
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, “পৃথিবীর মধ্যে ইউরোপই সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।”

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার ঘরে থাকা অবস্থায় মানুষের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষ করে রাজধানী প্যারিস এবং এর আশেপাশের শহর নিয়ে গঠিত ‘ইল-দ্য-ফ্রান্স’ অঞ্চলে এই হার সবচেয়ে বেশি ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এই আইনি লড়াই এমন এক সময়ে চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে, যখন ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ পুরো ইউরোপ তীব্র গরমে পুড়ছে। জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। তীব্র গরমের কারণে আইফেল টাওয়ার ও ল্যুভর জাদুঘরের মতো দর্শনীয় স্থানগুলোর সময়সূচি সীমিত করা হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও পরিবহন ব্যবস্থা।

পশ্চিম ইউরোপের ওপর গঠিত একটি ‘হিট ডোম’-এর কারণে এই চরম আবহাওয়া সৃষ্টি হয়েছে, যা ইউরোপজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বজুড়ে আসতে পারে চরম বিপর্যয়।
তীব্র তাপপ্রবাহ এবং পানির চরম সংকটের কারণে ভারতের রাজধানী দিল্লির সঞ্জয় লেকে শত শত মাছ মারা গেছে। ভারতের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোয় আবহাওয়া দপ্তর সতর্কতা জারি করেছে। মূলত এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট এই চরম আবহাওয়ায় গত কয়েক বছরে দেশটিতে হিটস্ট্রোক ও মৃত

রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশের জেলাগুলোতে ঈদের দিন বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা বেশি। এসব অঞ্চলে ঈদের আগে, পরে এবং ঈদের দিন মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১০ জেলার উপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আরও কয়েকদিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে।

টানা তাপপ্রবাহের পর গত রোববার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুর হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে হয়েছে বজ্রপাত। গত কয়েকদিনে গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

শহরের সাহেববাজার এলাকায় প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, “ঘরের ভেতরে বা বাইরে কোথাও এখন শান্তি নেই। ফ্যান চালালেও যেন আগুনের বাতাস বের হচ্ছে। গরমে পরিবারের ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সবাই এখন একটু বৃষ্টির জন্য হাহাকার করছি।”

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম তাপ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধির শিকার হওয়া জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসে বেশ কয়েকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই চালিয়েছেন দমকল কর্মীরা। বুধবার মেলবোর্নে তাপমাত্রা ছিল ৪০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গরমের সময় বলতে গেলে সারাক্ষণই ঘরে ফ্যান চালাতে হয়। এতে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও বেশি আসে। অনেকেই মনে করেন ফ্যানের গতি কম রাখলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই?

গরমের সময় বলতে গেলে সারাক্ষণই ঘরে ফ্যান চালাতে হয়। এতে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও বেশি আসে। অনেকেই মনে করেন ফ্যানের গতি কম রাখলে বিদ্যুৎ বিল কম আসবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই?