চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের ১৫তম দিনে চট্টগ্রাম শহরে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা অচলাবস্থা দ্রুত নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “১৫ দিন ধরে আন্দোলন করেও প্রশাসন থেকে কোন সাড়া পাইনি। এতদিন ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। আজ বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাস থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এখানে অবস্থান নিয়েছি।”
অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত সমাধান আসবে আশা করে তিনি বলেন, “দ্রুতই আমাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনা হবে।”
মানববন্ধনে বলা হয়, এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দিনের পর দিন অচল থাকা সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা শিক্ষার্থী- কারও স্বার্থে নয়। এই অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটানো এখন প্রশাসনিক প্রয়োজনের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন।
উপাচার্য বদলের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়। ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পর দিন থেকে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করে।