‘ড্রাগ লর্ড এল মেঞ্চোকে’ হত্যার পর মেক্সিকোজুড়ে সহিংসতা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
‘ড্রাগ লর্ড এল মেঞ্চোকে’ হত্যার পর মেক্সিকোজুড়ে সহিংসতা
মেক্সিকোর আধা ডজনেরও বেশি রাজ্যে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বন্দুকধারীরা। ছবি: রয়টার্স

মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির অন্যতম শক্তিশালী এক অপরাধী সংগঠনের প্রধান বা ড্রাগ লর্ড এল মেঞ্চোকে হত্যা করেছে। এরপর দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জালিস্কোসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সময় গতকাল রোববার জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে সৈন্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন এল মেঞ্চো। পরে মেক্সিকো সিটিতে বিমানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মেক্সিকোর ন্যাশনাল ডিফেন্স সেক্রেটারিয়েট জানিয়েছে, এল মেঞ্চো নামে পরিচিত ওই মাদক কারবারির নাম নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়ারা সার্ভান্তেস। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

মেক্সিকোর এই অভিযানের ফলে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। জালিস্কো, কোলিমাসহ আধা ডজনেরও বেশি রাজ্যে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং হাইওয়ে অবরোধ করেছে বন্দুকধারীরা।

জালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাজারায় আগামী ফিফা বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে শহরটিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটল।

এদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “সব রাজ্যের সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। দেশের বড় অংশে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলছে।”

সিনালোয়া কার্টেলের প্রতিষ্ঠাতা জোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান এবং ইসমায়েল জাম্বাদা বর্তমানে আমেরিকান হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পর ওসেগুয়ারা বা এল মেঞ্চো (৫৯) হলেন মেক্সিকোর অন্যতম বড় ড্রাগ লর্ড, যাকে হত্যা করা হলো।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, আমেরিকা দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ওসেগুয়ারার ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’–এর (সিজেএনজি) চার সদস্য নিহত হয়েছে এবং আরও দুইজন মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে মারা গেছে।

এ ছাড়া আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চার ও অন্যান্য অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে সশস্ত্র বাহিনীর তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সিজেএনজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোকেন, হেরোইন, মেথামফেটামিন এবং ফেন্টানাইল পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

ওসেগুয়ারার বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান এমন এক সময়ে পরিচালিত হলো যখন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট শিনবাউমের সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। এমনকি মেক্সিকোতে সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

সম্পর্কিত