Advertisement Banner

একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পায়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পায়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে বাস ও লঞ্চের প্রভাবশালী মালিক সমিতির নেতৃত্বে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই অভিযোগ তোলেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে আনুপাতিক হারে বাস, লঞ্চ ও অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়া বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি সরকারের কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বা দরকষাকষি বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পায়তারা চালাচ্ছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, “জনস্বার্থের ভাড়া নির্ধারণ কেন লুকোচুরি করা হবে। কেন মিডিয়া থেকে গোপন করা হবে। বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাসে বাসে লঞ্চে লঞ্চে হাতাহাতি মারামারির শিকার হয় যাত্রীরা, লাঞ্চিত হয় যাত্রীরা, কিন্তু এই ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পায়তারার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

এসময় যাত্রী ঠকানোর ১২ কৌশল সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে, আসন জালিয়াতি, ভুয়া ব্যয় বিশ্লেষণ, পুরোনো বাসের অস্বাভাবিক মূল্য, বেতন ও বোনাস জালিয়াতি, রুট ও কিলোমিটার চুরি, ভাড়া নৈরাজ্য ইত্যাদি।

সংগঠনটি অভিযোগ করে জানায়, সড়ক খাতের প্রতিটি সরকারি কমিটি ও মনিটরিং ব্যবস্থায় মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। মন্ত্রীরা সব সময় মালিক বেষ্টিত থাকায় সাধারণ যাত্রীদের কথা বলার কোনো জায়গা নেই। ফলে সড়ক পরিবহন আইন কার্যত মালিকদের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য কমার প্রেক্ষিতে প্রতি ১ টাকায় মাত্র ১ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, প্রতি লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়লে বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে। এর বেশি ভাড়া বাড়ানো হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা অপর্ণা রায় দাস, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সম্পর্কিত