খুলনার পূর্ব রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত মামুন মীর (৩০) দীর্ঘ ৩৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। গতকাল সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মামুন মীর রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের নেয়ামত মীরের ছেলে। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, তিনি এলাকার একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে রূপসার নৈহাটি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে থেকে মামুনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম চোখে গুলি করা হয়। প্রথমে তাকে উদ্ধার করে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ ৩৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকলেও তার জ্ঞান ফেরেনি এবং ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ছড়ানোর পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার রাতে মরদেহ গ্রামে আনা হলে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় আল আকসা মসজিদে জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে বাগমারা এলাকার একটি কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার জাহিদ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বা মৃত্যুর পরও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তারা মামলা না করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা করা হবে।
ওসি বলেন, ‘‘মৃত্যুর খবর পেয়ে দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই মরদেহ পুনরায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’’