Advertisement Banner

প্রকৌশলীকে ‘চেয়ার ছুঁড়ে মারলেন’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকৌশলীকে ‘চেয়ার ছুঁড়ে মারলেন’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন অর রশিদের ওপর চেয়ার ছুঁড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নম্বর সহ-সভাপতি মিনহাজুল ইসলামের (মিনহাজ সাগর) বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই ছাত্রনেতা।

গতকাল রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। একটি ঠিকাদারি কাজের বিল দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার তদবিরকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে ঠিকাদার সাইফুল মুন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় চব্বিশ হলের প্রভোস্ট কক্ষ ও অজুখানার বৈদ্যুতিক লাইনের কাজ শেষ করেন। ওই কাজের বিল উত্তোলনের বিষয়ে তদবির করতে ঠিকাদারকে সঙ্গে নিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদের কক্ষে যান ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় বিল ছাড়ে বিলম্ব কেন হচ্ছে, এ বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা চান এবং দ্রুত বিল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

জবাবে সহকারী প্রকৌশলী মামুন আর রশিদ জানান, সরকারি বিধি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারেই বিল পরিশোধ করা হবে। এই বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে মিনহাজুল ইসলাম কক্ষে থাকা একটি চেয়ার তুলে সহকারী প্রকৌশলীকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘প্রথমে আমি চেয়ারটি ঠেকিয়ে দিলেও পরে দরজার পাশে থাকা আরেকটি চেয়ার দিয়ে সহকারী প্রকৌশলীকে আঘাত করা হয়।’’

মামুন আর রশীদ বলেন, “ছাত্রদল সহ-সভাপতি মিনহাজ সাগর ঠিকাদারের বিল দ্রুত দেওয়ার জন্য চাপ দেন। আমি তাকে জানাই, বিল নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়াকরণ হবে এবং দপ্তর প্রধানের সঙ্গে কথা বলতে বলি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে চেয়ার ছুঁড়ে মারেন এবং যাওয়ার সময় হুমকিও দেন। ঘটনার পর থেকে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু বিলের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। দ্রুত বিল দেওয়ার অনুরোধ করি। কিন্তু প্রকৌশলী মামুন উল্টো আমার পরিচয় জানতে চান এবং বলেন, ‘আমি কে?’ এতে আমি অপমানবোধ করি এবং কক্ষ থেকে বের হয়ে আসি। চেয়ার ছোড়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

সম্পর্কিত