বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সিইসি বলেন, “বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বীক্রম) পেয়েছেন ৮৮ ভোট। তদ অনুযায়ী আমি ঘোষণা করছি যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন।”
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোটা ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। মুদ্রিত ব্যালট ছিল ৩৪৯টি, কাস্টিং ব্যালট ছিল ৩৪৩টি। অব্যবহৃত ব্যালট ছয়টি, রিপ্লেসড ব্যালট চারটি।”
এর আগে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালে সংসদ সদস্যরা নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিইসি। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদ।
ভোটগ্রহণের শুরুতে বক্তব্য দেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থী, তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম ঘোষণা করেন। সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন তার নিয়ম বলে দেন। ব্যালট পেপারে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করার কথা বলেন। ব্যালট বাক্সে কীভাবে ব্যালট পেপার রাখবেন তা বলে দেন। বিকেল ৫টার পর ভোট গণনা শুরু হবে বলে জানান।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
এদিকে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বঙ্গভবন। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।