Advertisement Banner

গবেষণায় নেচার ইনডেক্সে ২০তম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশাল প্রতিনিধি
গবেষণায় নেচার ইনডেক্সে ২০তম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিসালাত রফিক ও আতিকুল হক। ছবি: সংগৃহীত

আবারও বিশ্বখ্যাত ‘নেচার ইনডেক্সে’ স্থান করে নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এবার ২০তম অবস্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দুইটি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে ০.১৫ শেয়ার স্কোর নিয়ে এই সাফল্য পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত বছর যেখানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ২৩তম, সেখানে এবার তিন ধাপ এগিয়ে এসেছে তারা।

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক জার্নালগুলোর এই তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা’ বিভাগের শিক্ষকদের দুটি উচ্চমানের গবেষণাপত্র স্থান পেয়েছে। এর একটি প্রশান্ত মহাসাগরের টেকটোনিক প্লেট এবং অন্যটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির সংকট নিয়ে।

জাপানের ভূকম্পন সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচার কমিউনিকেশনস–এ প্রকাশিত হয়েছে। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বৃহৎ আন্তর্জাতিক গবেষণায় সহ–লেখক হিসেবে যুক্ত আছেন ববির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. আতিকুল হক ফরাজী।

এ বিষয়ে গবেষক আতিকুল হক ফরাজী বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাওয়া কঠিন। অফিস সময়ের অধিকাংশই ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে ব্যয় করতে হয়। ফলে গবেষণায় পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তারপরও আমার ইচ্ছা রয়েছে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়ার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি।”

অন্যদিকে, গত বছরের ৩১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ওয়াটার রিসার্চ–এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম গ্রামীণ এলাকায় ২০০৯ সাল থেকে ব্যবহৃত ‘ম্যানেজড অ্যাকুইফার রিচার্জ’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরের পানি পরিশোধনের পর ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজের রাসায়নিক আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার প্রথম ও সংশ্লিষ্ট লেখক ববির ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মাদ রিসালাত রফিক, যিনি নেদারল্যান্ডসের ডেলফট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে এই কাজটি পরিচালনা করেছিলেন।

রিসালাত রফিক বলেন, “এই ধরনের গবেষণার কাজ করাটা অনেক কঠিন। এখানে যেসব সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়, সেগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। আমরা যে আয়নগুলো নিয়ে কাজ করি, সেখানে ১১টি উপাদান থাকে। প্রতিটির খরচ কমপক্ষে এক হাজার টাকার মতো। তারপরও আমরা গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।”

৩৭টি গবেষণাপত্র ও ৬.৩৯ শেয়ার স্কোর নিয়ে দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। একই সাথে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি গবেষণাপত্র ও ১.০৬ শেয়ার স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।

সম্পর্কিত