চরচা প্রতিবেদক

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মামলা। অপেক্ষা শেষ হবে ফুটবলপ্রেমীদের। অপেক্ষাটা ফুটবল–উৎসবে মেতে ওঠার। অপেক্ষাটা ‘গ্রেটেস্ট শো অন অর্থের’।
৩২ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবল ফিরছে আমেরিকায়। ৩২ বছর সময়টা নেহাৎ–ই কম নয়। ১৯৯৪ সালে যে শিশুটির জন্ম, সে এখন জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে। ওই সময়টায় যারা স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছিলেন, তারা এখন জীবনের মধ্য গগনে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে কথা উঠেছিল। নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের কোনো বিষয় ছিল না। যেখানে ফুটবলকে ‘ফুটবল’ না বলে ‘সকার’ বলা হয়, সেখানে ফুটবলের বিশ্বকাপ কীভাবে হয়—যুক্তিটা ছিল এমনই। কিন্তু সেই বিশ্বকাপই ইতিহাস গড়েছিল। সেই বিশ্বকাপে গড়ে প্রতিটি ম্যাচে দর্শক হয়েছিল ৬৯ হাজার। পুরো বিশ্বকাপে ছিল ৩.৬ মিলিয়ন দর্শক। যা এখনো রেকর্ড।
সেবারও অনেক ‘নতুন’ দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইনডোর স্টেডিয়ামে ফুটবল হয়েছিল। মানে ছাদঢাকা স্টেডিয়ামে। অংশগ্রহণে আগের দুবারের মতো ২৪ দেশ থাকলেও ফিফা প্রথমবারের মতো সেবারই জয়ের জন্য ৩ পয়েন্টের নিয়ম করেছিল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিষ্পত্তি হয়েছিল টাইব্রেকারে।

সেবার মার্কিনিরা বিশ্বকাপ ফুটবলকে দারুণভাবে বরণ করে নিয়েছিল। সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিল ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছিল। ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিষিদ্ধ ওষুধ খাওয়ার জন্য বহিস্কার করা হয়েছিল। কত ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি গ্রুপ ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করে দেশে ফিরে হত্যার শিকার হয়েছিল কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। খেলা শুরুর আগে ফিফা অ্যান্থেমের সেই সুরমূর্চ্ছণা। ফাইনালে রবার্তো ব্যাজিওর টাইব্রেকার মিস করে মাথা নিচু করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা—নাইন্টিজ কিডসদের স্মৃতিতে অনেক কিছু।
নতুন দিনের বিশ্বকাপ ছিল ১৯৯৪–এর বিশ্বকাপ। ৩২ বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে বিশ্বকাপ। তবে এবার তাদের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে আছে মেক্সিকো ও কানাডা। ১৯৯৪ সালের পর এবারও অনেক কিছুই প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে। এবারের বিশ্বকাপকে ‘নতুন দিনের বিশ্বকাপ’ তো বলা যায়–ই।
এই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ। এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। ১৯৯৪ সালের দুই গুণ।
তিন আয়োজক আর ৪৮ দেশের অংশগ্রহণ ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে অনেক নতুন জিনিসের আবির্ভাব ঘটছে। আসুন দেখে নিই এবারের বিশ্বকাপে নতুন ব্যাপার–স্যাপার গুলোতে…
দর্শক, এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে চতুর্থ রেফারি খেলোয়াড় বদলের সংকেত দেওয়ার ১০ সেকেন্ডের মাথায় বদল হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। ওই সময়ের মধ্যে মাঠ ছাড়তে ব্যর্থ হলে ওই দণলকে ১ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে।

রেফারি যদি মনে করেন কোনো খেলোয়াড় বা থ্রো–ইন বা গোলকিক নেওয়ার সময় ইচ্ছে করে দেরি করছেন, তখন তিনি এক, দুই, তিন, চার এমন করে ৫ সেকেন্ড গোনা শুরু করবেন। ৫ সেকেন্ড পেরিয়ে গেলে থ্রো ইনের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে সেই থ্রো ইন দেওয়া হবে। আর গোলকিকের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে কর্নার দেওয়া হবে।
গোলকিপারের বাইরে কারও ছোটখাট চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁকে অবশ্যই ১ মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়তে হবে।
কোনো সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে গেলে সরাসরি লালকার্ড দেখতে হবে। মাঠের বাইরে থেকে দলকে মাঠ ছাড়তে প্ররোচিত করলেও সেই ব্যক্তিকে লালকার্ড দেওয়া হবে। পুরো দল মাঠ ছেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

দর্শক এবার ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরেও কিছু পরিবর্তন আসছে। কিছু নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে…
অনেক নতুন কিছু এবারের বিশ্বকাপে। তবে এবারের বিশ্বকাপে এমন অনেক কিছুই হচ্ছে, যেসব আগে কখনো দেখা যায়নি। যেমন এবারের বিশ্বকাপ আমেরিকা প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন নীতির খপ্পড়ে পড়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, বিমানবন্দরে হয়রানি করা হচ্ছে—এমনটা আগে কখনো হয়নি। এমন অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিও বিশ্বকাপের সময় আগে কখনো দেখা যায়নি। একই বিশ্বকাপে দুই যুদ্ধরত দেশ খেলছে, এর মধ্যে একটি আবার স্বাগতিক—এমনটাও বিরল। সবচেয়ে বড় কথা এবার বিশ্বকাপটাকে বলা হচ্ছে অনেকটাই ‘বড়লোকের বিশ্বকাপ’। টিকিটের দাম, টাম সব মিলিয়ে—বিশ্বকাপ সাধারণের বাইরেও এর আগে কখনো এমনভাবে যায়নি।
তবুবো বিশ্বকাপ—ফুটবলের মহাযজ্ঞ। বরবার যেটি বলা হয়—গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। একমাসের ফুটবল–উৎসব—এবার সব দিক দিয়েই নতুনত্বে ভরা। নতুন ও পরিবর্তিত এবং জটিল বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারে মানানসই এক বিশ্বকাপ শুরু আজ রাত থেকেই….

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মামলা। অপেক্ষা শেষ হবে ফুটবলপ্রেমীদের। অপেক্ষাটা ফুটবল–উৎসবে মেতে ওঠার। অপেক্ষাটা ‘গ্রেটেস্ট শো অন অর্থের’।
৩২ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবল ফিরছে আমেরিকায়। ৩২ বছর সময়টা নেহাৎ–ই কম নয়। ১৯৯৪ সালে যে শিশুটির জন্ম, সে এখন জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে। ওই সময়টায় যারা স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছিলেন, তারা এখন জীবনের মধ্য গগনে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে কথা উঠেছিল। নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের কোনো বিষয় ছিল না। যেখানে ফুটবলকে ‘ফুটবল’ না বলে ‘সকার’ বলা হয়, সেখানে ফুটবলের বিশ্বকাপ কীভাবে হয়—যুক্তিটা ছিল এমনই। কিন্তু সেই বিশ্বকাপই ইতিহাস গড়েছিল। সেই বিশ্বকাপে গড়ে প্রতিটি ম্যাচে দর্শক হয়েছিল ৬৯ হাজার। পুরো বিশ্বকাপে ছিল ৩.৬ মিলিয়ন দর্শক। যা এখনো রেকর্ড।
সেবারও অনেক ‘নতুন’ দেখেছিল ফুটবল বিশ্ব। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইনডোর স্টেডিয়ামে ফুটবল হয়েছিল। মানে ছাদঢাকা স্টেডিয়ামে। অংশগ্রহণে আগের দুবারের মতো ২৪ দেশ থাকলেও ফিফা প্রথমবারের মতো সেবারই জয়ের জন্য ৩ পয়েন্টের নিয়ম করেছিল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিষ্পত্তি হয়েছিল টাইব্রেকারে।

সেবার মার্কিনিরা বিশ্বকাপ ফুটবলকে দারুণভাবে বরণ করে নিয়েছিল। সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিল ২৪ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছিল। ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে নিষিদ্ধ ওষুধ খাওয়ার জন্য বহিস্কার করা হয়েছিল। কত ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে একটি গ্রুপ ম্যাচে আত্মঘাতী গোল করে দেশে ফিরে হত্যার শিকার হয়েছিল কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। খেলা শুরুর আগে ফিফা অ্যান্থেমের সেই সুরমূর্চ্ছণা। ফাইনালে রবার্তো ব্যাজিওর টাইব্রেকার মিস করে মাথা নিচু করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা—নাইন্টিজ কিডসদের স্মৃতিতে অনেক কিছু।
নতুন দিনের বিশ্বকাপ ছিল ১৯৯৪–এর বিশ্বকাপ। ৩২ বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে বিশ্বকাপ। তবে এবার তাদের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে আছে মেক্সিকো ও কানাডা। ১৯৯৪ সালের পর এবারও অনেক কিছুই প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে। এবারের বিশ্বকাপকে ‘নতুন দিনের বিশ্বকাপ’ তো বলা যায়–ই।
এই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ। এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। ১৯৯৪ সালের দুই গুণ।
তিন আয়োজক আর ৪৮ দেশের অংশগ্রহণ ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে অনেক নতুন জিনিসের আবির্ভাব ঘটছে। আসুন দেখে নিই এবারের বিশ্বকাপে নতুন ব্যাপার–স্যাপার গুলোতে…
দর্শক, এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে চতুর্থ রেফারি খেলোয়াড় বদলের সংকেত দেওয়ার ১০ সেকেন্ডের মাথায় বদল হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। ওই সময়ের মধ্যে মাঠ ছাড়তে ব্যর্থ হলে ওই দণলকে ১ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে।

রেফারি যদি মনে করেন কোনো খেলোয়াড় বা থ্রো–ইন বা গোলকিক নেওয়ার সময় ইচ্ছে করে দেরি করছেন, তখন তিনি এক, দুই, তিন, চার এমন করে ৫ সেকেন্ড গোনা শুরু করবেন। ৫ সেকেন্ড পেরিয়ে গেলে থ্রো ইনের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে সেই থ্রো ইন দেওয়া হবে। আর গোলকিকের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে কর্নার দেওয়া হবে।
গোলকিপারের বাইরে কারও ছোটখাট চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তাঁকে অবশ্যই ১ মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়তে হবে।
কোনো সিদ্ধান্তে প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে গেলে সরাসরি লালকার্ড দেখতে হবে। মাঠের বাইরে থেকে দলকে মাঠ ছাড়তে প্ররোচিত করলেও সেই ব্যক্তিকে লালকার্ড দেওয়া হবে। পুরো দল মাঠ ছেড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিপক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

দর্শক এবার ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরেও কিছু পরিবর্তন আসছে। কিছু নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে…
অনেক নতুন কিছু এবারের বিশ্বকাপে। তবে এবারের বিশ্বকাপে এমন অনেক কিছুই হচ্ছে, যেসব আগে কখনো দেখা যায়নি। যেমন এবারের বিশ্বকাপ আমেরিকা প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন নীতির খপ্পড়ে পড়েছে, অংশগ্রহণকারী দেশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, বিমানবন্দরে হয়রানি করা হচ্ছে—এমনটা আগে কখনো হয়নি। এমন অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিও বিশ্বকাপের সময় আগে কখনো দেখা যায়নি। একই বিশ্বকাপে দুই যুদ্ধরত দেশ খেলছে, এর মধ্যে একটি আবার স্বাগতিক—এমনটাও বিরল। সবচেয়ে বড় কথা এবার বিশ্বকাপটাকে বলা হচ্ছে অনেকটাই ‘বড়লোকের বিশ্বকাপ’। টিকিটের দাম, টাম সব মিলিয়ে—বিশ্বকাপ সাধারণের বাইরেও এর আগে কখনো এমনভাবে যায়নি।
তবুবো বিশ্বকাপ—ফুটবলের মহাযজ্ঞ। বরবার যেটি বলা হয়—গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। একমাসের ফুটবল–উৎসব—এবার সব দিক দিয়েই নতুনত্বে ভরা। নতুন ও পরিবর্তিত এবং জটিল বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে একেবারে মানানসই এক বিশ্বকাপ শুরু আজ রাত থেকেই….