সহিংসতা বন্ধ না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি জামায়াতের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
সহিংসতা বন্ধ না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি জামায়াতের

নির্বাচনের পর দেশে নানা সহিংসতা চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছে, এসব বন্ধ না হলে রাজপথে নামবে জামায়াত। তিনি বলেন, জামায়াত সংসদে যাবে, পাশাপাশি রাজপথও খোলা থাকবে।

আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বেলা ১২টায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

আযাদ বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। হাতিয়ার ঘটনার মতো উদাহরণ সামনে এসেছে। ২০১৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না—প্রশ্ন উঠেছে। আমার নিজের আসনেও তিনজন নারী আহত হয়েছেন। ৫৪টি জেলার রিপোর্ট আমরা জমা দিয়েছি।’’

রাজপথে থাকার হুঁশিয়ার দিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে— সহিংসতা বন্ধ না হলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব। তবে পার্লামেন্টে আমরা গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। দেশ ও জাতির স্বার্থে কথা বলব। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই। ১৬ ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় কর্মসূচি হবে।’’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘‘শপথের বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শপথ নেব, পার্লামেন্টে যাব, গঠনমূলক ভূমিকা রাখব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।’’

বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে হামিদুর রহমান বলেন, ‘‘সংস্কার প্রসঙ্গে বলেছি— জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি। পিআর সিস্টেম বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেটের পর ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর আর কার্যকারিতা নেই—এ মতও এসেছে।’’

‘বাংলাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তন হয়। একদল আসে, পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হয়—এটাই স্বাভাবিক। তবে এবারের নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি—এমন অভিযোগ আছে বলে উল্লেখ করেন হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘তবুও আমরা আশাবাদী। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। কমিশনকে বলেছি, অভিযোগগুলো তদন্ত করুন। স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সেটাই হবে বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক।’’

সম্পর্কিত