থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে পিকেএসএফ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে পিকেএসএফ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন–১-এ স্বেচ্ছায় রক্তদান ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কর্মসূচির অনুষ্ঠানে। ছবি: পিকেএসএফ এর সৌজন্যে

থ্যালাসেমিয়া রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সারা দেশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন–১-এ স্বেচ্ছায় রক্তদান ও থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

পিকেএসএফ এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. এ. কে. এম. একরামুল হোসেন।

অনুষ্ঠানে জাকির আহমেদ খান বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি ভয়াবহ কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য বংশগত রোগ। রোগটির চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি হওয়ায় প্রতিরোধই একমাত্র কার্যকর সমাধান। নিয়মিত পরীক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাগুলো বর্তমানে দেশের প্রায় সোয়া দুই কোটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্য, আর্থিক সুরক্ষা ও উন্নয়নমূলক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা, বাহক শনাক্তকরণ এবং আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ড. এ. কে. এম. একরামুল হোসেন জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে এবং বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এ রোগের বাহক। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বিবাহ নিবন্ধনের সময় থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন। পরে পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে রক্তদান করেন।

সম্পর্কিত