ঢাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের ‘নাম পরিবর্তন’, শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিবাদ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ঢাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের ‘নাম পরিবর্তন’, শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রতিবাদ
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। ছবি: ফেসবুক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। এর মধ্যে অন্যতম নিন্দনীয় হলো বিভিন্ন স্থাপনার নামকরণ ও নাম বদলের সংস্কৃতি। বহু বছর ধরে এই সংস্কৃতি চলে আসলেও, এই সংস্কৃতিকে একটা ‘শিল্পে’ রূপ দিয়েছিল বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ সরকার। সেটা এতটাই যে, বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজে বহু মানুষের অবদান থাকলেও, শুধু শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থে স্থাপনা নির্মাণ একটা প্রতিকারহীন প্রবণতায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এটা ছিল স্পষ্টত দলীয়করণের উর্ধ্বে পারিবারিকীকরণ। এই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছেন খোদ শেখ মুজিবুর রহমান। সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ও এ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার হিসাব করলেও দেখা যাবে, শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন, হল, অনুষদ ভবন, বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সড়ক ও চত্বরের নাম পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বস্তুত, নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের কোনো নীতিমালা বাংলাদেশে না থাকায় এ ধরণের অদ্ভুত কর্মকাণ্ড বছরের পর বছর ঘটেই যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আরও জানায়, রাষ্ট্র ও জনগণের টাকা খরচ করে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় এই নামকরণের সংস্কৃতি স্পষ্টতই বন্ধ হওয়া উচিত বাংলাদেশে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারও নামে স্থাপিত স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতিতেও রাশ টানা প্রয়োজন। কিন্তু, নয়া বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখতে পেলাম, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মরিয়া হয়ে উঠল। যেগুলোর প্রয়োজন ছিল, সেগুলো নিয়ে খুব বেশি সমালোচনার অবকাশ না থাকলেও, এমন অনেক স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে কিংবা করতে উদ্যত হয়েছেন সংশ্লিষ্টজনরা যা অনভিপ্রেত ও অপ্রয়োজনীয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি খড়গ পড়েছে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাগুলোর ওপর। কিন্তু, পাশাপাশি দেখা গেছে, যা কিছু ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে’র নামে স্থাপিত, সেগুলোতেও হাত দেওয়া হয়েছে।

শেখ মুজিবুরের নামে একটি ছাত্রাবাস থাকা কেবল ন্যায্যই নয়, প্রয়োজনীয়ও বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

সম্পর্কিত