Advertisement Banner

আসছে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ এল নিনো

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আসছে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ এল নিনো
এবার এল নিনোর নতুন ধাপ শুরু হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। তার ওপর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে প্রাকৃতিক আবহাওয়ার চক্র ‘এল নিনো’র নতুন ধাপ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে আসতে পারে চরম বিপর্যয়।

বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, এবার ধেয়ে আসা এল নিনোটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বা একটি ‘সুপার’ এল নিনোতে রূপ নিতে পারে। যদিও এল নিনোর সঠিক সময় এবং তীব্রতা আগে থেকে নিখুঁতভাবে বলা কঠিন। তবুও বিজ্ঞানীরা প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলের পরিস্থিতি দেখে এই শক্তিশালী ইঙ্গিত পাচ্ছেন।

মূলত বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে যখন উষ্ণ পানি ছড়িয়ে পড়ে, তখনই এল নিনো তৈরি হয়। তবে এবারের ঘটনাটি কেন এত বেশি শক্তিশালী হতে পারে, তার মূল কারণ লুকিয়ে আছে সমুদ্রপৃষ্ঠের অনেক গভীরে। স্যাটেলাইট ও সমুদ্রের ভাসমান বয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মহাসাগরের কয়েক শ মিটার গভীরে প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অস্বাভাবিক উষ্ণ পানির একটি বিশাল তরঙ্গ পূর্ব দিকে ধেয়ে আসছে। গভীর সমুদ্রের এই অতিরিক্ত তাপই সাধারণত পরবর্তী সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানিকে গরম করে তোলে, যা পরে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দকে ওলটপালট করে দেয়।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা অ্যাডাম স্কাইফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এনওএএ-এর বিজ্ঞানী মিশেল ল’হেউরেক্সের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পানির নিচের এই তাপমাত্রা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোর আভাস, যা হয়তো সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

সাধারণত একটি শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হয়। এর ফলে খরা এবং দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের মৌসুমি বায়ুকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং আফ্রিকার কিছু অংশে তীব্র খরা ডেকে আনতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে এর কারণে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সম্পর্কিত