Advertisement Banner

পার্বত্য চট্রগ্রাম ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তথ্যের ভিন্ন উপস্থাপন: সিএইচটিএসপিএফ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্রগ্রাম ইস্যুতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তথ্যের ভিন্ন উপস্থাপন: সিএইচটিএসপিএফ
ছবি: চরচা

পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে বিভিন্ন পক্ষ ভিন্নভাবে তথ্য উপস্থাপন করার কারণে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে এক আলোচনায় উঠে এসেছে।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস স্টুডেন্ট পলিসি ফোরামের (সিএইচটিএসপিএফ) আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যের পাশাপাশি ‘ন্যারেটিভ যুদ্ধ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতেও বিভিন্ন পক্ষ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপাক্ষিক ভাবে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

সিএইচটিএসপিএফের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বলেন বক্তারা।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি উদ্ভূত নানা হুমকি এবং চলমান ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। বিশ্বে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথি বিচারপতি মো. ফারুক বলেন, “পার্বত্য চট্রগ্রামে ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশনের কারণে সেখানে বসবাসরত প্রায় ৫৮ শতাংশ বাঙালি মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শান্তি চুক্তির পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে অনেক নিরীহ বাঙালি ও সেনাবাহিনী আত্মত্যাগ করে। অন্যদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বার্ষিক প্রায় ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির সংস্কৃতি উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

বিচারপতি ফারুক হাসান আরও বলেন, “জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত দেশবিরোধী অপপ্রচার, পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।”

সভায় পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো:

  • জেএসএস, কেএনএফ, ইউপিডিএফের চাঁদাবাজি, হত্যা ও অপহরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা।
  • পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৯০০ সালের আইনকে ‘মৃত আইন’ হিসেবে বলবৎ রাখার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা।
  • একচেটিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি আইন বাতিল করা।
  • আঞ্চলিক পরিষদের ২৮ বছর নির্বাচন না দিয়ে ‘সন্ত্রাসীদের গডফাদার হিসেবে স্বৈরাচারী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা সন্তু লারমাকে অপসারণ’ করে নির্বাচনের আয়োজন করা।
  • পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের মুখপাত্র রিয়াজুল হাসান।

সম্পর্কিত