Advertisement Banner

পবিত্র হজ আজ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পবিত্র হজ আজ
কাবা শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

আজ পবিত্র হজ। ৯ জিলহজের এই দিনে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে অবস্থান করবেন হজযাত্রীরা। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে— ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’।

গতকাল সোমবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী মিনায় পৌঁছেছেন লাখো হজযাত্রী। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে।

ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে পবিত্র হজ। আর পবিত্র হজের তিনটি ফরজের অন্যতম হচ্ছে আরাফাতের ময়দানে হাজিদের অবস্থান। এটিই হচ্ছে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এ বছর হজে খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে এই খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হচ্ছে।

খুতবা শেষে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন মুসল্লিরা। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফের আশায় বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করবেন তারা।

সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর বা পাথর তারা এই মুজদালিফা থেকেই সংগ্রহ করবেন।

পরদিন (১০ জিলহজ) বুধবার সকালে পুনরায় মিনায় ফিরে হাজিরা ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। প্রথমে বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন।

পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে বিদায়ি তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ইবাদত।

এদিকে সৌদি আরবের সোমবারের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সৌদি আরবের ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ড্রোন ক্যামেরা এবং বিশাল তথ্য বিশ্লেষণব্যবস্থা।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশি হাজিদের জন্য মিনা ও আরাফাতে আলাদা আবাসনব্যবস্থা, সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের নিবিড় তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত