বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া যাবে ডিজিটাল করপোরেট কর-ভ্যাট

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া যাবে ডিজিটাল করপোরেট কর-ভ্যাট
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ছবি: বাসস

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে ডিজিটাল করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে বড় অংকের করপোরেট কর ও ভ্যাট পরিশোধের সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর ভবনে আজ রোববার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, রাজস্ব প্রশাসনকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগোতে হবে।

চেয়ারম্যান জানান, ইতোমধ্যে দুটি সফল রিয়েল-টাইম লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রমাণ করে বড় অঙ্কের অর্থ নিরাপদ ও দক্ষতার সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগ আমাদের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। আমরা চাই সব ধরনের কর পরিশোধই ডিজিটাল হোক, কারণ ডিজিটাল লেনদেনে রিয়েল-টাইম নিষ্পত্তি, নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং ঝুঁকি হ্রাসসহ একাধিক সুবিধা রয়েছে।’

চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত করদাতারা দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা কার্ডের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের কর পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু করপোরেট করের অঙ্ক অনেক বড়-কখনও ১০০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি। ডিজিটাল ওয়ালেট ও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ ধরনের অর্থপ্রদান বড় করদাতাদের জন্য সুবিধাজনক হবে এবং রাজস্ব পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি নগদ, রকেট, সেলফিন ও উপায়সহ সকল লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারীর জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আরও অনেক অপারেটর বড় অংকের কর লেনদেনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো আইনি বাধা নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, নগদ অর্থের ব্যবহার থেকে সরে এলে বড় অঙ্কের টাকা বহনের সঙ্গে জড়িত চুরি, জালিয়াতি ও সহিংস অপরাধের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। যদি অর্থ বহন করার প্রয়োজনই না থাকে, তাহলে এসব ঝুঁকিও আর থাকবে না।

রহমান আরও বলেন, নগদ অর্থ ব্যবহারের একটা বড় অর্থনৈতিক খরচ রয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর টাকা ছাপাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে নগদ লেনদেন কমানো গেলে এই ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান ম্যানুয়াল চালান ও কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ২০১৮ সালে সাত অঙ্কের অর্থনৈতিক কোড চালু করা হলেও এখনো কিছু রাজস্ব পুরোনো চার অঙ্কের কোড ব্যবহার করে জমা দেওয়া হচ্ছে, যা রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং ব্যাহত করছে।

তিনি বলেন, “নতুন ব্যবস্থা চালুর আট বছর পরও পুরোনো কোড ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা নেই।ভ্যাট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপানো কর নয়, বরং ভোক্তাদের কাছ থেকে সরকারের পক্ষে সংগ্রহ করা হয়। ডিজিটালাইজেশন এ দায়িত্বকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভ্যাট কোনো ব্যবসায়ীর ওপর আরোপিত কর নয়, এটি ভোক্তার কাছ থেকে সরকারের পক্ষে আদায় করা হয়। ব্যবসায়ীরা এখানে কর সংগ্রাহকের ভূমিকা পালন করেন, আর ডিজিটালাইজেশন এই দায়িত্বকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে।

কর পরিশোধে পে-অর্ডার ও ক্রসড চেক সম্পূর্ণভাবে বাতিলের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের যুগে এসব মাধ্যম অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ পুরোপুরি ডিজিটাল হলে কর ফাঁকি কমবে, ভুয়া চালান নির্মূল হবে, সুশাসন জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

তিনি আরও বলেন, “সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা করদাতা ও রাষ্ট্র-উভয়ের জন্যই উপকারী একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি।”

সম্পর্কিত