিভি দেখেন না, বরং তারা এই অভ্যাসগুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। আজকের তরুণরা বড় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের মধ্য দিয়ে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মানুষ যে একটি মাধ্যম ছেড়ে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে, তা সবসময় সত্য নয়। টিভি নিউজ দেখা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের প্রায় ৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখন আর কোনো মাধ্যমেই (প্রিন্ট, রেডিও, পডকাস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া বা এআই চ্যাটবট) খবর দেখেন না।
এটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমের উত্থান-পতন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে মানুষের সংবাদবিমুখ হয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত লক্ষণ।

গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সংবাদপত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোর দর্শক-শ্রোতার সংখ্যায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়। এ সংক্রান্ত গবেষণাটি গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে।
এই গবেষণার একটি অধ্যায় ছিল ‘টেলিভিশন, সংবাদপত্র এবং রেডিও যেসব কারণে তাদের সংবাদ পাঠক হারাচ্ছে’ । এই অংশটি লিখেছেন প্রখ্যাত সংবাদ গবেষক ড. রিচার্ড ফ্লেচার।
এতে ৪৫টি দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষের ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো—ডিজিটাল যুগে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের যে রূপান্তর ঘটছে, তার চিত্র তুলে ধরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে অফলাইন মাধ্যমগুলো থেকে সংবাদ গ্রহণের হার ডাবল-ডিজিট কমেছে। এমনকি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা অ্যাপগুলোও এখন ব্যবহারকারী ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে সংবাদ বা তথ্যের জন্য মানুষ এখন ব্যাপকভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
গবেষণায় সংবাদমাধ্যমের এই পতনকে বুঝতে গবেষকরা দুটি পরিমাপ ব্যবহার করেছেন:
অ্যাডপশন রেট (গ্রহণের হার)
রিটেনশন রেট (ধরে রাখার হার)
এই দুই সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্ধারিত হচ্ছে কোন মাধ্যম কেন দর্শক হারাচ্ছে।
সংবাদপত্র এবং রেডিওর পতনকে বলা হচ্ছে একটি কাঠামোগত পতন। সংবাদপত্রে মূল সমস্যা হলো দুর্বল ‘অ্যাডপশন’ ও দুর্বল ‘রিটেনশন’ উভয়েরই মিশ্রণ। জরিপভুক্ত দেশগুলোতে মাত্র ৪৯ শতাংশ মানুষ একসময় নিয়মিত পত্রিকা পড়েছেন। আর যারা পড়েছেন, তাদের মাত্র ২৭ শতাংশ বর্তমানে এই অভ্যাস ধরে রেখেছেন। তরুণদের (১৮-৩৪ বছর) মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ পত্রিকা থেকে সংবাদ গ্রহণ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন প্রজন্ম রেডিওতে খবর শোনার অভ্যাসটাই তৈরি করছে না। তবে এর ব্যবহারকারী ধরে রাখার ক্ষমতা সংবাদপত্রের চেয়ে সামান্য ভালো (৩৯ শতাংশ)। এই মাধ্যমটি থেকে সংবাদ গ্রহণের হার ৫৩ শতাংশ।
সহজ কথায় সংবাদপত্র ও রেডিওর পাঠক-শ্রোতা কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো, নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ মানুষ তাদের জীবনে কখনোই এই দুটি মাধ্যম নিয়মিত ব্যবহার করেনি। তাদের দর্শক তৈরির সামাজিক চেইনটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
টেলিভিশন এবং অনলাইন সংবাদ ওয়েবসাইট বা অ্যাপের সংকটটি সংবাদপত্র বা রেডিওর চেয়ে একদম আলাদা।
বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন থেকে সংবাদ গ্রহণের হার অত্যন্ত শক্তিশালী—প্রায় ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষই জীবনে কোনো না কোনো সময় নিয়মিত টিভি নিউজ দেখেছেন। এর দর্শক ধরে রাখার হারও ৬৬ শতাংশ, যেটি তুলনামূলক ভালো।
অনলাইন নিউজ সাইট ও অ্যাপের চিত্রটাও টিভির মতোই। এই মাধ্যমগুলো থেকে সংবাদ গ্রহণের হার ৭১ শতাংশ। কিন্তু রিটেনশন দিন দিন কমছে।
সহজ কথায় মানুষ টিভি দেখছে না বা নিউজ অ্যাপ ব্যবহার করছে না। এমন নয় যে তারা এগুলো কখনোই ব্যবহার করেনি। বরং তারা এগুলো ব্যবহার করা শুরু করার পর একপর্যায়ে ছেড়ে দিচ্ছে । বিশেষ করে ১৮-৩৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে টিভি নিউজ ধরে রাখার হার মাত্র ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ, তরুণরা দ্রুত টিভি সংবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
এই ডেটা বিশ্বজুড়ে সংবাদ প্রকাশকদের একটি বড় দোলাচলের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যেহেতু এখনো সংবাদমাধ্যমগুলোর আয়ের সিংহভাগ অফলাইন উৎস থেকে আসে।
তরুণদের আকৃষ্ট করার পেছনে বিপুল শক্তি ও অর্থ খরচ করা, নাকি যারা এখনো সংবাদ পড়ছেন বা দেখছেন তাদের ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া? কারণ ডেটা বলছে, তরুণ প্রজন্মকে জোর করে প্রথাগত সংবাদ পাঠের অভ্যাসে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। বয়স্করা কেবল বয়সের কারণে পত্রিকা পড়েন বা টিভি দেখেন না, বরং তারা এই অভ্যাসগুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। আজকের তরুণরা বড় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের মধ্য দিয়ে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, মানুষ যে একটি মাধ্যম ছেড়ে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমে যুক্ত হচ্ছে, তা সবসময় সত্য নয়। টিভি নিউজ দেখা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের প্রায় ৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখন আর কোনো মাধ্যমেই (প্রিন্ট, রেডিও, পডকাস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া বা এআই চ্যাটবট) খবর দেখেন না।
এটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমের উত্থান-পতন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে মানুষের সংবাদবিমুখ হয়ে ওঠার একটি কাঠামোগত লক্ষণ।