বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আগামীকাল থেকে কর্মবিরতি পালন এবং কোনো সুরাহা না হলে তার পরের দিন থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজ। আজ সোমবার ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমসাময়িক সময়ে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এ এতদিন যাবত একাডেমিক কার্যক্রম, ভর্তি, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক জারিকৃত একটি নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক কার্যক্রমে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। উক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পেনশন, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিধিবিধান সংশোধন ও প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ উপাচার্যের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে কেবল অনুমোদিত সংবিধির ভিত্তিতেই পদোন্নতি কার্যকর করা যাবে।
তবে বিবৃতিতে শিক্ষক সমাজ বলছে , এই নির্দেশনার ফলে একটি গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লিখিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উপাচার্যের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন অনুমোদিত কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। যার ফলে শুধু পদোন্নতি নয়, বরং ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম সবকিছুই আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমাজ ঘোষণা দিয়েছে, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘বিধি-সংবিধিহীন’ কোনো একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই বর্তমানে অন্তত ৫টি ব্যাচের পাঠদান চলমান থাকলেও অনেক বিভাগে মাত্র ৩-৪ জন শিক্ষক দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এর মধ্যে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হলেও গত প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
ফলে শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউজিসির নির্ধারিত লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস বা কোর্স গ্রহণ করবেন না।
শিক্ষকরা বলছে, ইউজিসির নির্দেশনার প্রায় দুই মাস আগে ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো.তৌফিক আলম বলেন, “যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন, তাতে ইউজিসির আপত্তি আছে। ইউজিসি বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।”
মো.তৌফিক আলম বলেন, “অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোজন করেছে। যে তিনটি করেনি, তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরা সেটি অভিযোজন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছি। এটা হয়ে গেলে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন। তাছাড়া শিক্ষকদের সাথে আমার মিটিং হয়েছে। মিটিং এর রেজুলেশন হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবো।”
প্রসঙ্গত, পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে আছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। তাদের ভাষ্য, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব সিন্ডিকেটে তোলেননি। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে আগামীকাল থেকে কর্মবিরতি পালন এবং কোনো সুরাহা না হলে তার পরের দিন থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজ। আজ সোমবার ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমসাময়িক সময়ে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এ এতদিন যাবত একাডেমিক কার্যক্রম, ভর্তি, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক জারিকৃত একটি নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক কার্যক্রমে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। উক্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পেনশন, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিধিবিধান সংশোধন ও প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ উপাচার্যের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে কেবল অনুমোদিত সংবিধির ভিত্তিতেই পদোন্নতি কার্যকর করা যাবে।
তবে বিবৃতিতে শিক্ষক সমাজ বলছে , এই নির্দেশনার ফলে একটি গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লিখিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উপাচার্যের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন অনুমোদিত কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। যার ফলে শুধু পদোন্নতি নয়, বরং ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম সবকিছুই আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমাজ ঘোষণা দিয়েছে, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘বিধি-সংবিধিহীন’ কোনো একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই বর্তমানে অন্তত ৫টি ব্যাচের পাঠদান চলমান থাকলেও অনেক বিভাগে মাত্র ৩-৪ জন শিক্ষক দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এর মধ্যে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হলেও গত প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের ভাতা ও সম্মানি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
ফলে শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইউজিসির নির্ধারিত লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস বা কোর্স গ্রহণ করবেন না।
শিক্ষকরা বলছে, ইউজিসির নির্দেশনার প্রায় দুই মাস আগে ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ সম্পন্ন হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো.তৌফিক আলম বলেন, “যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন, তাতে ইউজিসির আপত্তি আছে। ইউজিসি বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।”
মো.তৌফিক আলম বলেন, “অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোজন করেছে। যে তিনটি করেনি, তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরা সেটি অভিযোজন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছি। এটা হয়ে গেলে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন। তাছাড়া শিক্ষকদের সাথে আমার মিটিং হয়েছে। মিটিং এর রেজুলেশন হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবো।”
প্রসঙ্গত, পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে আছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। তাদের ভাষ্য, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব সিন্ডিকেটে তোলেননি। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হয়।