Advertisement Banner

আবারও ৯% ছাড়াল মূল্যস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যে চাপ অব্যাহত

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
আবারও ৯% ছাড়াল মূল্যস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যে চাপ অব্যাহত
ফাইল ছবি

দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ওপরে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ অতিক্রম করেছে, যার প্রধান চাপ এসেছে খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে।

টানা কয়েক মাস বেড়ে নির্বাচনের মাস গত ফেব্রুয়ারিতে ৯ শতাংশের ঘরে পৌঁছে মূল্যস্ফীতির হার। এরপর এক মাসের ব্যবধানে মার্চে এসে ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছিল এই হার।

আজ বুধবার প্রকাশিত বিবিএসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে অর্থাৎ মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বলে জানাল বিবিএস।

৯ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার বলতে বোঝায়, গত বছর এপ্রিল মাসে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় মিলেছে, তা চলতি বছরের এপ্রিলে পেতে খরচ করতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৪ পয়সা।

বিবিএসের সর্বশেষ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, মাসভিত্তিক সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতেও চাপ পুরোপুরি কমেনি।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। জ্বালানি মূল্য সমন্বয়, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা—সব মিলিয়ে বাজারে মূল্যচাপ স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

বিবিএস বলছে, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি ও মাছ-মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে বাসাভাড়া, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ বাড়ায় খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও তুলনামূলক উচ্চ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। নীতিসুদ হার বৃদ্ধি এবং বাজারভিত্তিক সুদের হার চালুর মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকা মানে বাস্তব আয় চাপে পড়ছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্ষেত্রে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় ভোক্তা ব্যয় কাঠামোয় চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে সাম্প্রতিক সময় সাবধান করে আসছিলেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করল বিবিএস। সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করা এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা না গেলে মূল্যচাপ দ্রুত কমানো কঠিন হতে পারে।

সম্পর্কিত