Advertisement Banner

‘তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, দুই মাস নিশ্চিন্ত’

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে, দুই মাস নিশ্চিন্ত’
ছবি: পিক্সাবে থেকে নেওয়া

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে জ্বালানি বিভাগ। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

মনির হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ হয়নি। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ‘লো-ফিড’ বা তলানি মজুত দিয়ে সীমিত পরিসরে সচল রাখা হয়েছে।

এছাড়া মে মাস পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহেও কোনো ঘাটতি হবে না এবং শিল্পকারখানায় ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারির মোট চারটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে দুটি ইউনিটে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) চলছে এবং বাকি দুটি ইউনিট অপারেশনে রয়েছে। ইআরএল বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল শোধন করে দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ যোগান দেয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মার্চ ও এপ্রিল মাসের নির্ধারিত ৩ লাখ টন ক্রুড ওয়েল আমদানি ব্যহত হয়েছে। এই সংকট কাটাতে সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প সকল উৎস ব্যবহার করছে এবং সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ টন ক্রুড ওয়েল আমদানির কার্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানান, আগামী ২০ মে নাগাদ অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া আরও ১৪ লাখ টন তেল আমদানির অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনের পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) পাওয়া গেছে। নিয়মিত পরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় ইআরএলের এই সীমিত উৎপাদনের কারণে সরবরাহ চ্যানেলে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সরকার সরবরাহ কমাচ্ছে না।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বর্তমানে ডিলারশিপ ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

উল্লেখ্য, মার্চ মাসের একটি জাহাজ বর্তমানে সৌদি আরবের রাসতানুরা বন্দরে অবস্থান করছে এবং অপর একটি কার্গোর ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মাজিউর’ ঘোষণা করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে দ্রুত তেল আনার চেষ্টা করছে এবং মে মাসের শুরুতেই বিকল্প পথে অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। তবে মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, সামগ্রিক মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়, যা দেশের মোট ডিজেল চাহিদার ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পেট্রোল চাহিদার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ পূরণ করে।

সম্পর্কিত